Latham calls upon NZ to keep ‘raising the bar’ in bid for Test series win
ট্রেন্ট ব্রিজে নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় কিউইরা
ওভালের ঐতিহাসিক জয় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। কেন উইলিয়ামসনের আকস্মিক অবসর ঘোষণার ধাক্কা সামলে যেভাবে কিউইরা ২৫৩ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। এখন দলের অধিনায়ক টম ল্যাথাম চাইছেন এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে। ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের আগে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাদের লক্ষ্য হলো ক্রমাগত উন্নতির পথে থাকা এবং নিজেদের খেলার ধরনে অটল থাকা।
পুরোনো ধাঁচের ক্রিকেটেই সাফল্যের চাবিকাঠি
ল্যাথামের মতে, ওভালে তাদের জয়টি ছিল একটু ভিন্নধর্মী। বর্তমান যুগে টেস্ট ক্রিকেট যখন দ্রুত পরিবর্তনের পথে, তখন নিউজিল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল অনেকটা ‘ওল্ড স্কুল’ বা পুরোনো ঘরানার। দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করার যে কৌশল তারা অবলম্বন করেছিল, তাতেই সাফল্য এসেছে। ল্যাথাম বলেন, ‘আমরা যেভাবে গত সপ্তাহে খেলেছি, তা আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের চেয়ে কিছুটা আলাদা। আমরা চেয়েছি লম্বা সময় ধরে ভালো ক্রিকেট খেলতে এবং প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে থাকতে। এই সিরিজে আমরা ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছি এবং আশা করছি এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারব।’
কাইল জেমিসনের অনুপস্থিতি ও মিচেল স্যান্টনারের সম্ভাবনা
ট্রেন্ট ব্রিজে নিউজিল্যান্ড কিছুটা বিপাকে পড়েছে ফাস্ট বোলার কাইল জেমিসনের অনুপস্থিতিতে। তবে ল্যাথাম আশ্বস্ত করেছেন যে, জেমিসন ইনজুরিতে নেই। তার দীর্ঘদিনের পিঠের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। ল্যাথাম বলেন, ‘সে আঘাতপ্রাপ্ত নয়। মূলত দুইটি টেস্ট খেলার পরিকল্পনা নিয়েই সে দলে ছিল, তাই তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবেই তাকে এই ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে না।’
জেমিসনের জায়গায় দলে আসার দৌড়ে এগিয়ে আছেন মিচেল স্যান্টনার। ব্রিটিশ গরম ও ট্রেন্ট ব্রিজের পিচের কথা চিন্তা করে নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো একজন ফ্রন্টলাইন স্পিনার খেলাতে পারে। স্যান্টনারের কাঁধের ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এবং তার স্পিন ভেলকি যে কোনো কন্ডিশনে কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন ল্যাথাম।
ট্রেন্ট ব্রিজের চ্যালেঞ্জ ও ল্যাথামের অতীত অভিজ্ঞতা
ট্রেন্ট ব্রিজের মাঠটি তার অদ্ভুত আয়তন এবং দ্রুতগতির আউটফিল্ডের জন্য পরিচিত। এখানে রান আটকানো বোলারদের জন্য বেশ কঠিন কাজ। ল্যাথাম চার বছর আগের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘এই মাঠটি ছোট হওয়ায় এখানে প্রচুর রান হয়। গত সপ্তাহে আমরা যেমন কন্ডিশনে খেলেছি, এটি কিছুটা সেই রকম। তবে আমাদের লক্ষ্য হলো মাঠের পরিস্থিতির সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া। আমরা জানি এখানে কীভাবে খেলতে হয় এবং প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গাগুলো কী।’
ইংল্যান্ডের ব্যাটার জনি বেয়ারস্টো এবং বেন স্টোকসের মতো খেলোয়াড়দের সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ল্যাথাম আত্মবিশ্বাসী যে, তার দল যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। গত সিরিজের স্মৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নিউজিল্যান্ড এবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে।
সিরিজ জয়ের পথে নিউজিল্যান্ডের সংকল্প
নিউজিল্যান্ডের জন্য এই টেস্ট সিরিজ জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উইলিয়ামসনের পরবর্তী যুগে দলের নেতৃত্ব দেওয়া ল্যাথামের জন্য এটি একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা। তিনি মনে করেন, দলের প্রতিটি খেলোয়াড় যদি নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে এবং ‘বার’ বা মানদণ্ড উঁচুতে রাখতে পারে, তবেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
সব মিলিয়ে ট্রেন্ট ব্রিজে একটি জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব। ল্যাথাম এবং তার দল কি পারবে ওভালের জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েকদিনের লড়াইয়ে। কিউইরা যেভাবে মাঠে লড়াই করতে অভ্যস্ত, তাতে তারা যে ইংল্যান্ডের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ হবে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
