Cricket News

প্রাক্তন আইপিএল বিজয়ী মনোজ তিওয়ারি: গায়কওয়াডকে সরিয়ে স্যামসনকে অধিনায়ক করার পরামর্শ সিএসকে-কে

Rohit Verma · · 1 min read

আইপিএল ২০২৬ মরসুম চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) এর জন্য প্রায় শেষ বলা যেতে পারে। সোমবার এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (এসআরএইচ) এর কাছে পাঁচ উইকেটে এবং এক ওভার বাকি থাকতে বাজেভাবে পরাজিত হয়েছে প্রাক্তন আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। এই পরাজয়ের পর দলের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কওয়াডকে একাকী এবং দিশাহীন দেখাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এর সাথে আইপিএল শিরোপা জেতা ভারতের প্রাক্তন ব্যাটসম্যান মনোজ তিওয়ারি, সিএসকে-কে গায়কওয়াডকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন। ৪০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার মনে করেন যে সঞ্জু স্যামসনকে চেন্নাইয়ের পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ করা উচিত।

এমএস ধোনির কাছ থেকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, ২৯ বছর বয়সী রুতুরাজ গায়কওয়াড এখনও পর্যন্ত দলের আস্থা এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। সিএসকে বনাম এসআরএইচ ম্যাচের শেষে ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিওয়ারি বলেন, “অনেকে বলেন যে গায়কওয়াডকে এমএস ধোনির জুতোতে পা গলাতে হবে, কিন্তু সেই জুতোর আকার এত বড় যে তা পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন। তাকে (গায়কওয়াড) নিজের একটি উত্তরাধিকার তৈরি করতে হবে, এবং এর জন্য তাকে অতীত পর্যালোচনা করতে হবে এবং দেখতে হবে কোথায় উন্নতির প্রয়োজন। তবেই চেন্নাই একই অধিনায়কের সাথে চালিয়ে যেতে পারবে। একজন নেতা তখনই ইতিবাচক এবং সাবলীল হতে পারে যখন সে রান করে, যা সে এই মুহূর্তে করতে পারছে না।” তিওয়ারির এই মন্তব্যে সিএসকে শিবিরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সঞ্জু স্যামসন কি পরবর্তী মরসুমে নেতৃত্ব দেবেন?

বাংলার প্রাক্তন এই অধিনায়ক আরও যোগ করেন, “স্যামসন পরবর্তী অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন, এবং এটি একটি ভালো পছন্দ হবে। রুতুরাজ গত দুটি অভিযানে অধিনায়ক ছিলেন, যার কারণে তিনি পরপর তৃতীয় মরসুমের জন্য এই দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মরসুমে তারা যেখানেই শেষ করুক না কেন, দলকে পরবর্তী মরসুমের আগে অধিনায়কত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সঞ্জু এই কাজটি করতে পারেন কারণ তিনি এর আগেও রাজস্থানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একজন ভালো ব্যাটসম্যানও বটে।” মনোজ তিওয়ারির এই মন্তব্যের গভীর তাৎপর্য রয়েছে, বিশেষ করে যখন সিএসকে তাদের ঐতিহ্যবাহী পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সংগ্রাম করছে। ধোনির দীর্ঘ ২৪৪ ম্যাচের অধিনায়কত্ব থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর, মহারাষ্ট্রের এই ব্যাটসম্যান এখন ৩২টি ম্যাচ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, ২৯ বছর বয়সী রুতুরাজ গায়কওয়াড এ পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচে জয় লাভ করেছেন এবং ১৮টি ম্যাচে পরাজিত হয়েছেন, তার জয়ের শতাংশ ৪৩.৭৫%। মাত্র একটি ম্যাচ বাকি থাকায়, সিএসকে-কে শীর্ষ চারে স্থান করে নিতে হলে অন্যান্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এই মরসুমে তাদের পারফরম্যান্স হতাশাজনক, যা অধিনায়কত্বের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমবারের ম্যাচেও গায়কওয়াড ব্যাটে ব্যর্থ হন, ২১ বলে মাত্র ১৫ রান করেন কোনো বাউন্ডারি ছাড়া। এই ধরনের পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবে তার নেতৃত্ব এবং ফর্ম উভয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। একজন অধিনায়ক হিসেবে দলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াটা জরুরি, কিন্তু গায়কওয়াড ব্যক্তিগতভাবেও রান সংগ্রহে ভুগছেন।

