লিটন দাসের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ
বিপর্যয় কাটিয়ে লিটনের দাপট
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের সামনে শুরুতেই খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাসের অসাধারণ এক সেঞ্চুরি সফরকারীদের বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেছে। ১৫৯ বলে ১২৬ রানের একটি মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে লিটন দলকে ২৭৮ রানের সংগ্রহ এনে দেন। দিনের শেষভাগে পাকিস্তান ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ২১ রান সংগ্রহ করেছে, ফলে তারা এখনো ২৫৭ রানে পিছিয়ে আছে।
শুরুর ধাক্কা ও বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। মুহাম্মদ আব্বাসের বলে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মাহমুদুল হাসান জয় ডাক মেরে ফিরে গেলে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। টেস্ট অভিষেক হওয়া তানজিদ হাসান ২৬ রান করে কিছুটা ইতিবাচক আভাস দিয়েছিলেন, তবে তিনিও টিকতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ একসময় মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। বিশেষ করে খুররম শাহজাদ এবং মুহাম্মদ আব্বাসের নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দেয়।
লিটনের লড়াই ও দৃঢ়তা
যখন দলের বড় সংগ্রহের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছিল, তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন লিটন দাস। প্রথম দিকে সাবধানী থাকলেও পরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। ৯৩ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করার পর লিটন তার ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ১৩৫ বলে। ১৬টি বাউন্ডারি এবং দুটি ছক্কায় সাজানো তার এই ইনিংসটি ছিল নান্দনিকতার পরিচয়। লিটন জানান, যখন তিনি উইকেটে আসেন, তখন দলের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১৬। তার মূল লক্ষ্য ছিল দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে দেওয়া, সেঞ্চুরি তখন তার ভাবনায় ছিল না। তবে দলের প্রয়োজনে তিনি পরে নিজের খেলার গতি বাড়িয়েছিলেন।
পাকিস্তানের বোলিং নৈপুণ্য ও ক্ষেত্রবিশেষে ব্যর্থতা
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে খুররম শাহজাদ ৪টি এবং মুহাম্মদ আব্বাস ৩টি উইকেট শিকার করেন। হাসান আলি ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এসে ২টি উইকেট নেন। তবে পাকিস্তানের ফিল্ডিং ছিল কিছুটা নড়বড়ে। লিটন দাস ৩৩ রানে থাকার সময় সাজিদ খানের বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান, যা পরবর্তীতে তাদের জন্য বড় মূল্য দিতে হয়েছে। খুররম শাহজাদ ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন যে, ক্যাচগুলো নিতে পারলে বাংলাদেশ হয়তো ২০০ রানের আগেই গুটিয়ে যেত।
ম্যাচের বর্তমান প্রেক্ষাপট
প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের বিশাল জয় পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ এই টেস্টেও লড়াইয়ের মানসিকতা ধরে রেখেছে। যদিও বাংলাদেশের অন্য কোনো ব্যাটার ৩০ রানের কোটা অতিক্রম করতে পারেননি, যা দলের ব্যাটিং দুর্বলতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, পাকিস্তান দলে বাবর আজম ফিরে আসায় তাদের ব্যাটিং লাইনআপ শক্তিশালী হয়েছে।
উপসংহার
প্রথম দিনের খেলা শেষে লিটন দাসের সেঞ্চুরিই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। পাকিস্তান দল প্রথম দিন শেষে বিনা উইকেটে ২১ রান সংগ্রহ করেছে। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের বোলাররা যদি দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারে, তবেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব হবে। লিটনের এই বীরত্বপূর্ণ ইনিংসের ওপর ভিত্তি করেই সিরিজের শেষ টেস্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। আগামী দিনগুলোতে খেলা আরও জমে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
