Cricket News

আইপিএল ২০২৬: বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডবে লখনউকে হারাল রাজস্থান, প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখল আরআর

Rohit Verma · · 1 min read

জয়পুরের মাঠে ১৫ বছরের বিস্ময় বালকের তাণ্ডব: লখনউকে গুঁড়িয়ে দিল রাজস্থান

আইপিএল ২০২৬-এর ৬৪তম ম্যাচে জয়পুরের সওয়াই মানসিং স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল এক অতিমানবীয় ব্যাটিং পারফরম্যান্সের। রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর bogey তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ৩৮ বলে ৯৩ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে নিলেন। তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১০টি বিশাল ছক্কা এবং ৭টি চার। বৈভবের এই রাজকীয় ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে রাজস্থান রয়্যালস ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে লখনউকে পরাজিত করে এবং আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফের টিকিট পাওয়ার আশা সগর্বে বাঁচিয়ে রাখল। নিয়মিত অধিনায়ক রিয়ান পরাগের চোটের কারণে এই ম্যাচে রাজস্থানকে নেতৃত্ব দেন যশস্বী জয়সওয়াল। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিশের ব্যাটে লখনউয়ের পাহাড়সম সংগ্রহ

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টসের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। অস্ট্রেলিয়ার দুই তারকা ওপেনার মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিশ রাজস্থানের বোলারদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘোরান। পাওয়ার প্লে-র প্রথম ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে লখনউ স্কোরবোর্ডে ৮৩ রান তোলে। এর ফলে রাজস্থান রয়্যালস টানা চতুর্থ ম্যাচে পাওয়ার প্লে-তে কোনো উইকেট নিতে ব্যর্থ হয়।

মিচেল মার্শ মাত্র ২৫ বলে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন। এরপর তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। জশ ইংলিশের সাথে তাঁর ১০৯ রানের উদ্বোধনী জুটি লখনউকে এক বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। ইংলিশ ৬০ রান করে লেগ-স্পিনার যশ রাজ পুঞ্জের বলে বোল্ড হন। পুঞ্জা এই ম্যাচে দারুণ বোলিং করে লখনউয়ের রানের গতি কিছুটা টেনে ধরেন। তিনি বিপজ্জনক নিকোলাস পুরানকেও মাত্র ১৬ রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান।

মিচেল মার্শ তাঁর সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৯৬ রানে তিনি রান আউট হয়ে যান। তাঁর এই ৯৬ রানের ইনিংসে ছিল অসাধারণ কিছু শটের প্রদর্শনী। শেষ ওভারে জোফ্রা আর্চারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণে লখনউ শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান তুলতে পারে এবং ৩টি উইকেট হারায়। অধিনায়ক ঋষভ পন্ত খেলেন ৩৫ রানের একটি দরকারি ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে লখনউ সুপার জায়ান্টস ৫ উইকেটে ২২০ রান সংগ্রহ করে। রাজস্থানের পক্ষে যশ রাজ পুঞ্জা ৩৫ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।

বৈভব সূর্যবংশীর অতিমানবীয় ব্যাটিং ও রেকর্ডের হাতছানি

২২১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দেখেশুনে করেছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। প্রথম ১০ বলে তিনি মাত্র ৫ রান করেন। অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক যশস্বী জয়সওয়াল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন। আকাশ সিংয়ের করা প্রথম ওভারেই জয়সওয়াল চারটি চার মেরে ২৩ রান আদায় করেন। তবে জয়সওয়াল ৪৩ রান করে আকাশ সিংয়ের বলেই আউট হলে ম্যাচের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বৈভব।

একবার উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর বৈভবকে থামানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পরের ২৮ বলে তিনি অবিশ্বাস্য ৮৮ রান তোলেন। আকাশ সিংয়ের নবম ওভারে বৈভব ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মেরে ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেন। তাঁর প্রতিটি শটে ছিল অসীম আত্মবিশ্বাস ও নিখুঁত টাইমিং। এই ইনিংসে ১০টি ছক্কা মারার পর চলতি মরশুমে বৈভবের ছক্কার সংখ্যা দাঁড়াল ৫৩-তে। ক্রিস গেইলের ১৪ বছর আগের গড়া এক আইপিএল মরশুমে ৫৯টি ছক্কা মারার ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করতে বৈভবের প্রয়োজন আর মাত্র ৭টি ছক্কা।

