ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: নাসিরের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে অগ্রণী ব্যাংকের জয়
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অগ্রণী ব্যাংকের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) মানেই টানটান উত্তেজনার লড়াই। বিকেএসপি গ্রাউন্ড নম্বর ২-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে এমনই এক দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। একপর্যায়ে হারের শঙ্কায় থাকা দলটি নাসিরের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত সাত বল বাকি থাকতেই চার উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে।
গাজী গ্রুপের চ্যালেঞ্জিং স্কোর
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় গাজী গ্রুপ। ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। আরেক ওপেনার ইমন আলী কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৩৪ রান সংগ্রহ করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে চাপে পড়ে দলটি। নাঈম আহমেদও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। তবে দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে হাল ধরেন প্রীতম কুমার। তিনি ৬২ বলে ৭২ রানের একটি নান্দনিক ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছয়ের মার। শেষদিকে রুবেল মিয়ার ১৭ বলে ৩৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে গাজী গ্রুপ নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২৫২ রান সংগ্রহ করে। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন আরিফ আহমেদ, যিনি চার উইকেট শিকার করেন।
চাপের মুখে নাসিরের বীরত্ব
২৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে অগ্রণী ব্যাংক। দলীয় ৮৯ রানের মধ্যেই দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে ফিরে যান। অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ১৬ রান করলেও দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন। মার্শাল আইয়ুব এবং জাহিদ জাভেদ দ্রুত আউট হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার পথেই ছিল অগ্রণী ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিজে আসেন নাসির হোসেন এবং শুভগত হোম।
ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া জুটি
ষষ্ঠ উইকেটে নাসির এবং শুভগত মিলে ১৩৯ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনেন। শুভগত হোম আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট চালিয়ে ৬৭ বলে ৭৮ রান করেন, যেখানে ১০টি বাউন্ডারির মার ছিল। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার নাসির হোসেন একপ্রান্ত আগলে রাখেন। দলের জয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবিচল ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে ৯টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে অপরাজিত ৭৮ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন নাসির। তার সঙ্গে ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
উপসংহার
এই জয় অগ্রণী ব্যাংক দলের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটায়। বিশেষ করে চাপের মুখে নাসির হোসেনের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি যে যেকোনো ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো। গাজী গ্রুপ বোলারদের ব্যর্থতা এবং নাসিরের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংই এই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। ডিপিএলের পয়েন্ট টেবিলে এই জয় অগ্রণী ব্যাংককে অনেকটা স্বস্তি এনে দেবে, পাশাপাশি দলের আত্মবিশ্বাসও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
