“Tremendous injustice”: Sanjay Manjrekar fumes over Auqib Nabi’s snub despite st – আকিব নাবির বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ সঞ্জয় মাঞ্জরেকার: রঞ্জি ট্রফির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন
রঞ্জি ট্রফির পারফরম্যান্স কি তবে গুরুত্বহীন? ক্ষোভ প্রকাশ সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের
ভারতীয় ক্রিকেটের ঘরোয়া মঞ্চ রঞ্জি ট্রফি বরাবরই জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার প্রধান সিঁড়ি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে একের পর এক বিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার আকিব নাবির জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে ক্রীড়া মহলে চলছে জোর চর্চা। প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার এই ঘটনাকে সরাসরি ‘হাস্যকর’ এবং ‘চরম অবিচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আকিব নাবির পরিসংখ্যান এবং অর্জন
আকিব নাবি সাম্প্রতিক রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে এক অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীরকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। গত মৌসুমে ১০ ম্যাচে ৬০টি উইকেট শিকার করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হয়েছিলেন। তার বোলিং গড় ছিল মাত্র ১২.৫৬ এবং সাতবার তিনি ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেয়েছেন।
শুধু গত মৌসুম নয়, তার আগের মৌসুমেও তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। দুই মৌসুম মিলিয়ে ১৮ ম্যাচে তার সংগ্রহ ১০৪টি উইকেট, যেখানে গড় মাত্র ১৩.১৪। এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরেও ভারত ‘এ’ দলে জায়গা না পাওয়াটা সত্যিই বিস্ময়কর।
কেন ক্ষুব্ধ মাঞ্জরেকার?
স্পোর্টস্টারের ‘ইনসাইট এজ’ পডকাস্টে কথা বলার সময় মাঞ্জরেকার বলেন, ‘আমি সেই পুরনো দিনগুলো পছন্দ করতাম যখন কোনো অবিচার হলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসত। এখন সব প্রতিবাদ শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু নাবির এই বাদ পড়াটা আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারছি না।’
মাঞ্জরেকারের মতে, মোহাম্মদ শামি ও মোহাম্মদ সিরাজের অনুপস্থিতিতে যখন নতুন পেসারদের সুযোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল, তখন নাবির মতো পারফর্মারকে উপেক্ষা করা মানে রঞ্জি ট্রফির অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা। তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি রঞ্জি ট্রফির পারফরম্যান্সকে এভাবে উপেক্ষা করা হয়, তবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করার আর মানে কী?’
আইপিএলের ব্যর্থতা কি বড় বাধা?
অনেকের ধারণা, ২০২৬ আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খারাপ পারফরম্যান্স তার জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। আইপিএলে ৫ ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি নাবি এবং তার ইকোনমি রেট ছিল ১১-এর বেশি। তবে মাঞ্জরেকারের মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সকে আইপিএলের ক্ষুদ্র ফরম্যাটের সাথে তুলনা করে বিচার করা ভুল।
দলে অন্যান্য পরিবর্তন
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টের জন্য বিসিসিআই দল ঘোষণা করেছে। এই দলে বড় পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ঋষভ পন্তকে ভাইস-ক্যাপ্টেনির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কেএল রাহুলকে সেই পদে বসানো। ইনজুরি এবং ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে রবীন্দ্র জাদেজা ও মোহাম্মদ শামি এই সিরিজ থেকে বিশ্রাম পেয়েছেন। দলে নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন মানব সুথার, হর্ষ দুবে এবং গুরনূর ব্রার।
উপসংহার
আকিব নাবির মতো একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের এমন অবহেলা ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা নিজেদের প্রমাণ করছেন, তাদের মূল্যায়ন না করা হলে তরুণ ক্রিকেটাররা দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন। ক্রিকেটপ্রেমী এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসিসিআইয়ের উচিত ঘরোয়া পারফরম্যান্সকে উপযুক্ত সম্মান প্রদান করা, যাতে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা সঠিক সময়ে জাতীয় দলে সুযোগ পান।
