Latest Cricket News

Personal agenda! IPL owner allegedly orders bowling unit to target ex-captain du – আইপিএল ২০২৬ বিতর্ক: সাবেক অধিনায়ককে টার্গেট করার নির্দেশ ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের

Farhan Malik · · 1 min read

আইপিএল ২০২৬-এ নজিরবিহীন বিতর্ক!

আইপিএল (IPL) মানেই চার-ছক্কার ধামাকা, মাঠের উত্তেজনা আর কোটি কোটি টাকার খেলা। কিন্তু এই ঝকঝকে দুনিয়ার আড়ালে প্রায়শই এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা ক্রীড়াপ্রেমীদের হতবাক করে দেয়। চলমান আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) এর মধ্যেই তেমনই এক চরম বিতর্কিত ও নজিরবিহীন ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক তার দলের বোলিং ইউনিটকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিপক্ষ দলের এক ব্যাটারকে যেকোনো উপায়ে আউট করার জন্য। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ওই ব্যাটার অন্য কেউ নন, খোদ সেই ফ্র্যাঞ্চাইজিরই সাবেক অধিনায়ক ছিলেন। মালিকের এমন আচরণে দলের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

घटनाর নেপথ্যে কী ঘটেছিল?

ক্রিকব্লগার (CricBlogger)-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিএলের একটি ম্যাচ চলাকালীন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের এই রূপটি প্রকাশ পায়। মাঠের তীব্র লড়াইয়ের মাঝেও যখন ক্রিকেটীয় রীতিনীতি বজায় রাখার কথা বলা হয়, তখন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে যান। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মালিক তার দলের বোলারদের ডেকে সরাসরি নির্দেশ দেন, “ওকে শুধু আউট করো। আমাদের আর অন্য কিছুর দরকার নেই।” অর্থাৎ, ম্যাচ জেতা বা দলের রণকৌশলের চেয়েও ওই সাবেক অধিনায়ককে সাজঘরে ফেরত পাঠানোই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। এই নির্দেশ শোনার পর মাঠের বোলাররা এবং ডাগআউটে থাকা সাপোর্ট স্টাফরা চরম অস্বস্তিতে পড়েন। একজন বোলার বা খেলোয়াড়ের কাছে ম্যাচ জেতাটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, কিন্তু মালিকের এমন ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে দলের পুরো বোলিং আক্রমণ এক অদ্ভুত চাপের মুখে পড়ে।

সাপোর্ট স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ

খেলাধুলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, কিন্তু সেটি যখন ব্যক্তিগত শত্রুতার রূপ নেয়, তখন তা খেলার মৌলিক চেতনাকে নষ্ট করে। ফ্র্যাঞ্চাইজির একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য এই ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এই বিষয়টি পুরো দলের পরিবেশকে নষ্ট করেছে এবং এটি অত্যন্ত কদর্য একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ক্রিকব্লগারের বরাত দিয়ে দলের একজন অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছেন, “জয় এবং পরাজয় যেকোনো খেলারই অংশ। কিন্তু আপনি কীভাবে আপনার দলের একজন সাবেক অধিনায়ককে এভাবে আলাদা করে টার্গেট করতে পারেন? এটি পুরোপুরি একটি ব্যক্তিগত আক্রোশ ছাড়া আর কিছুই নয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো খেলোয়াড় যখন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ছেড়ে চলে যান, তখনও তার প্রতি ন্যূনতম সম্মান বজায় রাখা উচিত। দল ট্রফি জিতুক বা না জিতুক, খেলোয়াড়দের অবদানকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। কিন্তু এই ঘটনায় সেই শ্রদ্ধাবোধের চরম অভাব দেখা গেছে। সূত্রটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, “সম্মানের বিষয়টি সবসময় বজায় থাকা উচিত।”

কাঠগড়ায় কোন কোন খেলোয়াড়?

প্রতিবেদনে সরাসরি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বা খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে আইপিএলের সাম্প্রতিক দলবদল এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ইতিহাস বিশ্লেষণ করে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা তিনটি বড় নামের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তারা হলেন— সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson), কেএল রাহুল (KL Rahul) এবং ঋষভ পন্ত (Rishabh Pant)

১. সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)

গত বছর রাজস্থান রয়্যালস (RR) থেকে চেন্নাই সুপার কিংসে (CSK) যোগ দেন সঞ্জু স্যামসন। এটি ছিল আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি ট্রেড ডিল, যেখানে রবীন্দ্র জাদেজা এবং স্যাম কারানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। স্যামসন দীর্ঘদিন ধরে রাজস্থান রয়্যালসকে নেতৃত্ব দিলেও তাদের ট্রফি এনে দিতে পারেননি। তাই ধারণা করা হচ্ছে এই তালিকায় তার নামও থাকতে পারে।

২. ঋষভ পন্ত (Rishabh Pant)

আইপিএল ২০২৫-এর মেগা নিলামের আগে দিল্লি ক্যাপিটালস (DC) ছেড়ে লক্ষ্ণৌ সুপার giants (LSG) এ যোগ দেন ঋষভ পন্ত। পন্তও দিল্লির হয়ে দীর্ঘদিন অধিনায়কত্ব করেছেন, কিন্তু দলকে শিরোপা এনে দিতে ব্যর্থ হন। তার দল ছাড়ার পেছনের গল্পটি নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে।

৩. কেএল রাহুল (KL Rahul)

লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সাথে একটি ম্যাচের পর প্রকাশ্য বাদানুবাদের ঘটনাটি কারোরই অজানা নয়। ওই তিক্ততার পর রাহুল এলএসজি ছেড়ে দিল্লি ক্যাপিটালসে যোগ দেন। রাহুলও চার মৌসুম ধরে এলএসজিকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পেছনে কেএল রাহুল থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন অনেকে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ এবং আইপিএলের সংস্কৃতি

আইপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ এবং খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন আসরে দলের পরাজয়ের পর মালিকদের ড্রেসিংরুমে ঢুকে খেলোয়াড় ও কোচদের অপমান করার খবর সামনে এসেছে। কিছু ঘটনা সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে বোলারদের ডেকে এভাবে মাঠের মধ্যে প্রতিপক্ষের সাবেক অধিনায়ককে ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাটি সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইপিএল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে দেশ-বিদেশের সেরা খেলোয়াড়রা একসঙ্গে খেলেন। এখানে পেশাদারিত্বের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদি মালিকদের এই ধরনের আচরণ চলতে থাকে, তবে তা লিগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।

উপসংহার

ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা। এখানে হার-জিত থাকবেই, কিন্তু মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত ক্ষোভ যদি মাঠের ভেতরে বোলারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা ক্রিকেটের মূল সৌন্দর্যকে নষ্ট করে। এই ঘটনার পর ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের মতে, ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্পত্তি নন, তারা দেশের এবং বিশ্ব ক্রিকেটের সম্পদ। তাই দল পরিবর্তন করলেও তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের দায়িত্ব। আশা করা যায় যে আইপিএল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Avatar photo
Farhan Malik

Farhan Malik writes tactical T20 cricket analysis with a focus on momentum shifts, batting strategies, and death-over performance.