সিএসকে-র অধিনায়কত্বের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের ভাবনা

এমএস ধোনি যখন সিএসকে-র অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন, তখন থেকেই রুতুরাজ গায়কওয়াডের কাঁধে এক বিশাল প্রত্যাশার বোঝা চেপেছিল। ধোনির মতো একজন কিংবদন্তির জুতোয় পা গলানো যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই কঠিন। ধোনি শুধু একজন সফল অধিনায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অদম্য ফিনিশার এবং মাঠে এক বিচক্ষণ কৌশলবিদ। তার অনুপস্থিতি দলের পারফরম্যান্সে যে প্রভাব ফেলবে তা স্বাভাবিক ছিল। গায়কওয়াড একজন প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হলেও, অধিনায়কত্বের চাপ তার ব্যক্তিগত খেলাতেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। চাপের মুখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে একত্রিত রাখা একজন অধিনায়কের মূল গুণ। এই দিকগুলোতেই গায়কওয়াডকে আরও উন্নতি করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, সঞ্জু স্যামসন রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন এবং তার নেতৃত্বে দল ভালো পারফর্মও করেছে। তিনি একজন আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান এবং মাঠে তার নেতৃত্ব গুণ বেশ প্রশংসিত। তার অভিজ্ঞতা এবং ব্যাটের পারফরম্যান্স তাকে সিএসকে-র জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে। এই মরসুমে তার ব্যক্তিগত ফর্মও বেশ ভালো, যা তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেছে। সিএসকে যদি সত্যিই অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের কথা ভাবে, তবে স্যামসন অবশ্যই তাদের পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে থাকবেন। এটি দলের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনতে পারে।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জয় এবং অধিনায়কদের প্রতিক্রিয়া

সোমবারের ম্যাচে ইশান কিষাণের ৭০ রান এবং হেনরিখ ক্লাসেনের ৪৭ রানের অসাধারণ ইনিংস সফরকারী দলকে সহজেই লক্ষ্য তাড়া করতে সাহায্য করে। প্যাট কামিন্স এই জয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। ম্যাচের শেষে তিনি বলেন, “এটি একটি সন্তোষজনক জয় ছিল, আমরা সাধারণত যে গতিতে ক্রিকেট খেলি, তা নয়, উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন ছিল। ক্লাসেন এবং ইশানের সাহসী প্রচেষ্টা ছিল, এখন আমরা যোগ্যতা অর্জন করেছি, আসল পরীক্ষা এখন শুরু হবে এবং আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।” সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এই জয় দিয়ে তাদের প্লে-অফের স্বপ্নকে আরও মজবুত করেছে।

অন্যদিকে, পরাজিত অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কওয়াড আগামী মরসুমে তার দল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত এটি একটি দারুণ খেলা ছিল, আমরা কয়েকটি ঘরের মাঠে ম্যাচ হেরেছি। গত বছরের তুলনায় আমরা ভালো ছিলাম এবং আশা করি ২০২৭ সালে আরও শক্তিশালী ইউনিট নিয়ে ফিরে আসব।” গায়কওয়াডের এই মন্তব্য তার হতাশা এবং একই সাথে ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ প্রতিফলিত করে। তবে, অধিনায়কত্বের এই বিতর্ক সিএসকে-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুহূর্ত তৈরি করেছে। আগামী মরসুমে কি সিএসকে নতুন অধিনায়কের অধীনে মাঠে নামবে, নাকি গায়কওয়াডকে আরও একটি সুযোগ দেওয়া হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Avatar photo
Rohit Verma

Rohit Verma delivers detailed match reports, score recaps, and post-game summaries from IPL and ICC events.