News

Franklin all praise for ‘strong, fast and athletic’ Nitish Kumar Reddy – নীতীশ রেড্ডির প্রশংসায় পঞ্চমুখ জেমস ফ্রাঙ্কলিন | SRH

Farhan Malik · · 1 min read

আইপিএল ২০২৫-এর ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা ও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

২০২৫ সালের আইপিএল মরসুমটি নীতীশ কুমার রেড্ডির জন্য একেবারেই সুখকর ছিল না। সেবার ১১টি ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে তিনি করেছিলেন মাত্র ১৮২ রান, তাও আবার ১২০-এর নিচে স্ট্রাইক রেটে। শুধু তাই নয়, ইনজুরির কারণে বল হাতেও নিজের চেনা ছন্দে ছিলেন না তিনি, যার ফলে তাঁর বোলিংয়ের ওপর ছিল কড়া বিধিনিষেধ। তবে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৬ সালের আইপিএলে এক নতুন নীতীশের জন্ম হয়েছে। নিজের বোলিংয়ের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি পাওয়ার-হিটিংয়ের ক্ষেত্রে নিজেকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন এই অলরাউন্ডার। আর তাঁর এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (SRH) দলকে এনে দিয়েছে এমন এক ভারসাম্য, যা গত মরসুমে তারা বেশ ভালোভাবেই মিস করেছিল।

নিউ চণ্ডীগড়ে রাজস্থান রয়্যালসের (RR) বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এলিমিনেটর ম্যাচের আগে হায়দরাবাদের পেস বোলিং কোচ জেমস ফ্রাঙ্কলিন নীতীশের এই ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যের গল্প তুলে ধরেন। ফ্রাঙ্কলিন বলেন, “আমার মনে হয় গত বছর নীতীশ আইপিএল ২০২৫ থেকে অনেক কিছু শিখেছে। মরসুমের শুরুটা তাঁর মনের মতো হয়নি। হয়তো ভারতীয় দলের সাথে সদ্য যুক্ত হওয়ার কারণে প্রত্যাশার চাপটাও একটু বেশি ছিল। তবে ও ইতিবাচকভাবে সেই শিক্ষাগুলোকে কাজে লাগিয়েছে। বিশেষ করে এই মরসুমের জন্য ও নিজের বোলিং নিয়ে প্রচুর পরিশ্রম করেছে।”

ব্যাটিং পজিশনের পরিবর্তন ও ফিনিশার হিসেবে কার্যকারিতা

গত মরসুমে নীতীশ সাধারণত ৪ নম্বরে ব্যাটিং করতেন। চলতি মরসুমের শুরুতেও তাঁকে একই পজিশনে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ব্যাটিং অর্ডারে কিছুটা নিচে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তটি তাঁর খেলার ধরনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ৫ বা ৬ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে তিনি এখন অনেক বেশি স্বাধীনভাবে খেলতে পারছেন। ডেথ ওভারে (১৬ থেকে ২০ ওভার) তাঁর স্ট্রাইক রেট দাঁড়িয়েছে ২১৫.৮৭, যা এই সংস্করণে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ডেথ ওভারে (১৬-২০ ওভার) সেরা স্ট্রাইক রেটের তালিকায় ভারতীয় ব্যাটাররা:

  • তিলক বর্মা: ২৫৬.৬৬
  • রজত পাতিদার: ২৪৯.১২
  • নীতীশ কুমার রেড্ডি: ২১৫.৮৭

ফ্রাঙ্কলিন বলেন, “এ বছর ওর ভূমিকা কিছুটা ভিন্ন এবং গভীর। ৫ বা ৬ নম্বরে নেমে শেষ ৫-৬ ওভারে ও আমাদের জন্য চমৎকার কিছু ক্যামিও খেলেছে। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ও যেভাবে দ্রুত রান তুলছে, তা অবিশ্বাস্য। আমাদের দলের জন্য ওর অবদান সত্যিই অপরিসীম।”

বোলিংয়ে বৈচিত্র্য ও ম্যাচ-আপের সফল ব্যবহার

শুধুমাত্র ব্যাটিং দিয়ে নয়, বল হাতেও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছেন নীতীশ। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপের শক্তির ওপর ভিত্তি করে তাঁকে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করছে হায়দরাবাদ ম্যানেজমেন্ট। ফ্রাঙ্কলিন জানান, “আমরা প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর ভিত্তি করে ওকে কখনো নতুন বলে বোলিং ওপেন করতে পাঠাচ্ছি, আবার কখনো মিডল ওভারে ব্যবহার করছি। ও যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের জন্য অবদান রাখতে প্রস্তুত।”

গত মরসুমে যেখানে ইনজুরির কারণে নীতীশের বোলিংয়ের ওপর সীমাবদ্ধতা ছিল, এবার সেখানে পূর্ণ শক্তি নিয়ে বল করছেন তিনি। তাঁর গতি বৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শারীরিক সক্ষমতা ও পেশাদার মনোভাবের জয়জয়কার

নীতীশের এই অলরাউন্ড সাফল্যের পেছনে তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং অসাধারণ ফিটনেসকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন জেমস ফ্রাঙ্কলিন। তিনি নীতীশকে একজন চমৎকার ও আধুনিক অ্যাথলেট হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফ্রাঙ্কলিন বলেন, “শারীরিকভাবে ও দারুণ একজন অ্যাথলেট—ও শক্তিশালী, দ্রুতগতির এবং গতিশীল। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে ও সারাক্ষণ খেলার মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে রাখে। তবে মাঠের বাইরের ওর পেশাদারিত্ব আরও বেশি প্রশংসনীয়। ও নিজের শরীরের যত্ন নেয় এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলা সম্ভব। নেটে ও এই পাওয়ার-হিটিংয়ের অনুশীলন নিয়মিত করেছে, যার ফল আমরা মাঠে দেখতে পাচ্ছি।”

উপসংহার: এলিমিনেটরে সানরাইজার্সের বড় ভরসা

রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে এলিমিনেটরের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নীতীশ কুমার রেড্ডির অলরাউন্ড পারফরম্যান্স হায়দরাবাদের জন্য নির্ধারণী ভূমিকা পালন করতে পারে। গত বছরের ব্যর্থতা ভুলে যেভাবে তিনি নিজেকে দলের নির্ভরযোগ্য ফিনিশার এবং কার্যকরী বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। জেমস ফ্রাঙ্কলিনের এই প্রিয় শিষ্য মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আরও একবার নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কোটি সমর্থক।

Avatar photo
Farhan Malik

Farhan Malik writes tactical T20 cricket analysis with a focus on momentum shifts, batting strategies, and death-over performance.