মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার পর যেভাবে বদলে গেছেন ইশান কিষাণ
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের গণ্ডি পেরিয়ে ইশান কিষাণের নতুন রূপ
আইপিএলের এই মৌসুমে ব্যাট হাতে যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন ইশান কিষাণ। তার বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগছে, হঠাৎ এই উন্নতির রহস্য কী? ভারতের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আম্বাতি রাইডু মনে করেন, এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (এমআই) থেকে বেরিয়ে আসা। দীর্ঘ সাত বছর মুম্বাইয়ের মতো তারকাখচিত দলের ছায়ায় থাকার পর নতুন পরিবেশে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন এই তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার।
তারকাদের ভিড়ে বেড়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ
আম্বাতি রাইডু, যিনি নিজেও দীর্ঘ সময় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অংশ ছিলেন, ইশানের এই পরিবর্তনের পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। রাইডু বলেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মতো দলে বড় বড় তারকার ভিড়ে নিজের জায়গা ধরে রাখা এবং নিয়মিত পারফর্ম করা অনেক কঠিন। ইশান কিষাণ সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই নিজের ব্যক্তিত্ব ও খেলাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি এখন কেবল একজন তরুণ তুর্কি নন, বরং নিজেই একটি নাম বা সুপারস্টারে পরিণত হয়েছেন।
রাইডুর মতে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা জানেন কখন মাঠে মনোযোগ দিতে হবে এবং কখন বিরতি নিতে হবে। কিন্তু তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এই ভারসাম্য বজায় রাখা খুব চ্যালেঞ্জিং। ইশান কিষাণ সেই কঠিন শিক্ষাটা সময়ের সাথে সাথে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই অর্জন করেছেন বলে মনে করেন রাইডু।
চলতি মৌসুমে ইশানের ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্স
পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে ইশান কিষাণ এখন কতটা ভয়ঙ্কর ফর্মে আছেন। আইপিএল ২০২৬-এর অরেঞ্জ ক্যাপ তালিকার শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের একজন তিনি। এখন পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচ খেলে তিনি সংগ্রহ করেছেন ৫৬৯ রান। তার গড় ৪০.৬৪ এবং স্ট্রাইক রেট ১৭৮.৩৬, যা একজন ওপেনারের জন্য অসাধারণ।
- রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৭৯ রানের ইনিংসটি ছিল তার এই মৌসুমের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।
- এই মৌসুমে তিনি ইতিমধ্যে ছয়বার ৫০-এর বেশি রান করেছেন।
- আগের কোনো মৌসুমে তিনি কখনোই তিনবারের বেশি ৫০-প্লাস স্কোর করতে পারেননি।
শট সিলেকশন ও নেতৃত্বের প্রভাব
রাইডু বিশেষভাবে ইশানের শট নির্বাচনের উন্নতির প্রশংসা করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ইশানকে প্রায়শই ভুল শট নির্বাচন করতে দেখা যেত, কিন্তু এখন তিনি অনেক বেশি ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রাইডু বলেন, ইশানের এই পরিবর্তনের পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝাড়খণ্ডের অধিনায়কত্বের বড় ভূমিকা রয়েছে। নেতৃত্ব দেওয়ার ফলে ইশান নিজের খেলা সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন এবং মাঠে এখন তাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও পরিণত মনে হয়।
অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, একজন ব্যাটার হিসেবে দলের প্রয়োজনে কীভাবে ইনিংস এগিয়ে নিতে হয়। এই মানসিক স্বচ্ছতাই তাকে মুম্বাইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, ইশান কিষাণ যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তবে আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে তিনি ভারতীয় দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠবেন।
সব মিলিয়ে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার সিদ্ধান্তটি ইশান কিষাণের ক্যারিয়ারে যে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, তা এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। নতুন দলের স্বাধীনতা এবং নিজের খেলার ওপর নিয়ন্ত্রণ তাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, যার ফল ভোগ করছে তার বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং সমর্থকরা।
