Netherlands opt to bowl under cloud, Gardner back, Hamilton in – অস্ট্রেলিয়া বনাম নেদারল্যান্ডস টস আপডেট
সাউদাম্পটনে মেঘলা আকাশের নিচে টস ভাগ্য নেদারল্যান্ডসের পক্ষে
সাউদাম্পটনের বিখ্যাত রোজ বোল স্টেডিয়ামে আজ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের শুরুতে টস ভাগ্য সহায় হয়েছে নেদারল্যান্ডসের পক্ষে। সাউথ্যাম্পটনের সকালের ওভারকাস্ট বা মেঘলা আবহাওয়া এবং উইকেটের আর্দ্রতাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে ডাচ অধিনায়ক বাবেট ডি লিডি টসে জিতে কোনো দ্বিধা ছাড়াই প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজকের ম্যাচের সবচেয়ে বড় আপডেটটি হলো: Netherlands opt to bowl under cloud, Gardner back, Hamilton in। ডাচদের এই বোলিংয়ের সিদ্ধান্তের পর অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে আজ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন: গার্ডনারের প্রত্যাবর্তন ও হ্যামিল্টনের অভিষেক
আজকের ম্যাচের জন্য অস্ট্রেলিয়া দল তাদের একাদশে দুটি বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রথমত, গোড়ালির ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন তারকা অলরাউন্ডার অ্যাশলে গার্ডনার। গোড়ালির সামান্য মচকে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি, যেখানে তার জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন গ্রেস হ্যারিস। আজ হ্যারিসের পরিবর্তে গার্ডনার তার পুরোনো জায়গায় ফিরে এসেছেন এবং তিনি দলের মিডল অর্ডারকে যেমন শক্তিশালী করবেন, তেমনি স্পিন বিভাগেও বড় অবদান রাখবেন।
দ্বিতীয় বড় পরিবর্তনটি এসেছে পেস বোলিং বিভাগে। অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট আজ দলের অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য পেসার মেগান শুটকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট বা রোটেশন পলিসির অংশ হিসেবে তাকে আজ বিশ্রামে রাখা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে ১৯ বছর বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল বাঁহাতি পেসার লুসি হ্যামিল্টনকে। এটি হ্যামিল্টনের ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং সবমিলিয়ে তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ। তবে কোয়াড ইনজুরির কারণে মিডল অর্ডারের মারকুটে ব্যাটার ফিবি লিচফিল্ড আজকেও সিলেকশনের জন্য অনুপলব্ধ ছিলেন, যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য কিছুটা ধাক্কা।
এলিস পেরির অনন্য মাইলফলক এবং ডাচ শিবিরে ডাবল সেঞ্চুরি
আজকের ম্যাচটি ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের জন্য আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অলরাউন্ডার এলিস পেরি আজ এক অনন্য ইতিহাস গড়লেন। বিশ্বের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে তিনি আজ নিজের ক্যারিয়ারের ৫০তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছেন। ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি সাফল্যের অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন পেরি। তার এই অভাবনীয় ধারাবাহিকতা এবং ফিটনেস বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডস শিবিরের জন্যও আজ একটি বিশাল উদযাপনের দিন। দলের অধিনায়ক বাবেট ডি লিডি এবং অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবিন রাইকে—উভয়েই আজ ক্যারিয়ারের শততম (১০০তম) টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছেন। সহযোগী দেশের খেলোয়াড় হিসেবে ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অত্যন্ত কঠিন এবং এই মাইলফলকটি ডাচ ক্রিকেটের উন্নতির একটি বড় প্রতীক। অধিনায়ক ডি লিডি এই বিশেষ ম্যাচটি একটি স্মরণীয় জয়ের মাধ্যমে উদযাপন করতে চাইবেন।
দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম ও ঐতিহাসিক দ্বৈরথ
টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া আজ মাঠে নামছে চরম আত্মবিশ্বাসের সাথে। নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা প্রতিপক্ষকে মাত্র ৭৭ রানে আটকে দেয় এবং পরবর্তীতে মাত্র ৯.৩ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই সেই রান তাড়া করে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয়। পেরি, গার্ডনার এবং সোফি মলিনিউদের ফর্ম প্রতিপক্ষের জন্য এক বড় হুমকি।
বিপরীতে, নেদারল্যান্ডস দল তাদের শেষ দুটি ম্যাচে বাংলাদেশ এবং ভারতের কাছে হেরে বেশ ব্যাকফুটে রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তারা লড়াই করলেও জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি। তবে পরাজয় সত্ত্বেও আজ ভারতের বিপক্ষে খেলা একাদশেই আস্থা রেখেছে ডাচ টিম ম্যানেজমেন্ট। কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আজ একই দল নিয়ে মাঠে নামছে তারা।
পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথমবার দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। এর আগে ১৯৮৮ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দল দুটি কেবল পাঁচটি ওডিআই ম্যাচ খেলেছিল, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য ছিল একচেটিয়া। দীর্ঘ ২৪ বছর পর কোনো ফরম্যাটে এই দুই দলের লড়াই ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে আলাদা উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
উভয় দলের চূড়ান্ত একাদশ (Playing XI)
অস্ট্রেলিয়া একাদশ:
- ১. বেথ মুনি (উইকেটরক্ষক)
- ২. জর্জিয়া ভল
- ৩. এলিস পেরি
- ৪. অ্যাশলে গার্ডনার
- ৫. জর্মিয়া ওয়্যারহ্যাম
- ৬. নিকোলা কেরি
- ৭. অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড
- ৮. সোফি মলিনিউ (অধিনায়ক)
- ৯. কিম গার্থ
- ১০. অ্যালানা কিং
- ১১. লুসি হ্যামিল্টন
নেদারল্যান্ডস একাদশ:
- ১. হেদার সিগার্স
- ২. ফিবি মলকেনবোয়ার
- ৩. বাবেট ডি লিডি (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক)
- ৪. স্টেরে ক্যালিস
- ৫. রবিন রাইকে
- ৬. ফ্রেডরিক ওভারডিজক
- ৭. আইরিস জুইলিং
- ৮. মার্থে ভ্যান ডেন রাড
- ৯. ক্যারোলিন ডি ল্যাঞ্জ
- ১০. সিলভার সিগার্স
- ১১. ইসাবেল ভ্যান ডার ভোনিং
সাউথ্যাম্পটনের মেঘলা কন্ডিশন এবং সকালের সুইং কাজে লাগিয়ে ডাচ বোলাররা যদি অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপে দ্রুত আঘাত হানতে পারে, তবে ম্যাচটি বেশ জমে উঠতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার গভীর ব্যাটিং লাইনআপ যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত টসের সিদ্ধান্তটি নেদারল্যান্ডসের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হয়।
