ক্রুনাল পান্ডিয়ার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্কে কাব্য মারান: আসল ঘটনা কী?
মাঠের উত্তেজনা ও কাব্য মারানের প্রতিক্রিয়া
আইপিএল মানেই মাঠের লড়াই আর মাঠের বাইরের নানা নাটকীয় মুহূর্ত। সম্প্রতি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মধ্যকার ম্যাচে এমন এক ঘটনার অবতারণা হয়েছে যা ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মালিক কাব্য মারানের একটি অভিব্যক্তি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছেন, কাব্য মারান নাকি সরাসরি আরসিবি অলরাউন্ডার ক্রুনাল পান্ডিয়ার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাকে ‘চাকিং’ বা অবৈধ অ্যাকশনের ইঙ্গিত করেছেন।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং কাব্য মারানের সেই মুহূর্ত
শুক্রবার, ২২ মে আয়োজিত এই ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৫৫ রানে জয়লাভ করে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে হায়দ্রাবাদ বিশাল ২৫৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। জবাবে বেঙ্গালুরু নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০০ রান তুলতে সক্ষম হয়। ম্যাচের ১৭তম ওভারে যখন ক্রুনাল পান্ডিয়া বল করছিলেন, তখনই কাব্য মারানকে বেশ অবাক হতে দেখা যায়। ক্রুনাল নিতিশ কুমার রেড্ডির বিরুদ্ধে একটি অপ্রত্যাশিত বাউন্সার করেন যা ব্যাটারের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। সেই বলটি আম্পায়ার ওয়াইড ঘোষণা করেন। এই ডেলিভারিটি দেখে কাব্য মারান তার পাশের লোকজনের দিকে তাকিয়ে বেশ বিড়ম্বিত মুখে কিছু অঙ্গভঙ্গি করেন, যা দেখে অনেকেই মনে করছেন তিনি ক্রুনালের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ক্রুনাল পান্ডিয়ার বোলিং বৈচিত্র্য
বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলাররা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। ক্রুনাল পান্ডিয়াও এর ব্যতিক্রম নন। তিনি প্রায়ই ক্রিজের ব্যবহার করে এবং স্বাভাবিক স্পিনের সাথে দ্রুতগতির ডেলিভারি বা বাউন্সার মিশিয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। যদিও তার ওই নির্দিষ্ট ডেলিভারিটি বেশ বিতর্কিত ছিল, তবে একই ওভারে তিনি হেনরিখ ক্লাসেনের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারকে আউট করতে সক্ষম হন। ম্যাচে তিনি তার দুই ওভারের স্পেলে ২৪ রান দিয়ে ১টি উইকেট শিকার করেন।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের আধিপত্য
ম্যাচটিতে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা স্কোরবোর্ডে ২৫৫ রানের পাহাড় গড়ে তোলে। ইশান কিষাণ ৪৬ বলে ৭৯ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের ভিত গড়ে দেন। অভিষেক শর্মা এবং হেনরিখ ক্লাসেন দ্রুত হাফ সেঞ্চুরি করে রান রেট সচল রাখেন। শেষ দিকে নিতিশ কুমার রেড্ডির কার্যকরী ব্যাটিং হায়দ্রাবাদকে বিশাল সংগ্রহের পথ প্রশস্ত করে দেয়।
বেঙ্গালুরুর লড়াই ও পয়েন্ট টেবিলের পরিস্থিতি
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল না। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ১৯ বলে ৪৪ রান করে শুরুটা ভালো করলেও শেষ পর্যন্ত তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। অধিনায়ক রজত পাতিদার ৫৬ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন। ক্রুনাল পান্ডিয়া ব্যাট হাতেও লড়াই চালিয়ে যান এবং অপরাজিত ৪১ রান করেন। তবে হায়দ্রাবাদের ৫৫ রানের এই জয় তাদের প্লে-অফের দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং গুজরাট টাইটান্স পয়েন্ট টেবিলের প্রথম তিন স্থানে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। এদিকে চতুর্থ স্থানের জন্য পাঞ্জাব কিংস, রাজস্থান রয়্যালস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যে লড়াই এখনও অব্যাহত রয়েছে।
উপসংহার
ক্রিকেটের মাঠে এ ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী হয়ে যাওয়া মালিকদের আবেগ অনেক সময় অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। কাব্য মারানের সেই অভিব্যক্তি আসলে কীসের ইঙ্গিত ছিল, তা নিয়ে ভক্তদের মাঝে যেমন কৌতূহল রয়েছে, তেমনি এটি ক্রিকেটের মাঠের আবেগেরই একটি অংশ। মাঠের লড়াইয়ে হায়দ্রাবাদ যে দাপট দেখিয়েছে, তা প্লে-অফের আগে তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ক্রুনাল পান্ডিয়ার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে এই আলোচনা সোশ্যাল মিডিয়ায় কতদিন স্থায়ী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
