RCB-এর বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে আত্মবিশ্বাসী ঈশান কিষাণ
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের রাজকীয় জয়
আইপিএল ২০২৬-এর উত্তেজনাকর ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (আরসিবি) পাত্তাই দিল না সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ব্যাট হাতে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা দীর্ঘকাল মনে রাখবে ক্রিকেটপ্রেমীরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা সংগ্রহ করে পাহাড়সম ২৫৫ রান, যা প্রতিপক্ষের জন্য পাহাড় ডিঙানোর মতোই কঠিন ছিল।
ঈশান কিষাণের ব্যাট থেকে রানের বন্যা
সানরাইজার্সের এই বিশাল স্কোরের মূল কারিগর ছিলেন ঈশান কিষাণ। তিনি মাত্র ৪৬ বলে ৭৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন। তার এই ইনিংসে ছিল আটটি চার এবং তিনটি ছক্কা। ঈশানের ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ, যা আরসিবির বোলারদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছে। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বোলারদের বিপক্ষে খেললে তিনি মানসিকভাবে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার মতে, বড় ইনিংস খেলার মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক শট নির্বাচন করা।
অন্যান্য ব্যাটারদের অবদান
শুধু ঈশান কিষাণ নন, সানরাইজার্সের আরও দুই ব্যাটার ঝড় তুলেছিলেন। অভিষেক শর্মা মাত্র ২২ বলে ৫৬ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন, যেখানে ছিল চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৫৪.৫৫। এছাড়া হাইনরিখ ক্লাসেন ২৪ বলে ৫১ রান করে দলের স্কোরকে আড়াইশ পার করতে বড় ভূমিকা রাখেন। আরসিবির পক্ষে ভেঙ্কটেশ আইয়ার ১৯ বলে ৪৪ রান করলেও, দলের বোলারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানে হার মানতে হয় তাদের।
বোলিং বৈচিত্র্যে বাজিমাত
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বোলাররা আজ ছিল অত্যন্ত হিসেবি। তারা শুধু গতির পরিবর্তন নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করে আরসিবিকে চাপে রাখে। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে বোলিং লাইনআপ আজ ছিল নিখুঁত। ধীরগতির ডেলিভারিগুলোতে তারা আরসিবি ব্যাটারদের বড় শট খেলা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে স্লোয়ার ডেলিভারিগুলোতে রান আটকানোর হার ছিল বেশ কার্যকর, যা শেষ পর্যন্ত সানরাইজার্সকে জয় এনে দেয়।
পয়েন্টস টেবিলের সমীকরণ
এই জয়ের ফলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ১৪ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। সমান পয়েন্ট থাকলেও নেট রান রেট এবং অন্যান্য সমীকরণে আরসিবি তালিকার শীর্ষে রয়েছে। গুজরাট টাইটানসও ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লড়াইয়ে টিকে আছে। প্লে-অফের লড়াই এখন জমে উঠেছে এবং প্রতিটি ম্যাচই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঈশান কিষাণের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ জয়ের পর উপস্থাপনার মঞ্চে ঈশান কিষাণ বলেন, ‘আমি আরসিবির বিপক্ষে খেললে আত্মবিশ্বাসী থাকি। তবে পরিপক্কতার চেয়ে বেশি জরুরি হলো সঠিক শট নির্বাচন। আমরা শুরু থেকেই চেয়েছিলাম পয়েন্ট টেবিলের প্রথম দুইয়ের মধ্যে থাকতে। প্যাট কামিন্স আমাদের দলে যোগ দেওয়ায় দলের বোলিং শক্তি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরো কৃতিত্ব আমাদের সাপোর্ট স্টাফ এবং প্যাট কামিন্সের।’
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের এই জয় প্রমাণ করে যে দলগত প্রচেষ্টায় যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানো সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, আইপিএলের পরবর্তী ধাপগুলোতে তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না। দলটির প্রতিটি সদস্যই এখন প্লে-অফের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে এবং সমর্থকদের জন্য উপহার দিচ্ছে দারুণ সব মুহূর্ত।
