Latest Cricket News

এমএস ধোনি কি আইপিএল ২০২৬-এ ফিরবেন? ফিট থাকা সত্ত্বেও কেন খেললেন না মাহি – সিএসকে-র বড় আপডেট

Farhan Malik · · 1 min read

এমএস ধোনি কি তবে আইপিএল ২০২৬ থেকে দূরেই সরে থাকছেন?

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬-এর প্রতিটি ম্যাচের সাথে সাথে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) ভক্তরা পুরো মরসুম ধরে তাদের প্রিয় আইকনকে মাঠে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কিন্তু বারবার তাদের হতাশ হতে হয়েছে। এখন, আইপিএল ২০২৬ যখন নকআউট পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন ধোনিকে নিয়ে একটি নতুন আপডেট পরিস্থিতিকে আরও আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।

চেন্নাই সুপার কিংস বর্তমানে লিগ টেবিলের সপ্তম স্থানে রয়েছে এবং তাদের প্লে-অফ বা শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশ ক্ষীণ। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও কেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে মাঠে দেখা গেল না, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ছিল হাজারো প্রশ্ন। অবশেষে সেই রহস্যের ওপর থেকে পর্দা কিছুটা সরেছে।

ফিট হওয়া সত্ত্বেও কেন লখনউয়ের বিরুদ্ধে খেলেননি ধোনি?

ক্রিক ব্লগারের সুপরিচিত সাংবাদিক ইন্দ্রনীল বসুর একটি দাবি অনুযায়ী, মহেন্দ্র সিং ধোনি ১০ মে চেন্নাই এবং ১৫ মে লখনউতে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) বিরুদ্ধে খেলার জন্য শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ ফিট ছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি মাঠে নামেননি। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, ধোনি টুর্নামেন্টের মাঝপথে দলের বর্তমান সমন্বয় বা ‘টিম কম্বিনেশন’ নষ্ট করতে চাননি।

একজন অভিজ্ঞ অধিনায়ক হিসেবে ধোনি সবসময়ই দলের ভারসাম্যকে ব্যক্তিগত আবেগের উপরে স্থান দিয়েছেন। সিএসকে তাদের ঘরের মাঠে লখনউকে ৫ উইকেটে পরাজিত করলেও, লখনউয়ের মাঠে তারা ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। ভক্তরা আশা করেছিলেন যে ধোনি সুস্থ হওয়ার সাথে সাথেই দলে ফিরবেন, কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করেছে।

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মন্তব্য ও ধোনির বর্তমান শারীরিক অবস্থা

শুধু সাংবাদিক নন, সিএসকে-র প্রাক্তন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন যে, ধোনি গত কয়েকটি ম্যাচের আগেই ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পেয়েছিলেন। অর্থাৎ চিকিৎসকরা তাকে খেলার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে ধোনি নিজের ফেরার চেয়ে দলের স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

চলতি মৌসুমে ধোনি একটিও ম্যাচ খেলেননি। তার অনুপস্থিতিতে রাজস্থান রয়্যালস থেকে আসা সঞ্জু স্যামসন চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ধোনি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রস্তুতি চলাকালীন পায়ের পেশিতে (calf injury) চোট পেয়েছিলেন, যা তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে রেখেছে। যদিও তাকে নিয়মিত নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করতে এবং দলের সাথে থাকতে দেখা গেছে, তবে মূল ম্যাচে তিনি ডাগআউটেই ছিলেন।

১৮ মে কি চিপকে শেষবার দেখা যাবে ‘থালা’-কে?

এখন সমস্ত নজর ১৮ মে চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (SRH) বিরুদ্ধে ম্যাচের দিকে। এটি চলতি মরসুমে চেন্নাইয়ের শেষ হোম ম্যাচ। এমএ চিদাম্বরম বা চিপক স্টেডিয়াম মানেই হলুদ সমুদ্র আর ‘ধোনি ধোনি’ চিৎকারে মুখরিত গ্যালারি। ধারণা করা হচ্ছে, এই আবেগঘন রাতেই ধোনি হয়তো শেষবারের মতো চেন্নাইয়ের হলুদ জার্সিতে মাঠে নামতে পারেন।

ভক্তদের মনে যেমন উন্মাদনা আছে, তেমনি রয়েছে একরাশ ভয়। যদি ১৮ মে হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে এবং ২১ মে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে শেষ লিগ ম্যাচে ধোনি না খেলেন, তবে হয়তো এটিই হবে তার আইপিএল ক্যারিয়ারের শেষ। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, ধোনি হয়তো নিঃশব্দে এই টুর্নামেন্ট থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেবেন।

সিএসকে-র প্লে-অফ সমীকরণ ও বর্তমান অবস্থান

চেন্নাই সুপার কিংস এ পর্যন্ত ১২টি ম্যাচ খেলেছে এবং ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। তাদের হাতে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি। প্লে-অফে কোয়ালিফাই করতে হলে তাদের এই দুটি ম্যাচেই জয় পেতে হবে এবং সেই সাথে অন্যান্য দলের ফলাফলের ওপরও নির্ভর করতে হবে।

  • ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট: সিএসকে-র জয়ের হার খুব একটা আশাবঞ্জক নয়।
  • সঞ্জু স্যামসনের ভূমিকা: ধোনির অবর্তমানে উইকেটের পেছনে স্যামসন সফল হলেও ধোনির ফিনিশিং দক্ষতার অভাব দল অনুভব করছে।
  • চোটের সমস্যা: ধোনির ইনজুরি এবং দলের প্রধান বোলারদের অনুপস্থিতি সিএসকে-র পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।

উপসংহার: বিদায় নাকি এক নতুন শুরু?

এমএস ধোনি সবসময়ই তার অনিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য পরিচিত। তিনি ফিট থাকা সত্ত্বেও না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছেন। তবে ক্রিকেট প্রেমীরা চান তাদের মহানায়ককে অন্তত একটি শেষ ম্যাচে মাঠে দেখতে। ১৮ মে কি সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসবে? নাকি ধোনির অনুপস্থিতিতেই শেষ হবে সিএসকে-র আইপিএল ২০২৬ যাত্রা? উত্তরের অপেক্ষায় পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

Avatar photo
Farhan Malik

Farhan Malik writes tactical T20 cricket analysis with a focus on momentum shifts, batting strategies, and death-over performance.