ব্যক্তিগত ৯০ রানের ঘরে রান আউট হওয়া থেকে বেঁচে গেলেও, শেষ পর্যন্ত ১৪তম ওভারে মহসিন খানের বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন বৈভব। তবে আউট হওয়ার আগে তিনি রাজস্থানকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে যান। ম্যাচ শেষে বৈভব বলেন, “আমি সবসময় জানতাম যে আমি যেকোনো সময় বড় শট খেলতে পারি, তাই শুরুতেই তাড়াহুড়ো করতে চাইনি। আমি সংবাদপত্র বা মিডিয়ার খবর পড়ি না। আমি শুধু মনে করি এটা আমার ক্যারিয়ারের শুরু মাত্র। দীর্ঘ পথ চলতে গেলে অনেক কথাই হবে, আমার কাজ শুধু নিজের খেলায় ফোকাস করা।”

ধ্রুব জুরেলের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও জয় নিশ্চিতকরণ

বৈভব আউট হওয়ার পর রাজস্থানের জয়ের ধারা বজায় রাখার কাজ চমৎকারভাবে সম্পন্ন করেন ধ্রুব জুরেল। তিনি ৩৮ বলে ৫৩ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন। জুরেলের ইনিংসে ছিল ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিং ও প্রয়োজন অনুযায়ী বড় শট খেলার দারুণ মিশ্রণ। ১৯.১ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে (২২৫ রান) পৌঁছে যায় রাজস্থান রয়্যালস। ৫ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের দুর্দান্ত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে দল। লখনউয়ের হয়ে মহসিন খান ৩১ রানে ১টি উইকেট নেন।

ম্যাচ জয়ের পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক যশস্বী জয়সওয়াল বলেন, “দলের প্রত্যেকে কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। বৈভব যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তা এককথায় অসাধারণ। ও ম্যাচটা একাই আমাদের দিকে টেনে নিয়েছে। আমরা জানতাম এই পিচে বড় রান তাড়া করা সম্ভব এবং আমাদের সেই বিশ্বাস ছিল।”

আইপিএল ২০২৬ পয়েন্ট টেবিল ও প্লে-অফের সমীকরণ

এই জয়ের ফলে রাজস্থান রয়্যালস পয়েন্ট টেবিলে পাঞ্জাব কিংসকে টপকে ৪ নম্বর স্থানে উঠে এসেছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, গুজরাট টাইটান্স এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ইতিমধ্যেই প্লে-অফে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে। চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফে যেতে হলে রাজস্থান রয়্যালসকে তাদের শেষ লিগ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে হারাতেই হবে। অন্যদিকে, ১৩টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৪টিতে জিতে টেবিলের ১০ নম্বর স্থানে রয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস, যার ফলে তাদের প্লে-অফের আশা শেষ হয়ে গেছে।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

  • রাজস্থান রয়্যালস: ২২৫/৩ (১৯.১ ওভার) – বৈভব সূর্যবংশী ৯৩, ধ্রুব জুরেল ৫৩*, যশস্বী জয়সওয়াল ৪৩; মহসিন খান ১/৩১।
  • লখনউ সুপার জায়ান্টস: ২২০/৫ (২০ ওভার) – মিচেল মার্শ 96, জশ ইংলিশ ৬০, ঋষভ পন্ত ৩৫; যশ রাজ পুঞ্জা ২/৩৫, জোফ্রা আর্চার ১/৩৬।
  • ফলাফল: রাজস্থান রয়্যালস ৭ উইকেটে জয়ী।
  • ম্যান অব দ্য ম্যাচ: বৈভব সূর্যবংশী (৩৮ বলে ৯৩ রান)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

১. গতকালের RR বনাম LSG ম্যাচে কে জিতেছে?

আইপিএল ২০২৬-এর ৬৪তম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস ৭ উইকেটে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে পরাজিত করেছে।

২. গতকালের ম্যাচে কে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হয়েছেন?

৩৮ বলে ৯৩ রানের একটি দুর্দান্ত এবং বিধ্বংসী ইনিংস খেলার জন্য রাজস্থান রয়্যালসের বৈভব সূর্যবংশীকে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত করা হয়েছে।

৩. রাজস্থান রয়্যালসের প্লে-অফে যাওয়ার সমীকরণ কী?

রাজস্থান রয়্যালস যদি তাদের শেষ লিগ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে পরাজিত করতে পারে, তবে তারা সরাসরি আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফ নিশ্চিত করবে।

Avatar photo
Rohit Verma

Rohit Verma delivers detailed match reports, score recaps, and post-game summaries from IPL and ICC events.