Gill toasts a top-order headache after Jaiswal’s century
ভারতের ওয়ানডে পরিকল্পনায় নতুন তারুণ্যের জোয়ার
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে ভারতের ৩-০ ব্যবধানে জয় কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল ইঙ্গিত। দলের অধিনায়ক শুভমন গিলের কণ্ঠে এখন সেই সুরই শোনা যাচ্ছে। তরুণ যশস্বী জয়সওয়ালের ব্যাটে সেঞ্চুরি এবং দলের অন্যান্য ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স গিলের জন্য তৈরি করেছে এক ‘মধুর সমস্যা’।
যশস্বী জয়সওয়ালের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
লখনউতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যর্থ হওয়ার পর চেন্নাইয়ের তৃতীয় ম্যাচে যশস্বী জয়সওয়াল যেভাবে নিজের জাত চিনিয়েছেন, তা এক কথায় অনবদ্য। অপরাজিত সেঞ্চুরির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে ভবিষ্যতের তারকা বলা হচ্ছে। রোহিত শর্মার সঙ্গে তার জুটি এবং রোহিতের অপরাজিত ৭৯ রানের ইনিংস ভারতকে ২১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে বিশেষ সহায়তা করেছে। Gill toasts a top-order headache after Jaiswal’s century—এই শিরোনামেই স্পষ্ট যে টপ অর্ডারে এখন প্রচুর বিকল্প হাতে রয়েছে ভারতের। যশস্বীর মতে, দলের সাপোর্ট স্টাফদের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনই তার এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি নিজের প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দলের ম্যানেজমেন্টের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
ভবিষ্যতের ওপেনার ও দলের গভীরতা
শুভমন গিল, রোহিত শর্মা, যশস্বী জয়সওয়াল এবং ঈশান কিষাণ ছাড়াও ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট এখন বি সাই সুদর্শনকে ওয়ানডে ওপেনার হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছে। সহকারী কোচ রায়ান টেন ডাশকাট জানিয়েছেন যে, ইংল্যান্ড সফরের আগে ভারতের হাতে এখন প্রচুর বিকল্প রয়েছে। গিল জানান, ফিটনেস এবং ফর্মের ওপর ভিত্তি করেই ইংল্যান্ড সফরের সেরা একাদশ নির্বাচন করা হবে। তিনি বলেন, ‘দলের সকল খেলোয়াড় যখন পারফর্ম করে, তখন অধিনায়ক হিসেবে এই ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোই লাগে।’
বোলিং বিভাগে নতুন মুখ গুরনূর ব্রার
এই সিরিজে ভারতের জন্য বড় প্রাপ্তি ছিল তরুণ ফাস্ট বোলার গুরনূর ব্রার। ২১ বছর বয়সী এই বোলার সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছেন। ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করার ক্ষমতা এবং বাউন্স আদায় করার দক্ষতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। যদিও গিল মনে করেন, ব্রার এখনও সম্পূর্ণ পরিণত নন। তিনি জানান, ‘অভিজ্ঞতার অভাবে সে কিছু জায়গায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে তার শারীরিক গঠন এবং গতির যে ছাপ সে রেখেছে, তা ভবিষ্যতে তাকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলবে।’
হার্শ দুবে: দলের নতুন অলরাউন্ডার?
স্পিন অলরাউন্ডার হার্শ দুবে এই সিরিজে ভারতের জন্য অন্য একটি ইতিবাচক দিক। ধরমশালা এবং চেন্নাইয়ের মতো কন্ডিশনে যেখানে স্পিনারদের জন্য খুব একটা সহায়তা ছিল না, সেখানেও তিনি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। ব্যাট হাতে খুব একটা সুযোগ না পেলেও, ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ব্যাটিং দক্ষতা প্রশ্নাতীত। গিল মনে করেন, হার্শ দুবে দলের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসেবে ভবিষ্যতে কাজ করতে পারেন। রবীন্দ্র জাদেজা ও অক্ষর প্যাটেলের মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি হার্শের মতো তরুণদের ওপর আস্থা রাখাটা এখন জরুরি। শেষ দশ ওভারে যখন অনেক রানের প্রয়োজন হবে, তখন হার্শের মতো ক্রিকেটাররা দলের জন্য বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে গিল বিশ্বাস করেন।
উপসংহার
ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান গভীরতা এখন ঈর্ষণীয়। টপ অর্ডারে জয়সওয়ালের মতো ব্যাটার, বোলিংয়ে ব্রারের মতো গতি এবং অলরাউন্ডার হিসেবে দুবের মতো প্রতিভা—সব মিলিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে ভারত এখন অনেকটাই এগিয়ে। শুভমন গিলের এই নেতৃত্ব এবং তরুণদের প্রতি তার বিশ্বাস ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী ইংল্যান্ড সফরে ভারতের চূড়ান্ত একাদশ কী হবে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।
