Johnson and Marsh star as Australia secure 3-0 sweep of T20I series – অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত সিরিজ জয়
ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের দাপট আবারও প্রমাণ করে অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ ক্লিন সুইপ করেছে। এই জয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন স্পেন্সার জনসন এবং অধিনায়ক মিচেল মার্শ। স্পেন্সার জনসন পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে মিতব্যয়ী চার ওভারের স্পেল উপহার দিয়েছেন, যেখানে তিনি প্রতিপক্ষকে মাত্র ১০৯/৮ রানে সীমাবদ্ধ রাখতে সাহায্য করেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের অসাধারণ প্রদর্শনের পর, অধিনায়ক মিচেল মার্শ ২৭ বলে ৬০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদেই অস্ট্রেলিয়া ৯ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানার মতো বোলাররা মার্শের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় ছিলেন। এই ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক শক্তিশালী দলের পরিচয় দিয়েছে, যেখানে বোলিং ও ব্যাটিং উভয় বিভাগেই তারা ছিল অপ্রতিরোধ্য।
জনসনের পাওয়ারপ্লেতে দাপট
নিয়মিত লেগস্পিনার না হলেও, নিখিল চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ওভার বল করার সুযোগ পান। তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘুরিয়ে দেন বাঁহাতি পেসার স্পেন্সার জনসন। তিনি তাঁর চার ওভারের স্পেলে মাত্র ৬ রান খরচ করে ২ উইকেট শিকার করেন, যা তাঁর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের এক অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স। তাঁর এই মিতব্যয়ী বোলিং পরিসংখ্যান (৪-০-৬-২) অস্ট্রেলিয়ার জয়ের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।
পাওয়ারপ্লেতে জনসন প্রথম আঘাত হানেন তানজিদ হাসানকে রান আউট করে। সাইফ হাসানের শক্তিশালী ড্রাইভ জনসনের আঙুল ছুঁয়ে নন-স্ট্রাইকারের স্টাম্পে আঘাত হানে, যখন তানজিদ ক্রিজের বাইরে ছিলেন। এর ঠিক এক বল পরেই জনসন সাইফ হাসানকে ফাঁদে ফেলেন, যা মিচেল মার্শের হাতে সহজ ক্যাচে পরিণত হয়। এই দ্রুত উইকেট পতনের পর বাংলাদেশ শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। এরপর নাথান এলিস পারভেজ হোসেন ইমনের উইকেট তুলে নেন। ইমন ১৩ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন এবং জোয়েল ডেভিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তাদের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পাওয়ারপ্লে পারফরম্যান্স থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ফিল্ডিং তাদের প্রারম্ভিক সাফল্যের মূল কারণ ছিল।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
অধিনায়কত্ব করা তৌহিদ হৃদয় একাই বাংলাদেশের ইনিংসকে ধরে রেখেছিলেন, কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানরা ছিল দিশেহারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে বাংলাদেশ দল চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। অষ্টম ওভারে অ্যাডাম জাম্পা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ৩৫০তম উইকেট শিকার করেন। তিনি নূরুল হাসানকে এক দুর্দান্ত গুগলিতে বোল্ড করে দেন। জনসন শামিম হোসেনকে শূন্য রানে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন, যখন তিনি একটি হুক শট খেলার চেষ্টা করছিলেন।
নিখিল চৌধুরী তার শেষ ওভারে দুটি চার হজম করার পর রিশাদ হোসেনকে ১৬ রানে ক্যাচ ও বোল্ড করেন। এলিস এবং জাম্পা বাংলাদেশের লেজ ছেঁটে ফেলার কাজ সম্পন্ন করেন, ফলে ৮৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ আরও বিপদে পড়ে। তৌহিদ হৃদয় অবশ্য তাঁর একক প্রচেষ্টায় লড়াই চালিয়ে যান। তিনি ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন, যেখানে তাঁর ইনিংসে ছয়টি বাউন্ডারি এবং তিনটি ছক্কা ছিল। তাঁর প্রথম ছক্কাটি আসে যখন অ্যারন হার্ডি লং-অনে বলটি ধরতে ব্যর্থ হন এবং প্রাথমিকভাবে কিছুটা আঘাত পেলেও দ্রুতই মাঠে ফিরে আসেন। পরে হৃদয় মিডউইকেট দিয়ে আরও দুটি ছক্কা মারেন, কিন্তু তাঁর এই প্রচেষ্টা দলের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তিনি একাই একটি সম্মানজনক স্কোর গড়তে চেষ্টা করেন, যা অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।
মার্শের বিধ্বংসী আক্রমণ
অস্ট্রেলিয়া খুব সহজেই লক্ষ্য তাড়া করে। মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিস শরীফুল ইসলামের প্রথম ওভারেই দুটি করে চার মারেন, যা থেকে মোট ১৭ রান আসে। এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো ফরম্যাটে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রথম ওভার ছিল। মার্শ এরপর তাসকিন আহমেদকে আক্রমণ করেন, যিনি তাঁর পঞ্চম ওভারে ১৮ রান খরচ করেন। মার্শ মিড-অফ দিয়ে তাসকিনকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠান, এরপর সাইফের মিসফিল্ডিংয়ে আরেকটি চার আসে। মার্শ ওভারটি শেষ করেন একটি এজড ফোর এবং একটি ব্যাক-ফুট পাঞ্চের মাধ্যমে, যা তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রমাণ দেয়।
মার্শের এই বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথ আরও প্রশস্ত হয়। তিনি বাংলাদেশের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেন, যার ফলে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পারেনি। প্রতিপক্ষের সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে মার্শের এই নির্ভীক আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে এবং লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে তাদের কাজকে অনেক সহজ করে তোলে। তাঁর নেতৃত্বসুলভ ইনিংস দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানদেরও অনুপ্রাণিত করে, যা অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রানার উপর চড়াও
এক প্রান্তে যখন অন্য বোলাররা রান বিলি করছিলেন, তখন নাসুম আহমেদ তাঁর প্রান্তে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন। তিনি অবশেষে তাঁর ষষ্ঠ ওভারে জশ ইংলিসের উইকেট পান, যিনি ১৭ রান করে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দেন। ইংলিস অবশ্য মার্শের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৪ রান যোগ করে দলকে একটি মজবুত সূচনা এনে দিয়েছিলেন।
ইংলিসের বিদায়ের পরও মার্শ থামেননি। তিনি বাংলাদেশের দ্রুততম বোলার নাহিদ রানাকে স্কয়ার-লেগ দিয়ে একটি ছক্কা মারেন, এরপর ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে পরপর দুটি বাউন্ডারি হাঁকান। কুপার কনোলি রানা’র উপর চড়াও হন, যখন তিনি তাঁর প্রথম ওভারে রানাকে মিড-অফ এবং পয়েন্টের উপর দিয়ে মারেন, যা থেকে রানা ২০ রান খরচ করেন। মার্শ শরীফুল ইসলামকে এক্সট্রা কভার দিয়ে তাঁর চতুর্থ ছক্কা মারেন, কিন্তু পরের বলেই আউট হয়ে যান। মার্শ তাঁর ইনিংসে মোট এগারোটি বাউন্ডারি মারেন। এরপর টিম ডেভিড রিশাদ হোসেনের বলে দুটি ছক্কা মেরে ম্যাচটি শেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ ক্লিন সুইপ নিশ্চিত করেন। এই জয় অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলের গভীরতা এবং সক্ষমতাকে তুলে ধরে, যা তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
