মেট্রো ব্যাংক ওয়ান-ডে কাপ: ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে সারের দুর্দান্ত জয়
কিয়া ওভালে সারের রাজত্ব: কিরা চথলির ব্যাট ও মেইটল্যান্ড ব্রাউনের অলরাউন্ড নৈপুণ্য
মেট্রো ব্যাংক ওয়ান-ডে কাপে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল সারে। কিয়া ওভালে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে সারে জয়লাভ করেছে তিন উইকেটের ব্যবধানে। দলের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন অধিনায়ক কিরা চথলি এবং অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার মেইটল্যান্ড ব্রাউন। তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিং পার্টনারশিপই শেষ পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
বল হাতে সারের দাপট
ম্যাচের শুরুতে টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ল্যাঙ্কাশায়ার নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রান সংগ্রহ করে। সারের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটাররা বড় সংগ্রহের দিকে এগোতে পারেনি। মেইটল্যান্ড ব্রাউন বল হাতে ৪৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন এবং তাকে দারুণ সঙ্গ দেন লেগ-স্পিনার দানি গ্রেগরি, যিনি ৪২ রানে ৩ উইকেট নেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ওপেনার ইভ জোন্স সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন, যা তার এই টুর্নামেন্টের তৃতীয় অর্ধশতক ছিল। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে ল্যাঙ্কাশায়ার বড় কোনো জুটি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। গ্রেস জনসন ৩৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও সারের অসাধারণ ফিল্ডিংয়ের কাছে তা ফিকে হয়ে যায়। বিশেষ করে পেইজ স্কোফিল্ডের এক হাতে ধরা অবিশ্বাস্য ক্যাচটি ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
লক্ষ্য তাড়ায় সারের দুর্দান্ত শুরু ও ঘুরে দাঁড়ানো
২৪৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে সারে শুরুটা করে দারুণ গতিতে। সপ্তম ওভারেই দলীয় ৫০ রান স্পর্শ করে তারা। অ্যালিস মোনাঘান এবং সোফিয়া ডাঙ্কলি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। তবে ল্যাঙ্কাশায়ারের গ্রেস পটস এবং গ্রেস জনসনের বোলিং তোপে সারে দ্রুত তিনটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায়। মাত্র ১৪ বলের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে সারের ব্যাটিং লাইনআপ কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল।
চথলি ও ব্রাউনের জাদুকরী জুটি
ঠিক সেই মুহূর্তে হাল ধরেন অধিনায়ক কিরা চথলি এবং মেইটল্যান্ড ব্রাউন। পঞ্চম উইকেটে এই জুটি ১৫৪ বলে ১৩৪ রান যোগ করে দলের জয় নিশ্চিত করে। চথলি ১০১ বলে অপরাজিত ৮৮ রান করেন, যা এবারের টুর্নামেন্টে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর। অন্যদিকে মেইটল্যান্ড ব্রাউন ৭৪ বলে ৬২ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। এটি ছিল সারের হয়ে ব্রাউনের বিদায়ী ম্যাচ, যেখানে তিনি নিজের সেরাটা দিয়েই শেষ করলেন। ইনিংসের শেষ দিকে কিছু দ্রুত উইকেট হারালেও চথলির ব্যাটে ভর করে ৪ ওভার বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সারে। শেষ ওভারে যখন জয়ের খুব কাছে সারে, তখন চথলি মিডউইকেট দিয়ে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে কেট ক্রস ৩ উইকেট পেলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
- ফলাফল: সারে তিন উইকেটে জয়ী।
- ল্যাঙ্কাশায়ার: ২৪৬/৯ (ইভ জোন্স ৬৯, মেইটল্যান্ড ব্রাউন ৩/৪৬, দানি গ্রেগরি ৩/৪২)।
- সারে: ২৫০/৭ (কিরা চথলি ৮৮*, মেইটল্যান্ড ব্রাউন ৬২)।
এই জয়ের মাধ্যমে সারে নিজেদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিল। অধিনায়ক কিরা চথলির দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং বোলিং বিভাগে মেইটল্যান্ড ব্রাউন ও দানি গ্রেগরির পারফরম্যান্স প্রমাণ করে কেন সারে বর্তমানে সাদা বলের ক্রিকেটে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ল্যাঙ্কাশায়ারের জন্য এটি ছিল টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় পরাজয়, যা তাদের জন্য বেশ হতাশাজনক। তবে সারের এই পারফরম্যান্স সামনের ম্যাচগুলোর জন্য তাদের জন্য বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে।
