Peake ‘picked for a reason’ but Australia coach asks for ‘patience’ – অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রতিভা ওলি পিকের আন্তর্জাতিক অভিষেক নিয়ে সতর্ক ম্যাকডোনাল্ড
ওলি পিকের অভিষেক: অস্ট্রেলিয়ার নতুন সম্ভাবনার হাতছানি
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা ওলি পিক পাকিস্তান সিরিজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে পা রাখতে চলেছেন। এটি এমন এক সময় যখন অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত অনেক তারকা খেলোয়াড় অনুপস্থিত। তবে এই তরুণ তুর্কির অভিষেক নিয়ে যতটা উত্তেজনা, ঠিক ততটাই সতর্কতা অবলম্বন করছেন কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। তিনি ক্রিকেটপ্রেমী ও সংবাদমাধ্যমকে পিকের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিষেকের দ্বারপ্রান্তে পিক
মিচেল মার্শের গোড়ালির ইনজুরি এবং নিয়মিত ওপেনারদের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এই সুযোগেই ওলি পিকের ওয়ানডে দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। যদি তিনি এই সিরিজে মাঠে নামেন, তবে তিনি ২০১১ সালে প্যাট কামিন্সের পর অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ ওয়ানডে অভিষেককারী খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়বেন। তালিকার শীর্ষে থাকা কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও রে ব্রাইটের পরেই তার অবস্থান নিশ্চিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোচের বার্তা: ধৈর্যই মূল চাবিকাঠি
স্যাম কনস্টাসের টেস্ট অভিষেকের পরবর্তী সময়ে যে ধরনের তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা নিয়ে বেশ সচেতন অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। তিনি মনে করেন, অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসা খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘সাধারণত আমরা তরুণ খেলোয়াড়দের দলে নিয়ে আসতেই তাদের ঘিরে অনেক প্রত্যাশা তৈরি করি। আমি শুধু বলছি, একটু ধৈর্য ধরুন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক চ্যালেঞ্জিং।’
কোচ আরও যোগ করেন যে, পিকের জন্য এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে আসবে। সাময়িক ব্যর্থতা বা বিরতি থাকলেও, এই ধরনের অভিজ্ঞতা খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদে আরও পরিপক্ক করে তোলে। তিনি কনস্টাসের উদাহরণের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পাওয়া একজন তরুণ ক্রিকেটারের উন্নতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
পিকের খেলার ধরণ ও পরিপক্কতা
কোচ ম্যাকডোনাল্ড ব্যক্তিগতভাবে ওলি পিকের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচিত। জিলং ক্রিকেট ক্লাবের সূত্র ধরে এবং পিকের বাবার সাথে খেলার সুবাদে তিনি এই তরুণের খেলার মান খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ভিক্টোরিয়ার কোচ ক্রিস রজার্সও পিকের খেলার বুদ্ধিমত্তা ও চাপের মুখে নিজেকে সামলে নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।
- ম্যাচ সচেতনতা: ১৯ বছর বয়সী হওয়া সত্ত্বেও পিকে দারুণ গেম সেন্স প্রদর্শন করেন।
- চাপ সামলানোর ক্ষমতা: শেফিল্ড শিল্ডের শেষ দিকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরেও তার মানসিক দৃঢ়তা মুগ্ধ করেছে নির্বাচকদের।
- যোগ্যতার ভিত্তিতে দলে জায়গা: ম্যাকডোনাল্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি কোনো উন্নয়নমূলক সুযোগ নয়; বরং ওলি পিক তার সক্ষমতার কারণেই দলে ডাক পেয়েছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পিকের ঘরোয়া ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সংখ্যা খুব বেশি নয়, তা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট তার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখছে। ম্যাকডোনাল্ডের মতে, পিকের ব্যাটিং মেথড যথেষ্ট উন্নত এবং তিনি আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হওয়ার সকল গুণাবলি রাখেন। পাকিস্তান সিরিজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই এখন তার জন্য বড় পরীক্ষা।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল এখন একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওলি পিকের মতো তরুণদের সুযোগ দিয়ে তারা ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপন করতে চায়। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানের মাটিতে এই তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন। তবে দিনশেষে, ক্রিকেট ভক্তদের পক্ষ থেকে তার ওপর অহেতুক চাপ না রেখে তার স্বাভাবিক খেলার সুযোগ দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
