আকিব নবীর অভিষেক নিয়ে বিসিসিআইয়ের নতুন পরিকল্পনা, আফগানিস্তান সিরিজ থেকে বাদ পড়ার নেপথ্যে কী?
আফগানিস্তান সিরিজের স্কোয়াড এবং আকিব নবীর অনুপস্থিতি
ভারত ও আফগানিস্তানের আসন্ন সিরিজ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনার শেষ নেই। বিসিসিআই নির্বাচন কমিটি অজিত আগারকারের নেতৃত্বে যখন দল ঘোষণা করল, তখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীরের ফাস্ট বোলার আকিব নবীর বাদ পড়ার ঘটনা। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও নির্বাচকদের নজর কাড়তে ব্যর্থ হন এই তরুণ পেসার।
১৯ মে ঘোষিত এই স্কোয়াডে বেশ কিছু নতুন মুখ দেখা গেলেও সিনিয়র খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। জসপ্রীত বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং রবীন্দ্র জাদেজার কাজের চাপও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রোহিত শর্মা ও হার্দিক পান্ডিয়া ওডিআই দলে জায়গা পেলেও আইপিএল ২০২৬-এর ইনজুরি কাটিয়ে তাদের ফিটনেস ছাড়পত্রের ওপর নির্ভর করছে সব কিছু।
নেতৃত্ব ও দলে বড় পরিবর্তন
দলের নেতৃত্বের কাঠামোতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। কেএল রাহুলকে টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে, যার ফলে ঋষভ পন্থ এই দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন এবং ওডিআই দল থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে, ঈশান কিশান ওডিআই দলে ফিরেছেন এবং প্রিন্স যাদব ও গুরনুর ব্রারের মতো তরুণরা উভয় ফরম্যাটেই জায়গা করে নিয়েছেন।
আকিব নবীর পারফরম্যান্স ও নির্বাচকদের বিস্ময়
আকিব নবীর বাদ পড়া ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের কাছে এক বড় বিস্ময়। রঞ্জি ট্রফি ২০২৫-২৬ মরসুমে তিনি ১৭ ইনিংসে ৬০টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হয়েছিলেন। ১২.৫৬ গড়ে এবং ২.৬৫ ইকোনমি রেটে তার বোলিং ছিল বিধ্বংসী। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথমবার রঞ্জি জয়ের নেপথ্যে তার অবদান ছিল অপরিসীম। এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই আইপিএল ২০২৬ নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস তাকে ৮.৪০ কোটি টাকায় দলে নেয়।
বিসিসিআইয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
যদিও আফগানিস্তান সিরিজের টেস্ট দলে আকিবের নাম নেই, তবে বিসিসিআই তাকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা করছে। পিটিআই সাংবাদিক কুশান সরকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকিব নবীকে আগামী কয়েক মাসে ‘ইন্ডিয়া এ’ দলের হয়ে খেলার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া এ এবং শ্রীলঙ্কা এ দলের বিরুদ্ধে সিরিজে তাকে পরখ করে নিতে চায় বিসিসিআই।
পুদুচেরিতে অস্ট্রেলিয়া এ দলের বিরুদ্ধে দুটি চারদিনের ম্যাচ এবং তিনটি ওডিআই ম্যাচে আকিবের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদি এই ম্যাচগুলোতে তিনি নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেন, তবে বছরের শেষদিকে নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য তার দরজা খুলে যেতে পারে। নিউজিল্যান্ড সফরে পাঁচটি ওডিআই, পাঁচটি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ভারতের।
কেন আকিব নবীকে ভবিষ্যতের তারকা বলা হচ্ছে?
আকিব নবীর বোলিংয়ের মূল বৈশিষ্ট্য হলো তার বাউন্স এবং সঠিক লাইন ও লেংথ বজায় রাখা। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে গতি ও নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় প্রয়োজন, সেখানে আকিব নিজেকে প্রমাণ করেছেন। রঞ্জি ট্রফিতে সাতবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বই বলে দেয় তিনি কতটা ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে সক্ষম। বিসিসিআই তাকে তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করছে, যা কোনো তরুণ ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
সামগ্রিকভাবে, আকিব নবীর বর্তমান বাদ পড়া কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং তাকে আরও বেশি পরিপক্ক করে তোলার একটি প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছে ক্রিকেট মহল। অস্ট্রেলিয়া এ এবং শ্রীলঙ্কা এ দলের বিরুদ্ধে পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে তিনি কত দ্রুত নীল জার্সি গায়ে জড়াতে পারেন। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে এই তরুণ পেসার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার গতির ঝড় তুলতে সক্ষম হন।
