বিরাট কোহলি নন, রজত পতিদারের সাফল্যের নেপথ্যে এই প্রাক্তন আরসিবি অধিনায়ক
আইপিএল ২০২৬: আরসিবির সাফল্যের নতুন রূপকার রজত পতিদার
আইপিএল ২০২৬ মরশুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) যেভাবে মাঠ মাতাচ্ছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। গত বছর শিরোপা জয়ের পর এবারও তারা অপ্রতিরোধ্য। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা ইতিমধ্যেই ১০টি ম্যাচে জয়লাভ করে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ১৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আরসিবিকে এখন দ্বিতীয়বার আইপিএল ট্রফি জয়ের প্রধান দাবিদার মনে করা হচ্ছে। আর এই সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন আরসিবির বর্তমান অধিনায়ক রজত পতিদার।
বিরাট কোহলি নয়, ফাফ ডু প্লেসির প্রভাব
স্বাভাবিকভাবেই আরসিবি ড্রেসিংরুমে বিরাট কোহলির উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কিন্তু রজত পতিদার যখন তার নেতৃত্বের দর্শনের কথা বলেন, তখন তিনি অবাক করা এক নাম উচ্চারণ করেন। তিনি জানান, প্রাক্তন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসির নেতৃত্বগুণ তাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।
স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পতিদার বলেন, “অন্য কোনো পূর্বসূরিকে অন্ধভাবে অনুকরণ না করাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ফাফ ডু প্লেসির একটি বিষয় আমাকে মুগ্ধ করেছিল—তিনি যেভাবে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলতেন এবং তাদের গুরুত্ব দিতেন। তার আত্মবিশ্বাস এবং মাঠে তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল দেখার মতো, যা কর্তৃত্বের ছাপ রাখত।”
কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের অবদান
নেতৃত্বের পাশাপাশি ক্রিকেটীয় কৌশল আয়ত্ত করার পেছনে নিজের কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন পতিদার। তিনি বলেন, “চান্দু স্যার আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে একটি ম্যাচের জন্য নিখুঁত প্রস্তুতি নিতে হয়। ২০ বছর খেলোয়াড় হিসেবে এবং পরবর্তী ২০ বছর কোচ হিসেবে কাটানো তার অভিজ্ঞতার রসদ আমার কাছে ছিল চোখ খুলে দেওয়ার মতো। তার কৌশলগত দক্ষতা আমাকে নতুন করে ক্রিকেট বুঝতে শিখিয়েছে।”
ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনার জবাব
নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও রজত পতিদার আরসিবির অন্যতম ভরসা। তার ব্যাটিং শৈলী নিয়ে অনেকে নানা কথা বললেও তিনি অবিচল। তিনি জানান, “ছোটবেলায় আমার ব্যাটিং ছিল মূলত মাল্টি-ডে ফরম্যাটের আদলে, তবে টি-২০ ফরম্যাটেও আমার স্ট্রাইক রেট বরাবরই ভালো ছিল। আমি এখন বিভিন্ন ফরম্যাটে কীভাবে ব্যাট করতে হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছি। আমি আমার টি-২০ গেম নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছি। মানুষ হয়তো মনে করে আমি স্পিন ভালো খেলি, কিন্তু সত্যি বলতে, পেস বোলিংয়ের মোকাবিলা করাটাই আমি বেশি উপভোগ করি।”
আইপিএল ২০২৬-এ পতিদারের পারফরম্যান্স
চলতি মরশুমে পতিদার ১১ ইনিংসে মোট ৩৩৭ রান করেছেন, যেখানে তার গড় ৩৩.৭০। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো তার ১৯২-এর স্ট্রাইক রেট। যদিও শেষ দুটি ম্যাচে তিনি সেভাবে রান পাননি এবং কনকাশনের কারণে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে খেলতে পারেননি। এখন দেখার বিষয়, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি একাদশে ফিরতে পারেন কি না।
আরসিবি ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে পতিদারের নেতৃত্বের দিকে। মাঠের ভেতরের কৌশল হোক বা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ—রজত পতিদার প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, তিনি কেবল একজন ভালো ব্যাটারই নন, বরং একজন বিচক্ষণ অধিনায়কও বটে। ফাফ ডু প্লেসির আদর্শ এবং চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের শিক্ষার সংমিশ্রণে তিনি আরসিবিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
