Bijoy says domestic cricket is the foundation of Bangladesh cricket
ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব নিয়ে বিজয়ের জোরালো বার্তা
বাংলাদেশি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এনামুল হক বিজয় মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়। তবে এবার তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের মর্যাদা রক্ষায় তার সাহসী অবস্থানের কারণে। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের আবহে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব নিয়ে যে দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন, তা ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটই জাতীয় দলের মূল ভিত্তি
বিজয় তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে বলেছেন, Bijoy says domestic cricket is the foundation of Bangladesh cricket। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং ঘরোয়া ক্রিকেটকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ঘরোয়া লিগগুলো—যেমন এনসিএল (NCL), বিসিএল (BCL), বিপিএল (BPL) এবং ডিপিএল (DPL)—হলো সেই মূল মঞ্চ, যেখানে একজন খেলোয়াড় নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়। একজন তরুণ উদীয়মান তারকা হোক বা জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়া অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, প্রত্যেকের জন্যই ঘরোয়া ক্রিকেট হলো জাতীয় দলে ফেরার একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ।
যোগ্যতা প্রমাণের লড়াই
বিজয় আরও জানান, ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনো খেলোয়াড়কে তার পরিচিতি বা বয়স দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই। এখানে তাকে লড়াই করতে হয় অভিজ্ঞ এবং প্রতিষ্ঠিত বোলার বা ব্যাটারদের বিপক্ষে। এই কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই একজন খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তোলে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক তারকাদের সাফল্যের পেছনেও রয়েছে এই ঘরোয়া কাঠামোর কঠোর পরিশ্রম।
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভাজন
৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হওয়া কৃত্রিম বিভাজন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, আজকের যারা আন্তর্জাতিক তারকা, তারাও তো এই ঘরোয়া সিস্টেম থেকেই উঠে এসেছেন। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটকে ছোট করে দেখার অর্থ হলো সামগ্রিকভাবে দেশের ক্রিকেট কাঠামোকে দুর্বল করে ফেলা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কেউ ভালো করুক বা ব্যর্থ হোক, তার ভিত্তিটা কিন্তু একই জায়গায় থেকে তৈরি হয়।
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন গড়ার কারখানা
বিজয় ক্যারিয়ারে ৮টি টেস্ট, ৪৯টি ওয়ানডে এবং ২০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তিনি মনে করেন, আমাদের ঘরোয়া কাঠামোকে আরও শ্রদ্ধা করা উচিত। এটি কেবল কয়েকটি ম্যাচের সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি স্বপ্ন গড়ার কারখানা। এখানেই নতুন প্রতিভা খুঁজে পাওয়া যায় এবং এখান থেকেই জাতীয় দলের দরজা উন্মুক্ত হয়।
উপসংহার
পরিশেষে, বিজয় ক্রিকেট অনুরাগী এবং সমালোচক সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ঘরোয়া ক্রিকেটকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে হলে ঘরোয়া আসরগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং সমাদৃত করতে হবে। বিজয়ের এই বক্তব্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মাঠের বাইরের আলোচনা বা সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডের চেয়ে মাঠের ক্রিকেটই আসল, আর সেই মাঠের আসল লড়াইটা শুরু হয় ঘরোয়া লিগ থেকেই।
দেশের ক্রিকেটের উন্নতি চাইলে ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটা টুর্নামেন্টকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। বিজয়ের এই বার্তা দেশের ক্রিকেটের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে ভক্তদের কাছে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ, ভিত্তি নড়বড়ে থাকলে প্রাসাদ শক্ত হয় না, আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই শক্ত ভিত্তি হলো আমাদের প্রিয় ঘরোয়া ক্রিকেট।
