আইপিএল ২০২৬: এমএস ধোনির মন খারাপ? অশ্বিনের দাবিতে তোলপাড়
চিপকে ধোনির ল্যাপ অফ অনার: অশ্বিনের অদেখা উদ্বেগ
আইপিএল ২০২৬-এর আসর জুড়ে চেন্নাই সুপার কিংসের ডাগআউটে এমএস ধোনির উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। তবে চোটের কারণে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার। কিন্তু সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ম্যাচের পর এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে এক বিশেষ মুহূর্ত সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। ধোনি যখন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ‘ল্যাপ অফ অনার’ দিতে মাঠে নামলেন, তখন গ্যালারিতে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। কিন্তু এই দৃশ্য নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
অশ্বিনের পর্যবেক্ষণ: ধোনি কি কিছুটা অখুশি?
একটি অনলাইন আলোচনায় অশ্বিন অকপটে স্বীকার করেন যে, ধোনির আচরণে তিনি কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছেন। অশ্বিনের ভাষায়, ‘এমএস সিএসকে-কে ভীষণ ভালোবাসে। কিন্তু গতকাল যখন সে মাঠ প্রদক্ষিণ করছিল, তখন সেই পরিচিত উচ্ছ্বাস বা ভালোবাসার প্রতিফলন আমি দেখতে পাইনি। অতীতে যখনই ধোনি মাঠে দর্শকদের অভিবাদন জানাতেন, তখন তার চোখেমুখে যে আনন্দ থাকত, গতকাল যেন তা অনুপস্থিত ছিল। কেন এমনটা হলো, তা আমার অজানা।’
অশ্বিনের এই দাবি ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে নতুন করে ধোনির অবসর নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ৪৪ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি কি সত্যিই বিদায়ের সুর গাইছেন? যদিও ধোনির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
চোট এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
আইপিএল ২০২৬-এ এখন পর্যন্ত ধোনি কোনো ম্যাচ খেলেননি। চোটের কারণে তিনি মাঠের বাইরে থাকলেও, দলের পরামর্শদাতা হিসেবে ডাগআউটে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। চেন্নাই সুপার কিংস তাদের শেষ ম্যাচটি খেলবে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে কি ধোনি খেলবেন? এই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। পাঁচটি আইপিএল ট্রফি জেতানো এই অধিনায়ককে শেষবারের মতো ২২ গজে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের বক্তব্য
ধোনির অবসর নিয়ে যখন চারদিকে গুঞ্জন তুঙ্গে, তখন সিএসকে-র হেড কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং বিষয়টিকে ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। ফ্লেমিং বলেন, ‘আমি জানি এই বিষয় নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। তবে এ বছর এমএস দলের আশেপাশে ছিল, যা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এবং দলের ধারাবাহিকতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে খেলেনি ঠিকই, কিন্তু দলের ওপর তার প্রভাব ছিল অপরিসীম। আমরা অনেক ইতিবাচক কাজ করেছি, অনেক নতুন প্রতিভা তুলে এনেছি যারা ভবিষ্যতে সিএসকে-র মেরুদণ্ড হবে। তবে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তটা টিম ম্যানেজমেন্টের, আমার একার নয়।’
উপসংহার
চেন্নাই সুপার কিংসের ইতিহাসে ধোনি একটি নাম নয়, বরং একটি আবেগের নাম। সমর্থকরা এখনো আশা করছেন তাদের প্রিয় ‘থালা’-কে আরও একবার হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে লড়তে দেখার। অশ্বিনের মন্তব্য হোক বা ফ্লেমিংয়ের কূটনৈতিক উত্তর, ধোনির নীরবতা এই মুহূর্তটিকে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলেছে। সিএসকে সমর্থকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, পরবর্তী ম্যাচে ধোনি কি কোনো চমক দেবেন, নাকি এটাই ছিল চিপকের দর্শকদের উদ্দেশ্যে তার শেষ বিদায়ী বার্তা?
