সিলেট টেস্ট: পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সিলেট টেস্ট: শুরুতেই ধাক্কা খেয়েও ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ
সিলেটের আকাশে মেঘের ঘনঘটা ছিল সারাদিন, যেকোনো সময় বৃষ্টি নামার হুমকি ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশ করেনি, বরং মাঠের লড়াইয়ে জমজমাট এক সেশন উপহার পেয়েছে দর্শকরা। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—উভয় দলই নিজেদের আধিপত্য দেখিয়েছে। শেষ পর্যন্ত লাঞ্চ বিরতিতে স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০১ রান।
মোহাম্মদ আব্বাসের তোপ ও বাংলাদেশের সংকট
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাকিস্তানের পেসাররা শুরু থেকেই ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মাহমুদুল হাসান জয়কে স্লিপে সালমান আগার ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান মোহাম্মদ আব্বাস। তবে অভিষিক্ত তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক দারুণভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তানজিদ নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে অফসাইডে দারুণ কিছু ড্রাইভ খেলে আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ২৬ রানে আব্বাসের বলেই ভুল শটে টপ এজ হয়ে তানজিদ আউট হলে আবার চাপে পড়ে দল। এরপর খুররম শাহজাদ মুমিনুল হককে ফিরিয়ে দিলে মাত্র ৬৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ।
হাসান আলীর ইনজুরি আতঙ্ক
পাকিস্তানের জন্য প্রথম সেশনটি কেবল বোলিংয়ের জন্য স্মরণীয় ছিল না, বরং উদ্বেগেরও কারণ ছিল। নিজের বলে ক্যাচ নিতে গিয়ে মাথা মাটিতে আঘাত পান পেসার হাসান আলী। তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, এটি ছিল কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। বিরতির আগেই হাসান আলী সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরে আসেন এবং বোলিংও চালিয়ে যান।
শান্ত ও মুশফিকের দৃঢ়তা
দলের ব্যাটিং অর্ডারের বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। চাপের মুখেও তারা যেভাবে রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক খেলার ভারসাম্য বজায় রেখেছেন, তা ছিল প্রশংসনীয়। বিশেষ করে স্পিনার সাজিদ খানের বিপক্ষে তাদের সাবলীল ব্যাটিং পাকিস্তানকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। তারা দুজনে মিলে অবিচ্ছিন্ন থেকে দলের স্কোর ১০০ পার করেন এবং প্রথম সেশন শেষে দলকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেন।
ম্যাচের বাকি অংশ নিয়ে প্রত্যাশা
সিলেট টেস্টের প্রথম ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ ছিল পাকিস্তানের হাতে। কিন্তু শান্ত ও মুশফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ এখন লড়াইয়ে দারুণভাবে ফিরে এসেছে। লাঞ্চের পরবর্তী সেশনে টাইগারদের লক্ষ্য থাকবে আরও বেশি সময় ক্রিজে টিকে থেকে বড় জুটি গড়া। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পেসাররা চাইবেন নতুন বলের সুবিধা নিয়ে দ্রুত আরও কিছু উইকেট তুলে নিতে। দুই দলের শক্তির লড়াই এখন দেখার মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
- বাংলাদেশের স্কোর: ১০১/৩ (শান্ত ২৬*, তানজিদ ২৬)
- পাকিস্তানের বোলিং: মোহাম্মদ আব্বাস (২/২২)
সিলেটের এই টেস্ট যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই। ব্যাটসম্যানরা যদি ধৈর্য ধরে উইকেট আঁকড়ে রাখতে পারেন, তবেই বড় স্কোর গড়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের বোলাররা এই ট্র্যাকে কেমন নৈপুণ্য দেখান, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
