বিরাট কোহলিকে নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি রজত পাটিদারের, অধিনায়কত্ব নিয়ে দিলেন বড় বার্তা
বিরাট কোহলি আজও রজত পাটিদারের অনুপ্রেরণা
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা সবার আগে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর অধিনায়ক রজত পাটিদার। ব্যাট হাতে ৩৩৭ রান করার পাশাপাশি তার নেতৃত্বের দক্ষতাও নজর কেড়েছে ক্রিকেট মহলের। তবে এত সাফল্যের মাঝেও পাটিদার কিন্তু মাটির মানুষ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কিংবদন্তি বিরাট কোহলিই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা।
কোহলির শক্তির মুগ্ধতা
রজত পাটিদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠের ভেতরে কোহলির যে অদম্য শক্তি ও প্যাশন, তা তাকে মুগ্ধ করে। তিনি বলেন, ‘আমি কোহলির এনার্জিকে ভীষণ পছন্দ করি। তার এমন কোনো দিক নেই যা আমার অপছন্দের। তিনি আমার আইডল।’ কোহলির প্রতি এই বিনম্র শ্রদ্ধা বুঝিয়ে দেয়, আরসিবি ড্রেসিংরুমে বিরাটের প্রভাব আজও কতটা অটুট।
অধিনায়কত্বের নিজস্ব ঘরানা
राहुल দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলে কিংবা বিরাট কোহলির মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে আরসিবির নেতৃত্ব দেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু পাটিদার কারও অনুকরণ করতে নারাজ। তিনি বিশ্বাস করেন নিজের নেতৃত্ব দেওয়ার কৌশলে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ফাফ ডু প্লেসির কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। বিশেষ করে দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে সমান গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা তিনি ডু প্লেসির কাছ থেকেই রপ্ত করেছেন। পাটিদারের কথায়, ‘ডু প্লেসি যেভাবে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলতেন এবং সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন, তা আমার নেতৃত্বের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার আত্মবিশ্বাস ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল দেখার মতো।’
প্রস্তুতির পাঠ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের কাছে
একজন খেলোয়াড় থেকে অধিনায়ক হয়ে ওঠার পথে পাটিদার তার প্রাক্তন কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তিনি জানান, ম্যাচের আগে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ এবং প্রস্তুতির গুরুত্ব তিনি পণ্ডিতের কাছ থেকেই শিখেছেন। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা—২০ বছর খেলোয়াড় ও ২০ বছর কোচ হিসেবে—পাটিদারের ক্রিকেটীয় দর্শনকে বদলে দিয়েছে। পাটিদার মনে করেন, এই নিখুঁত প্রস্তুতিই তাকে একজন ভালো অধিনায়ক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।
কঠিনতম বোলারদের মুখোমুখি পাটিদার
আইপিএলের মঞ্চে বিশ্বের সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে ব্যাট করা নিয়মিত বিষয়। পাটিদারকে যখন প্রশ্ন করা হয় বর্তমান ক্রিকেটে কাকে সামলানো সবচেয়ে কঠিন, তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই দুজনের নাম নিয়েছেন। তার মতে, ভারতের তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরাহ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের রহস্যময় স্পিনার সুনীল নারিনই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ বোলার।
শেষ কথা
একজন অধিনায়ক হিসেবে রজত পাটিদার যেভাবে কোহলির অনুপ্রেরণা, ডু প্লেসির মানবিক নেতৃত্ব এবং চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের কৌশলী পাঠকে মিলিয়ে নিয়েছেন, তা এক অনন্য উদাহরণ। আইপিএল ২০২৬-এ তার দল আরসিবি ট্রফি ধরে রাখার দৌড়ে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে রয়েছেন পাটিদারের এই নতুন যাত্রার পরবর্তী অধ্যায় দেখার জন্য। তার এই বিনয় ও শেখার আগ্রহ আরসিবিকে ভবিষ্যতের পথে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
- রজত পাটিদার আইপিএল ২০২৬-এ ৩৩৭ রান সংগ্রহ করেছেন।
- বিরাট কোহলির মাঠের এনার্জি পাটিদারকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে।
- নেতৃত্বের ক্ষেত্রে পাটিদার নিজস্ব শৈলী গড়ে তুলতে মনোযোগী।
- ফাফ ডু প্লেসির কাছ থেকে খেলোয়াড়দের গুরুত্ব দেওয়ার পাঠ নিয়েছেন পাটিদার।
- চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের রণকৌশলগত শিক্ষা পাটিদারের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ক্রিকেট মাঠে শুধু রানের পাহাড় গড়াই নয়, বরং কিংবদন্তিদের কাছ থেকে শেখার মানসিকতাই পাটিদারকে একজন সফল লিডারে পরিণত করেছে। আরসিবির আগামী ম্যাচগুলোতেও তার এই ফর্ম ও নেতৃত্বের ঝলক দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা।
