যখন ট্রাভিস হেড এবং বিরাট কোহলি এক হয়ে প্যাট কামিন্সকে আউট করেছিলেন
আইপিএল ২০২৬: কোহলি ও হেডের উত্তপ্ত লড়াইয়ের মাঝে এক অজানা ইতিহাস
আইপিএল ২০২৬-এর ২২ মে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (এসআরএইচ) ম্যাচটি ছিল আইপিএলের অন্যতম আলোচিত বিষয়। যদিও এটি ছিল একটি তথাকথিত গুরুত্বহীন ম্যাচ, কিন্তু মাঠের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। এর মূল কারণ ছিল বিরাট কোহলি এবং ট্রাভিস হেডের মধ্যে তৈরি হওয়া তিক্ততা। স্টাম্প মাইক্রোফোনে ধরা পড়া কথা এবং ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
একসময়ের সতীর্থ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী
মাঠের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে অতীতের পাতায় তাকালে একটি ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। যে ট্রাভিস হেড এবং বিরাট কোহলি আজ একে অপরের বিরুদ্ধে রণমূর্তি ধারণ করেছেন, তারাই একসময় একই দলের হয়ে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করতে কৌশল তৈরি করতেন। ২০১৭ সালের আইপিএলে আরসিবির জার্সি গায়ে তারা ছিলেন সতীর্থ। সেবার দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে ম্যাচে তাদের জুটির এক দারুণ কৌশল প্যাট কামিন্সকে প্যাভিলিয়নে ফেরাতে সাহায্য করেছিল।
২০১৭ সালের সেই স্মরণীয় ম্যাচ
দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে আরসিবি প্রথমে ব্যাট করে ১৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছিল। সেদিনের ম্যাচে বিরাট কোহলি অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেছিলেন এবং ক্রিস গেইল ৩৮ বলে ৪৮ রান যোগ করেছিলেন। অন্যদিকে, ট্রাভিস হেড ব্যাট হাতে তেমন সুবিধা করতে না পেরে মাত্র ২ রানে রানআউট হন। কিন্তু বল হাতে তারা ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
প্যাট কামিন্সের উত্থান ও পতন
রান তাড়া করতে নেমে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস শুরুর দিকেই চাপে পড়ে যায়। সঞ্জু স্যামসন শূন্য রানে আউট হওয়ার পর শ্রেয়াস আইয়ার এবং ঋষভ পন্ত চেষ্টা করলেও উইকেট পতন আটকাতে পারেননি। ৮৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দিল্লির হয়ে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামেন বর্তমান অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তিনি ক্রিজে নেমেই আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন এবং ট্রাভিস হেডের বলে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে দিল্লির ভক্তদের মনে আশা জাগিয়েছিলেন।
কোহলি ও হেডের সেই মাস্টারপ্ল্যান
তবে কামিন্সের সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। পরের ওভারেই কোহলি এবং হেডের যৌথ পরিকল্পনায় কামিন্স ধরাশায়ী হন। ট্রাভিস হেডের ফুল এবং ওয়াইড ডেলিভারিটি প্যাট কামিন্স এক্সট্রা কভার দিয়ে মারতে গিয়ে ভুল করে বসেন। বলটি ব্যাটের কানায় লেগে সরাসরি লং-অফে দাঁড়িয়ে থাকা বিরাট কোহলির হাতে চলে যায়। কামিন্সের সেই বিদায়ে কোহলি এবং হেড দুজনেই উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন।
সময়ের বিবর্তন
নয় বছর পার হয়েছে। এখন আর তারা একই দলের সতীর্থ নন। আইপিএল ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে দুজনেই নিজ নিজ দলের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছেন। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা খেলার নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। আইপিএলের রঙিন মঞ্চে খেলোয়াড়দের সম্পর্কের এই পরিবর্তন যেমন অদ্ভুত, তেমনই ক্রিকেটীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে তাদের এই পুরনো সখ্যতা। আজকের কোহলি এবং হেড একে অপরের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তাদের এই সম্মিলিত সাফল্য আজও এক দারুণ গল্প হয়ে আছে।
