Richard Stonier bids farewell to Bangladesh cricket
বাংলাদেশ ক্রিকেটে রিচার্ড স্টোনিয়ারের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ফিটনেস এবং কন্ডিশনিং বিভাগে এক পরিচিত নাম রিচার্ড স্টোনিয়ার। অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন এই কোচ পারিবারিক কারণে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাথে তার চুক্তির সমাপ্তি টেনেছেন। তার এই বিদায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের যুব দলের জন্য একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ঐতিহাসিক অর্জনে ভূমিকা
রিচার্ড স্টোনিয়ারের নাম উচ্চারিত হলে সবার আগে মনে পড়ে ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। ওই দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধিতে স্টোনিয়ারের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তানজিম হাসান সাকিব এবং তানজিদ হাসান তামিমের মতো তরুণ তুর্কিদের আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে তার নিরলস শ্রমের কথা ক্রিকেট পাড়ায় সর্বজনবিদিত। তার সেই অসামান্য অবদানের কারণেই বিসিবি ২০২৪ সালে তাকে পুনরায় যুব দলের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনে।
বিসিবির আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা
তার বিদায়বেলায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সর্বোচ্চ সম্মানের সাথে তাকে বিদায় জানিয়েছে। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন। বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা তার ভবিষ্যৎ জীবনের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
স্টোনিয়ারের প্রতি বোর্ডের কৃতজ্ঞতা
বিসিবি এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানায়, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে রিচার্ড স্টোনিয়ারের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের মাঠের ভেতরে এবং বাইরে শক্তিশালী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে তার ডেডিকেশন এবং প্যাশন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতাই বাড়াননি, বরং তাদের মধ্যে পেশাদারিত্বের যে বীজ বুনে দিয়েছিলেন, তা বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে।
ভবিষ্যৎ পথচলায় শুভকামনা
একজন পেশাদার কোচ হিসেবে রিচার্ড স্টোনিয়ার যে মানদণ্ড স্থাপন করেছেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের কোচদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। যদিও তিনি ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশ ছাড়ছেন, তবে তার কাজের ছাপ বাংলাদেশ ক্রিকেটের মূলভিত্তিতে রয়ে যাবে। বিসিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, স্টোনিয়ারের মতো একজন দক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ কোচের সান্নিধ্য পেয়ে বিসিবি গর্বিত। আমরা তার পরবর্তী জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাফল্য কামনা করি।
উপসংহার
রিচার্ড স্টোনিয়ারের প্রস্থান বাংলাদেশ ক্রিকেটের ফিটনেস সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি যে নতুনত্বের স্বাদ এনেছিলেন, তা ধরে রাখাই এখন বিসিবির যুব উন্নয়ন প্রকল্পের মূল চ্যালেঞ্জ। তার বিদায় মানেই একটি সফল অধ্যায়ের ইতি, কিন্তু তার দেখানো পথে তরুণ ক্রিকেটাররা সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো কিছু করবে, এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেট ভক্তদের।
