উগান্ডার সাথে খেলো এবার: বাংলাদেশে হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান ক্রিকেট দল
লজ্জাজনক পরাজয়: বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান
পাকিস্তান ক্রিকেট দল আবারও এক নতুন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়ে চরম লজ্জার মুখে পড়েছে শান মাসুদের দল। দ্বিতীয় টেস্টে ৭৮ রানের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মেন ইন গ্রিনদের। গত দুই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার, যখন টাইগাররা পাকিস্তানকে এভাবে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখালো। এই লজ্জাজনক হারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তান দলকে নিয়ে ট্রোল এবং মিমে ভেসে যাচ্ছে ইন্টারনেট দুনিয়া।
সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের চিত্র: লড়াই করেও ব্যর্থ পাকিস্তান
প্রথম টেস্টে হেরে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান দল সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু সেই আশায় শুরুতেই পানি ঢেলে দেয় বাংলাদেশ। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের পক্ষে লিটন দাস দুর্দান্ত একটি শতরান করে দলকে মজবুত অবস্থানে নিয়ে যান।
জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান মাত্র ২৩২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে প্রথম ইনিংসেই তারা ৪৬ রানে পিছিয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে ম্যাচ এবং সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে।
তৃতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ ও জয়ের লক্ষ্য
নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করে। মুশফিকুর রহমান দুর্দান্ত ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেন এবং লিটন দাস আবারও একটি হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের স্কোরকে ৩৯০ রানে নিয়ে যান। পাকিস্তানের বোলার খুররম শাহজাদ দুই ইনিংস মিলিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে দুটি ৪ উইকেটের হোল (four-wicket-haul) শিকার করলেও অন্য প্রান্তে কোনো বোলারের থেকে উপযুক্ত সমর্থন পাননি। ফলে বাংলাদেশের লিড গিয়ে দাঁড়ায় ৪৩৬ রানে।
চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের লড়াই এবং পঞ্চম দিনের ব্যাটিং বিপর্যয়
জয়ের জন্য ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। মাত্র ৪৭ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে তারা। তবে এরপর অধিনায়ক শান মাসুদ ৭১ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন এবং বাবর আজমের সাথে একটি জুটি গড়ে তোলেন। বাবর আজম ৪৭ রান করে আউট হন।
এরপর মিডল অর্ডারে সালমান আগা এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান দুর্দান্ত লড়াই করেন। তাদের মধ্যে ১৩৪ রানের একটি অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। রিজওয়ান সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও মাত্র ৬ রানের জন্য নিজের শতরান মিস করেন এবং ৯৪ রানে আউট হন। কিন্তু ম্যাচের পঞ্চম দিনে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান দল ৩৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায়, যার ফলে বাংলাদেশ ৭৮ রানের এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় এবং সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয়।
“উগান্ডার সাথে খেলো এবার”: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের ক্ষোভ
এই পরাজয় পাকিস্তানি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য হজম করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, পাকিস্তানের মাটিতে এর আগে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল, আর এবার বাংলাদেশের মাটিতে এসেও তাদের কাছেই হোয়াইটওয়াশ হতে হলো। পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি প্রথমবার যে তারা বাংলাদেশের মাটিতে কোনো টেস্ট সিরিজ হারল।
স্বাভাবিকভাবেই, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বহু ক্রিকেট অনুরাগী শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন দলের এই বাজে পারফরম্যান্স এবং চাপের মুখে ভেঙে পড়ার মানসিকতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ইন্টারনেটে “উগান্ডা সে খেলো আব” (এবার উগান্ডার সাথে খেলো) স্লোগানটি ট্রেন্ড করতে শুরু করে, যেখানে ভক্তরা কটাক্ষ করে বলছেন যে এই দলের এখন উগান্ডার মতো নতুন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সাথে খেলা উচিত।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্ন ভঙ্গ
এই শোচনীয় পরাজয়ের পর আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) পয়েন্ট টেবিলে পাকিস্তানের অবস্থান আরও নিচে নেমে গেছে। তারা বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের অষ্টম স্থানে নেমে এসেছে। এই পরাজয়ের সাথে সাথেই পাকিস্তানের এবারের ডব্লিউটিসি (WTC) ফাইনালে খেলার স্বপ্ন আনুষ্ঠানিকভাবে ধুলিসাৎ হয়ে গেল।
শান মাসুদের অধিনায়কত্ব কি হারাতে চলেছে? বাবর আজমের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা
টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের এই শোচনীয় পারফরম্যান্সের পর অধিনায়ক শান মাসুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই বড় প্রশ্ন উঠে গেছে। তার নেতৃত্বে খেলা ১৬টি টেস্টের মধ্যে ১২টিতেই হেরেছে পাকিস্তান, যা অত্যন্ত হতাশাজনক একটি রেকর্ড।
শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, একজন ব্যাটার হিসেবেও শান মাসুদের রেকর্ড খুবই সাধারণ মানের। অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি ৩২ ইনিংসে মাত্র ৩৪.০৬ গড়ে ১০৫৬ রান করতে পেরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মাত্র ২টি সেঞ্চুরি।
পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শান মাসুদের পরিবর্তে আবারও টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে বাবর আজমকে ফিরিয়ে আনা হতে পারে। এর আগে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলের ভরাডুবির পর বাবর আজম সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে বর্তমানে দলে কোনো বড় তারকার বিকল্প না থাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) আবারও বাবরের দিকেই ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
