News

Campbelle repays the faith to stun defending champions: ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের চমক

Nikhil Rao · · 1 min read

একটি স্মরণীয় জয়: শেমান ক্যাম্পবেলের বীরত্ব

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দল তাদের সামর্থ্যের দারুণ প্রমাণ রেখেছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাত উইকেটের জয়টি কেবল একটি জয় ছিল না, বরং এটি ছিল দলের বিশ্বাস আর দৃঢ়তার এক অনন্য নিদর্শন। হেড কোচ শেন ডেইটজ মনে করেন, শেমান ক্যাম্পবেল এই দলের ‘হৃদয় ও আত্মা’। তার ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক হাফ-সেঞ্চুরি এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৯০ রানের ইনিংসটি ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

২০০৯ সালে ক্যারিয়ার শুরু করার পর এটিই ছিল ক্যাম্পবেলের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি। ১৫৫ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ব্যাটার তার পাওয়ার হিটিংয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন কেন টিম ম্যানেজমেন্ট তার ওপর আস্থা রেখেছিল। স্ট্যাফানি টেলর ও চিনেল হেনরির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ক্যাম্পবেল। ৬২ বলে অপরাজিত ৯০ রানের এই ইনিংসটিতে ছিল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কার মার। ইনিংসের শেষ বলে লেগ-বাই থেকে জয়সূচক রানটি নিয়ে তিনি যখন মাঠ ছাড়েন, তখন তার চোখে ছিল আবেগ আর মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি।

কোচের আস্থার প্রতিফলন

প্রধান কোচ শেন ডেইটজ ম্যাচ শেষে বলেন, ‘সে আমাদের দলের প্রাণ। তার পরিসংখ্যান হয়তো সবসময় আকাশচুম্বী ছিল না, কিন্তু দলের প্রতি তার নিবেদন এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা অতুলনীয়। আমরা সবসময় তার ওপর বিশ্বাস রেখেছি, কারণ আমরা জানি সে কতটা দক্ষ খেলোয়াড়। আজকের পারফরম্যান্স আমাদের সেই বিশ্বাসের প্রতিদান।’ ডেইটজ আরও যোগ করেন যে, তারা দলের প্রত্যেককে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হওয়ার লক্ষ্যে উৎসাহিত করেন এবং ক্যাম্পবেল আজ সেই লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাওয়ার-হিট ও কৌশলী ক্রিকেট

ম্যাচটিতে ক্যাম্পবেলকে বেশ কয়েকবার ভাগ্যের সহায়তাও নিতে হয়েছে। দুটি ক্যাচ ড্রপ, একটি স্টাম্পিং মিস এবং এলবিডব্লিউর রিভিউ থেকে বেঁচে যাওয়া—সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডারদের জন্য দিনটি ছিল দুঃস্বপ্নময়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই আগ্রাসী ক্রিকেট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। ডেইটজের মতে, দলের ডিএনএ-তে থাকা পাওয়ার হিটিংয়ের ওপরই তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ব্যাটিং স্টাইল পরিবর্তন করেছি। আমরা এখন মাঠের ফিল্ডারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বেশি পাওয়ার হিটিং প্র্যাকটিস করছি। এটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের আসল ধরন।’

দলের অভ্যন্তরে ছোটখাটো উত্তেজনা

জয় পেলেও ম্যাচের মাঝে কিছু উত্তপ্ত মুহূর্তও ছিল। কিয়ানা জোসেফের রান-আউটের ঘটনা এবং অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউসের সাথে তার কিছুটা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় অনেকের নজর কেড়েছে। তবে কোচ ডেইটজ একে খেলারই অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন উত্তেজনা থাকতেই পারে, এটি কোনো বড় বিষয় নয়। আমি বরং তাদের এই জেদ বা লড়াই করার স্পৃহাটা পছন্দ করি।’

নিউজিল্যান্ডের ব্যর্থতা ও ভবিষ্যতের পথ

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড দল তাদের ফিল্ডিং নিয়ে হতাশ। দলের পক্ষ থেকে ম্যাডি গ্রিন জানান, এটি ছিল তাদের জন্য একটি অত্যন্ত খারাপ দিন। ফিল্ডিংয়ে একের পর এক ভুল তাদের জেতার সুযোগ কমিয়ে দেয়। নিউজিল্যান্ডকে এখন দ্রুতই ভুলগুলো শুধরে পরবর্তী ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের জন্য এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি ছিল বিনোদনের দারুণ খোরাক। ক্যাম্পবেলের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যখন জ্বলে ওঠেন, তখন বড় বড় প্রতিপক্ষও যে অসহায় হয়ে পড়ে, তা আবারও প্রমাণিত হলো এই ম্যাচে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দল এখন তাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.