Visa issues force Cambodia to forfeit ACC Men’s Challenger Cup games
টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় কম্বোডিয়ার
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) মেনস চ্যালেঞ্জার কাপে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। Visa issues force Cambodia to forfeit ACC Men’s Challenger Cup games—এই শিরোনামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে খবরটি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে কম্বোডিয়া তাদের ম্যাচগুলো থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে, যার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে খেলোয়াড়দের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা।
কী ঘটেছিল সিঙ্গাপুরে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার তিন খেলোয়াড় সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর ভিসা জটিলতার মুখে পড়েন এবং তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর সাথে একজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়ায় দলের মোট সদস্য সংখ্যা এমন পর্যায়ে নেমে আসে যে, পূর্ণাঙ্গ দল গঠন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করতে হয়। এর সরাসরি প্রভাবে তাদের গ্রুপে থাকা ইন্দোনেশিয়া এবং উজবেকিস্তান কোনো ম্যাচ না খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
ভিসা নিয়ে রহস্য
কেন কম্বোডিয়ার খেলোয়াড়দের ভিসা দেওয়া হয়নি, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব কম্বোডিয়া (CAC) এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইএসপিএনক্রিকইনফোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
কম্বোডিয়া ক্রিকেটের বিতর্কিত অতীত
২০২২ সালে আইসিসির অ্যাসোসিয়েট সদস্যপদ পাওয়ার পর ২০২৩ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় গেমসে কম্বোডিয়া তাদের প্রথম অফিসিয়াল টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল। তবে সেই সময় থেকেই তাদের দল গঠন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ছিল। তৎকালীন দলে ১৩ জন ভারত বা পাকিস্তান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় ছিলেন, যাদের টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে কম্বোডিয়ার পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। দলের অধিনায়ক লুকমান বাটসহ অধিকাংশ খেলোয়াড়ই পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
সেই টুর্নামেন্টে কম্বোডিয়া টি-টোয়েন্টি, টি-১০ এবং ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছিল। তবে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড এই ধরনের খেলোয়াড়দের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছিল। মালয়েশিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন সে সময় প্রশ্ন তুলেছিল যে, শর্টলিস্ট জমা দেওয়ার তারিখ পার হওয়ার পর কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড়ের নাগরিকত্ব পরিবর্তন করা হলো।
টুর্নামেন্টের ফরম্যাট ও প্রভাব
এবারের এসিসি মেনস চ্যালেঞ্জার কাপে মোট দশটি দল অংশগ্রহণ করেছিল, যার মধ্যে আটটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পাচ্ছিল। কম্বোডিয়ার এই দুর্ভাগ্যজনক বিদায়ের ফলে তাদের গ্রুপের সমীকরণ বদলে যায় এবং অন্য দুটি দল সরাসরি পরবর্তী রাউন্ডে চলে যায়। টুর্নামেন্টের এই ফরম্যাটে মূলত একটি দলকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও, ভিসা জটিলতা পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন মোড় দিয়েছে।
উপসংহার
ক্রিকেটের বৈশ্বিক প্রসারে এ ধরনের ঘটনাগুলো কিছুটা হতাশাজনক। তবে নিয়ম এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না চললে যে কোনো দেশের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনই এমন বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। কম্বোডিয়া ক্রিকেটের জন্য এবারের চ্যালেঞ্জার কাপ এক বড় শিক্ষা হয়ে রইল। ভবিষ্যতে ভিসা এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
