News

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটই আমার প্রধান অগ্রাধিকার: প্যাট কামিন্স

Farhan Malik · · 1 min read

জাতীয় দলের প্রশ্নে আপসহীন প্যাট কামিন্স

বর্তমান ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিতে খেলোয়াড়দের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রতি ঝোঁক নতুন কিছু নয়। বিপুল আর্থিক সুবিধা এবং বিশ্বব্যাপী পরিচিতির কারণে অনেক তারকা খেলোয়াড়ই জাতীয় দলের চেয়ে লিগ ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এই স্রোতের বিপরীতে শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, তার কাছে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটই প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।

টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি বিশেষ টান

কামিন্স স্পষ্ট করেছেন যে, তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী কয়েক বছরের মূল লক্ষ্য হলো সাদা পোশাকের ক্রিকেট। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কোনো কিছুই পরিবর্তন হয়নি। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে এক নম্বর অগ্রাধিকার। অধিনায়ক হিসেবে আমি কখনোই কোনো টেস্ট ম্যাচ মিস করতে চাই না। আমি নিজেকে যত বেশি সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের জন্য উপলব্ধ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন অস্ট্রেলিয়ার সেরা খেলোয়াড়দের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতি মনোযোগ নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক চলছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (CA) নতুন চুক্তির প্রস্তাব নিয়েও সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল। তবে কামিন্স সেই বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

গত দুই বছরে কামিন্সকে অনেক সাদা বলের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে দেখা গেছে। এর পেছনে মূল কারণ ছিল তার পিঠের চোট এবং টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা। কামিন্স ব্যাখ্যা করেন, ‘গত চার মাস আমি খুব সতেজ বোধ করছি। আমি খুব বেশি ক্রিকেট খেলিনি, যার ফলে শারীরিক সক্ষমতা গত ছয়-সাত বছরের মধ্যে সেরা জায়গায় রয়েছে। আমি ঝুঁকি নিতে চাইনি, কারণ আমার মাথায় আগামী ১৮ মাসের সূচি ছিল। পিঠের চোট যাতে আবার ফিরে না আসে, সেজন্য আমরা খুবই সতর্ক ছিলাম।’

আসন্ন দেড় বছরে অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রায় ২০টি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। এই দীর্ঘ সূচির কথা মাথায় রেখেই তিনি প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ২০২৭ সালের আইপিএল বা অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তার অংশগ্রহণ নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যবসায়িক মডেল ও ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ

বিগ ব্যাশ লিগ (BBL) এর বেসরকারিকরণ বা ব্যক্তিগত বিনিয়োগের বিতর্ক নিয়েও কামিন্সকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে তিনি সরাসরি কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত মূলত প্রশাসকদের হাতে। খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সবসময় চাই প্রতিযোগিতাটি আরও বড় হোক, দর্শক টানুক এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হোক।’

সামনের পথচলা

২০১৯ সালের পর থেকে কামিন্সকে বিগ ব্যাশ লিগে দেখা যায়নি। আসন্ন ভারত সফরের কারণে আগামী মৌসুমেও তাকে বিপিএলে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে ২০২৭-২৮ মৌসুমে যদি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানুয়ারি মাসকে আন্তর্জাতিক সূচি থেকে মুক্ত রাখতে পারে, তবেই ঘরোয়া ক্রিকেটে কামিন্সের প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, প্যাট কামিন্সের এই ঘোষণা বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। অর্থের চাকচিক্যের বিপরীতে দেশের প্রতি তার এই দায়বদ্ধতা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিঃসন্দেহে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। একজন পেশাদার অ্যাথলেট হিসেবে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের সাফল্যই একজন অধিনায়কের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Avatar photo
Farhan Malik

Farhan Malik writes tactical T20 cricket analysis with a focus on momentum shifts, batting strategies, and death-over performance.