সোফি ডিভাইন ও ম্যাডি গ্রিনের অবিশ্বাস্য জুটিতে ইতিহাস গড়ল নিউজিল্যান্ড নারী দল
ক্যান্টারবারিতে কিউইদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
ক্যান্টারবারির সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে নিউজিল্যান্ড নারী দল ও ইংল্যান্ড নারী দলের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তা দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে যায়। দলীয় মাত্র ৫ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারিয়ে কিউইরা যখন চরম বিপর্যয়ের মুখে, তখন সোফি ডিভাইন এবং ম্যাডি গ্রিন ব্যাট হাতে তুলে ধরেন এক অসাধারণ প্রতিরোধ।
বিপর্যয়ের শুরু ও উত্তরণের গল্প
ম্যাচের শুরুতেই লিনসে স্মিথের বোলিং তোপে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে। ইজাবেলা গেজ মাত্র ৪ রান করে ফিরে যাওয়ার পর, লিনসে স্মিথ তার জাদুকরী ওভারে জর্জিয়া প্লিমার এবং অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কারকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন। ৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর নিউজিল্যান্ড যখন বড় ধরনের ধসের মুখোমুখি, ঠিক তখনই হাল ধরেন দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সোফি ডিভাইন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ম্যাডি গ্রিন।
রেকর্ড গড়া পার্টনারশিপ
ডিভাইন ও গ্রিন কেবল উইকেট বাঁচাননি, বরং ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। সোফি ডিভাইন ৫৭ বলে ৮৭ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৬টি ছক্কা। অন্যদিকে, ম্যাডি গ্রিন ৪৮ বলে ৫৬ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস উপহার দেন। এই দুই ব্যাটারের জুটিতে ওঠে ১৫৮ রান। এটি নিউজিল্যান্ড নারী দলের হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ। ২০১০ সালে সুজি বেটস ও সারা ম্যাকগ্ল্যাশানের ১০১ রানের আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তারা।
ইংল্যান্ডের বোলারদের লড়াই
ইংল্যান্ড দলের হয়ে লিনসে স্মিথ বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন। তিনি ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে এক সময় চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। এছাড়া লরেন বেল একটি উইকেট নেন। তবে ইসি ওং, ড্যানিয়েল গিবসন এবং ফ্রেইয়া কেম্প উইকেট না পেলেও বেশ মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডিভাইন ও গ্রিনের প্রতিরোধের মুখে ইংল্যান্ডের বোলিং লাইনআপ কিছুটা নড়বড়ে হয়ে যায়।
সিরিজের উত্তেজনা ও সমীকরণ
নিউজিল্যান্ড শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে। ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল এই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করা। ইংল্যান্ডের ওপেনার সোফিয়া ডাঙ্কলি ও এলিস ক্যাপসি ৩০ রানের জুটি গড়ে শুভ সূচনা করেছিলেন এবং পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগের ওয়ানডে সিরিজটি বৃষ্টির কারণে অমীমাংসিত ছিল। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি ছিল সিরিজে টিকে থাকার লড়াই।
উপসংহার
সোফি ডিভাইন ও ম্যাডি গ্রিনের এই ঐতিহাসিক পার্টনারশিপ কেবল নিউজিল্যান্ডের সম্মানই বাড়ায়নি, বরং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের সক্ষমতার পরিচয় আবারও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। রেকর্ড গড়া এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ফলাফল যা-ই হোক না কেন, ডিভাইন ও গ্রিনের এই লড়াই দীর্ঘদিন ক্রিকেট ভক্তদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এমন পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় অনুপ্রেরণা।
