Maia Bouchier fifty leads Hampshire to victory again
একটি দাপুটে জয় হ্যাম্পশায়ারের
ব্ল্যাকপুলের প্রতিকূল কন্ডিশন এবং দমকা হাওয়া উপেক্ষা করে হ্যাম্পশায়ার নারী দল ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডারের বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে। এই ম্যাচে মায়া বুশিয়ে ফিফটি লিডস হ্যাম্পশায়ার টু ভিক্টোরি এগেইন – এই শিরোনামটিই যেন পুরো ম্যাচের সারসংক্ষেপ। দলের প্রয়োজনে মায়া বুশিয়ে তার ব্যাটিং সামর্থ্যের পূর্ণ প্রমাণ দিয়েছেন এবং অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে সহজ জয় পাইয়ে দিয়েছেন।
ম্যাচের শুরু এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয়
টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডারের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। হ্যাম্পশায়ারের বোলাররা শুরু থেকেই তাদের চেপে ধরেন। নওমি ডাটানি এবং জর্জিয়া অ্যাডামস দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেন। মাত্র ২৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ল্যাঙ্কাশায়ারকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন মেগ ল্যানিং এবং অধিনায়ক এলি থ্রেলকেল্ড। ল্যানিং তার স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়ে ৪১ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তবে বড় সংগ্রহের দিকে এগোতে থাকা ল্যাঙ্কাশায়ারকে বড় ধাক্কা দেন বেক্স টাইসন। ল্যানিংয়ের আউট হওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৩০ রানে থামে তাদের ইনিংস। হ্যাম্পশায়ারের বোলিং লাইনআপ ছিল নিয়ন্ত্রিত এবং কার্যকর। বিশেষ করে ডাটানি এবং অ্যাডামসের প্রথমদিকের স্পেল ল্যাঙ্কাশায়ারের টপ অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দেয়।
মায়া বুশিয়ে ও জর্জিয়া অ্যাডামসের দাপুটে ব্যাটিং
১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হ্যাম্পশায়ার শুরুতে ধাক্কা খায়। ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় দলটি। তবে এরপরই শুরু হয় মায়া বুশিয়ে এবং জর্জিয়া অ্যাডামসের পাল্টা লড়াই। বুশিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। তিনি কেট ক্রসের ওভার থেকে ১০ রান তুলে নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার ১১৪ রানের একটি দুর্দান্ত জুটি গড়েন। বুশিয়ে তার হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন মাত্র ৩৭ বলে, যাতে ছিল ছয়টি চার এবং একটি বিশাল ছক্কা। অন্যদিকে, অধিনায়ক জর্জিয়া অ্যাডামস ৪৮ রান করে রান আউট হলেও দলের জয় তখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ১৬তম ওভারেই হ্যাম্পশায়ার জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
বিশ্বকাপের উপেক্ষিত তারকার জবাব
মায়া বুশিয়েকে ইংল্যান্ডের আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বেশ আলোচনা ছিল। তবে এই ম্যাচে তিনি তার জাত চিনিয়েছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন কেন তাকে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার এই ইনিংসটি কেবল হ্যাম্পশায়ারের জয়ে ভূমিকা রাখেনি, বরং নির্বাচকদের আবারও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
ল্যাঙ্কাশায়ারের কঠিন বাস্তবতা
অন্যদিকে, ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডারের জন্য এটি ছিল টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ ম্যাচ এবং পঞ্চম পরাজয়। দলের বোলাররা হ্যাম্পশায়ারকে চাপে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ফিল্ডিংয়েও ছিল গাফিলতি। বিশেষ করে জর্জিয়া অ্যাডামসের একটি ক্যাচ মিস হওয়ার মাশুল তাদের দিতে হয়েছে। দলের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের এই ভারসাম্যহীনতা তাদের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ঠেলে দিয়েছে।
উপসংহার
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে হ্যাম্পশায়ার তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। মায়া বুশিয়ে ফিফটি লিডস হ্যাম্পশায়ার টু ভিক্টোরি এগেইন – এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে অভিজ্ঞ এবং ফর্মে থাকা খেলোয়াড়রা কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আগামী ম্যাচগুলোতেও হ্যাম্পশায়ার এই ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে। ল্যাঙ্কাশায়ারের জন্য অবশ্য এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়, নতুবা টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় ঘণ্টা আরও দ্রুত বেজে উঠতে পারে।
