আইপিএল ২০২৬: ঈশান মালিঙ্গা ও সাকিব হোসেনকে নিয়ে মুগ্ধ প্যাট কামিন্স
নতুন দুই তারকার উত্থান
বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার প্যাট কামিন্স আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (SRH) অধিনায়ক হিসেবে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে মাঠের অভিজ্ঞতায় নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি শিখছেন নিজের সতীর্থদের কাছ থেকেও। বিশেষ করে তরুণ বোলার ঈশান মালিঙ্গা এবং সাকিব হোসেনের অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্স তাকে মুগ্ধ করেছে। কামিন্সের মতে, এই দুই বোলার এখন হায়দ্রাবাদের বোলিং লাইনআপের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন।
মালিঙ্গা ও সাকিবের দুর্দান্ত পরিসংখ্যান
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে ঈশান মালিঙ্গা হায়দ্রাবাদের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। ১৪ ম্যাচে ১৯টি উইকেট নিয়ে তিনি দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। অন্যদিকে, তার সঙ্গী সাকিব হোসেনও পিছিয়ে নেই। নিজের অভিষেক মৌসুমেই মাত্র ১০ ম্যাচে ১৫টি উইকেট দখল করে তিনি নির্বাচক ও সমর্থকদের নজর কেড়ে নিয়েছেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) বিপক্ষে ম্যাচে তাদের সম্মিলিত বোলিং ছিল দেখার মতো। ৮ ওভার বল করে মাত্র ৬৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে তারা হায়দ্রাবাদের ৫৫ রানের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কামিন্স
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্যাট কামিন্স উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘তারা সত্যিই অসাধারণ। আমি তাদের থেকে অনেক কিছু শিখেছি। বিশেষ করে পুরো আসর জুড়ে ঈশান যেভাবে পাওয়ারপ্লেতে বল করেছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। সে তার স্লোয়ার এবং বিভিন্ন বৈচিত্র্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে দিচ্ছে। আর সাকিবের কথাও আলাদা করে বলতে হয়। তারা সত্যিই আমার জন্য একজন ক্যাপ্টেনের স্বপ্ন।’
পাওয়ারপ্লেতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং
বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে প্রতিপক্ষ ব্যাটার ভেঙ্কটেশ আইয়ার ঝড়ো সূচনা করলেও মালিঙ্গা ও সাকিব তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচটিকে হায়দ্রাবাদের দিকে ঘুরিয়ে দেন। তারা দুজন পাওয়ারপ্লেতে ৩ ওভার বল করে ১টি করে উইকেট শিকার করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে।
প্লে-অফের সমীকরণ
আইপিএলের লিগ পর্যায়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করলেও নেট রান রেটের বিচারে তারা টেবিলের তিন নম্বরে রয়েছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং গুজরাট টাইটানস প্রথম দুটি স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। তবে কামিন্স মনে করেন, হায়দ্রাবাদের ব্যাটারদের তোলা বিশাল স্কোর এবং বোলারদের এই প্রচেষ্টা তাদের প্লে-অফের পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রেখেছে। হায়দ্রাবাদের পিচ ব্যাটিং সহায়ক হওয়া সত্ত্বেও বোলাররা যেভাবে লক্ষ্যমাত্রা রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন, তা প্রশংসনীয় ছিল বলে মত কামিন্সের।
সামনের পথচলা
টুর্নামেন্টের পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে কোয়ালিফায়ার ১-এ মুখোমুখি হবে আরসিবি ও গুজরাট টাইটানস। অন্যদিকে, ২৭ মে এলিমিনেটর ম্যাচে হায়দ্রাবাদ খেলবে প্লে-অফের চতুর্থ দলটির বিপক্ষে, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকতে পারে রাজস্থান রয়্যালস, পাঞ্জাব কিংস অথবা কলকাতা নাইট রাইডার্স। সব মিলিয়ে, কামিন্সের নেতৃত্বের অধীনে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এখন শিরোপা জয়ের মিশনে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। মালিঙ্গা ও সাকিবের মতো তরুণ প্রতিভার হাত ধরে দলটি যে কোনো বড় চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।
