Ambati Rayudu admits he would trade 6 IPL titles for World Cup game; Aaron Finch
আম্বাতি রাইডুর অভাবনীয় আক্ষেপ: আইপিএল ট্রফি বনাম বিশ্বকাপ
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটার আম্বাতি রাইডু সম্প্রতি নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেছেন যা ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তার অর্জিত ৬টি আইপিএল শিরোপার বিনিময়ে হলেও তিনি অন্তত একটিবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেতে চাইতেন। এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি তিনি করেছেন ইএসপিএন ক্রিকইনফোর একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ।
রাইডুর বর্ণাঢ্য আইপিএল ক্যারিয়ার
আম্বাতি রাইডু আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে মোট ৬ বার আইপিএল ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ট্রফি জয়ের পর, ২০১৮ সালে তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ৬০০-এর বেশি রান করেন এবং শিরোপা জেতেন। পরবর্তীতে ২০২১ এবং ২০২৩ সালেও সিএসকের হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। রোহিত শর্মার পাশাপাশি রাইডুই হলেন একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ৬টি আইপিএল ট্রফি জিতেছেন।
বিশ্বকাপ না খেলার আক্ষেপ
এত সাফল্য সত্ত্বেও রাইডুর মনে রয়ে গেছে বিশ্বকাপ না খেলার গভীর আক্ষেপ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতের হয়ে ৫৫টি ওয়ানডে এবং ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্কোয়াডে থাকলেও একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এছাড়া ২০১৯ সালে ভারতের চার নম্বর ব্যাটিং পজিশনের জন্য তাকে নিয়মিত বিবেচনা করা হলেও, শেষ মুহূর্তে তাকে বাদ দিয়ে বিজয় শঙ্করকে দলে নেওয়া হয়, যা সে সময় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।
প্যানেল আলোচনায় অ্যারন ফিঞ্চ যখন তাকে জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি কি তার ৬টি আইপিএল শিরোপা বিশ্বকাপের একটি ম্যাচের জন্য বিসর্জন দিতে রাজি কি না, তখন রাইডু বিন্দুমাত্র সময় না নিয়ে উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, আমি অবশ্যই আমার এই ছয়টি আইপিএল শিরোপা দিয়ে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ খেলতে রাজি থাকতাম।’
অ্যারন ফিঞ্চের মুগ্ধতা
রাইডুর এই পরিসংখ্যান দেখে অ্যারন ফিঞ্চ রীতিমতো অবাক হয়ে যান। ফিঞ্চ বলেন, ‘৬ বার আইপিএল জেতা অবিশ্বাস্য। যখনই পর্দায় দেখি আম্বাতি রাইডু, ছয়বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন, তখন আমি সত্যিই বিস্মিত হই। বিশ্বের কঠিনতম লিগে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলা এবং টানা সাফল্য পাওয়া সহজ কথা নয়।’ ফিঞ্চ রাইডুর দীর্ঘদিনের এই সাফল্যের জন্য তাকে সাধুবাদ জানান।
রাইডুর বিনয়ী প্রতিক্রিয়া
ফিঞ্চের মন্তব্যের জবাবে রাইডু বেশ বিনয়ের সাথে জানান যে, তিনি ভাগ্যবান ছিলেন কারণ তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের অংশ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। রাইডুর মতে, দলের সতীর্থ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। রাইডু তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৭ রানের ইনিংস খেলে পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন। ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি ভারতীয় দলের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন।
উপসংহার
আইপিএলের গ্ল্যামার এবং সাফল্য একদিকে, আর বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার আক্ষেপ অন্যদিকে—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আম্বাতি রাইডুর ক্যারিয়ার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল। তার এই অকপট স্বীকারোক্তি বুঝিয়ে দেয় যে, একজন ক্রিকেটারের কাছে দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে নামার আকাঙ্ক্ষা কতটা প্রবল হতে পারে। যদিও আইপিএলের কিংবদন্তি হিসেবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন, তবুও একটি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার আক্ষেপ হয়তো তার ক্রিকেট জীবনের সাথে সারাজীবন জুড়ে থাকবে।
