Humanitarian Eid initiative for Sylhet ground staff wins praise – সিলেটে মাঠকর্মীদের পাশে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সংগঠকরা: ঈদে মানবিক উদ্যোগ
সিলেটের মাঠকর্মীদের জন্য মানবিক উপহার: এক অনন্য নজির
ক্রিকেট মাঠে আমরা যখন বাউন্ডারি বা ছক্কা দেখে উল্লাসে ফেটে পড়ি, তখন পর্দার আড়ালে থেকে যারা মাঠকে খেলার উপযোগী করে তোলেন, তাদের অবদান অনেক সময় আমাদের অগোচরেই থেকে যায়। সেই নেপথ্যের কারিগরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দ তাদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এক দারুণ উদ্যোগ নিয়েছেন সিলেটের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ক্রীড়া সংগঠকরা। সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠকর্মীদের জন্য ১ লাখ টাকা মূল্যের ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে, যা স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে এক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কেন এই উদ্যোগ?
মাঠকর্মীরা প্রতিনিয়ত রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠ পরিচর্যার কাজ করে যান। তাদের এই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই সিলেট স্টেডিয়ামে নিয়মিত ক্রিকেট লিগসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হয়। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং তাদের দৈনন্দিন কষ্টের কিছুটা উপশমের লক্ষ্যে প্রাক্তন ক্রিকেটাররা এগিয়ে এসেছেন। এমন উদ্যোগকে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীরা।
অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন
এই মানবিক আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক রাজিন সালেহ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ ফজলে এলাহি অভি, সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের সম্পাদক কবির আহমেদ, সহ-সভাপতি খুবেব আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক ইভান চৌধুরী এবং সিলেট জেলা ক্রিকেট কোচ রানা মিয়া।
অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন
অনুষ্ঠানে বক্তারা মাঠকর্মীদের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সৈয়দ ফজলে এলাহি অভি তার বক্তব্যে বলেন, মাঠকর্মীরা নীরবে ক্রীড়া কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেন। তাদের অবদানের স্বীকৃতি জানানো এবং ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
প্রাক্তন অধিনায়ক রাজিন সালেহ বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমার ক্রিকেটের হাতেখড়ি এই মাঠেই। তাই এখানকার মাঠকর্মীরা আমার পরিবারের সদস্যের মতো। তাদের সাথে আমার সম্পর্ক কেবল পেশাদারত্বের নয়, বরং হৃদয়ের বন্ধনে বাঁধা।
অন্যদিকে, সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের সম্পাদক কবির আহমেদ জানান, লিগ শুরুর সময় থেকেই তারা মাঠকর্মীদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই উপহার সামগ্রী সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম চলমান রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনে মানবিকতার বার্তা
আমাদের দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় মাঠকর্মীদের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থাকে। কিন্তু সিলেটের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে, একটু সহানুভূতি আর ভালোবাসার স্পর্শ পেলে তাদের কর্মস্পৃহা আরও বৃদ্ধি পায়। এমন উদ্যোগ শুধু মাঠকর্মীদের জন্য সহায়তা নয়, বরং এটি তাদের কাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। আশা করা যায়, সিলেটের এই মানবিক কার্যক্রম সারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক, বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর মাঠকে সবুজ রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে এই ধরনের উদ্যোগ সবসময়ই প্রশংসার দাবি রাখে।
