Latest Cricket News

Vikram Rathour makes funny Vaibhav Sooryavanshi confession after Jofra Archer’s – ভাইবভ সূর্যবংশীকে নেটে কে আউট করেন? জফ্রা আর্চারের হাসি ও বিক্রম রাঠোরের মজার স্বীকারোক্তি!

Nikhil Rao · · 1 min read

আইপিএল ২০২৬-এর আসর যেন এক নতুন তারকার জন্ম দিয়েছে, যার নাম ভাইবভ সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ ওপেনারকে থামানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না প্রতিপক্ষের বোলাররা। এই মৌসুমে তিনি যেভাবে বোলারদের ওপর চড়াও হচ্ছেন, তাতে ১৫ বছর বয়সী এই বিস্ময়বালককে আটকাতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক বোলাররাও। তার নির্ভীক ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছে, কোনো বোলিং আক্রমণের প্রতিই তার বিন্দুমাত্র ভয় নেই।

ভাইবভ সূর্যবংশীর অপ্রতিরোধ্য ফর্ম: বোলারদের দুশ্চিন্তা

আইপিএলের এই মৌসুমে ভাইবভ সূর্যবংশী যেন বিধ্বংসী মেজাজে রয়েছেন। তার ব্যাট থেকে রানের ফোয়ারা ছুটছে আর প্রতিপক্ষের বোলাররা শুধু তাকিয়েই দেখছেন। অভিজ্ঞ থেকে অনভিজ্ঞ, কোনো বোলারই যেন এই কিশোরের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারছেন না। পাওয়ারপ্লে হোক বা মাঝের ওভার, ভাইবভ নিজের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে চলেছেন, যা দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ফল আনছে। প্রতিটি ম্যাচেই তিনি যেভাবে ইনিংস শুরু করছেন, তা প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই চাপে ফেলে দিচ্ছে এবং রাজস্থান রয়্যালসের বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করছে। তার এই ধারাবাহিক ও আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ব্যাটারদের কাতারে নিয়ে এসেছে।

জফ্রা আর্চারের মজার জবাব: নেটের রহস্য

সম্প্রতি, আইপিএল ২০২৬-এর এলিমিনেটরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে হারিয়ে যখন রাজস্থান রয়্যালস কোয়ালিফায়ার ২-এ জায়গা করে নিল, তখন ইংল্যান্ডের গতি তারকা জফ্রা আর্চারকে একটি মজার প্রশ্ন করা হয়েছিল। ম্যাচ পরবর্তী এক আলোচনায় তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, অনুশীলনে তিনি ভাইবভকে ঠিক কোথায় বল করেন? প্রশ্ন শুনে জফ্রা আর্চার শুধু হাসলেন এবং সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বললেন, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরেই তিনি এই বিষয়ে কথা বলবেন। তার এই রসিক উত্তর সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছিল। তবে একই সাথে এটি আবারও প্রমাণ করে দিল যে এই তরুণ ব্যাটার পুরো টুর্নামেন্টে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছেন। এমনকি নিজের দলের সতীর্থরাও হয়তো তার ব্যাটিং রহস্য নিয়ে খুব একটা মুখ খুলতে চান না, পাছে তাদের গোপন কৌশল ফাঁস হয়ে যায়!

বিক্রম রাঠোরের মজার স্বীকারোক্তি: ‘একমাত্র আমিই ওকে আউট করি!’

আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজস্থান রয়্যালস শিবিরে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যিনি দাবি করেন যে তিনি নিয়মিত নেটে ভাইবভকে আউট করতে পারেন! আর তিনি হলেন দলের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর। ভারতের প্রাক্তন এই ব্যাটিং কোচ মজা করে বলেছেন যে, সম্ভবত তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি অনুশীলনে ভাইবভকে প্রায়শই আউট করতে পারেন। সুনীল গাভাস্কার একটি লাইভ সম্প্রচারে রাঠোরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে দলের মধ্যে কেউ এই কিশোরকে ব্যাটিং করার সময় থামাতে পারে কিনা। উত্তরে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং কোচ হেসে জানান যে, তিনি সাইডআর্ম থ্রো-ডাউনের মাধ্যমে নিয়মিত তাকে নেটে আউট করেন। কিন্তু কোচ তার সেই ‘গোপন কৌশল’ ফাঁস করতে রাজি হননি!

রাঠোর সবার মধ্যে কৌতূহল জিইয়ে রেখেছিলেন এবং ব্যাখ্যা করতে অস্বীকার করেন যে অনুশীলনের সময় তিনি ঠিক কীভাবে এই তরুণ খেলোয়াড়কে সমস্যায় ফেলেন। বিক্রম রাঠোর বলেছিলেন, “আমার মনে হয়, একমাত্র আমিই। আমি আমার স্টিক দিয়ে বল থ্রো করি, এবং আমি ওকে প্রায়শই আউট করি। তবে কেন, সেটা আমি আপনাদের বলছি না!” তার এই মন্তব্য শুনে সবাই আরও অবাক হয়েছিলেন। এই মজার স্বীকারোক্তি দলের মধ্যে ইতিবাচক এবং হালকা পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়, যা একজন তরুণ খেলোয়াড়ের বিকাশে খুব জরুরি।

কোচের সহজ দর্শন: ‘কিছু না বলাই ভালো’

তবে রাঠোর স্বীকার করেছেন যে ভাইবভকে কোচিং করানো খুব জটিল কাজ নয়। কারণ এই কিশোর অবিশ্বাস্য ছন্দে ব্যাট করছেন। অভিজ্ঞ কোচ ব্যাখ্যা করেন যে, যখন একজন ব্যাটার এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকেন, তখন একজন কোচের জন্য সেরা কাজ হলো চুপ করে থাকা এবং খেলোয়াড়কে তার খেলা উপভোগ করতে দেওয়া। তিনি মনে করেন, একজন খেলোয়াড় যখন তার সেরা ফর্মে থাকে, তখন অতিরিক্ত নির্দেশ বা কৌশল চাপিয়ে দেওয়া হিতে বিপরীত হতে পারে।

রাঠোর বলেন, “সত্যি বলতে, ও যেভাবে ব্যাট করছে, একজন কোচ হিসেবে আমি যা শিখেছি তার মধ্যে অন্যতম প্রধান বিষয় হলো, কখনও কখনও কিছু না বলাই ভালো। আর যখন কেউ এমন ছন্দে ব্যাট করে, তখন সেটি একটি নিখুঁত প্রবাহ। তাই আমি ওকে কিছুই বলছি না। শুধু নিজের ব্যাটিং উপভোগ করো, ভালো ব্যাট করার চেষ্টা করো, ব্যস এটুকুই।” এই দর্শন আধুনিক ক্রিকেটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে খেলোয়াড়দের সহজাত প্রতিভা বিকাশে সুযোগ দেওয়া হয়।

ভাইবভের সবচেয়ে বড় শক্তি: মানসিকতা ও শেখার ক্ষমতা

কোচ বিশ্বাস করেন যে ভাইবভের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার মানসিকতা। এই তরুণ খেলোয়াড় কোনো বোলারকে ভয় পান না এবং সব সময় স্কোর করার সুযোগ খোঁজেন। তিনি নেপথ্যে কঠোর পরিশ্রমও করেন এবং প্রতিটি পরিস্থিতি থেকে দ্রুত শেখেন। রাঠোর মনে করেন, যখনই দলগুলো তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো পরিকল্পনা করে, ভাইবভ খুব দ্রুত মানিয়ে নেন এবং আক্রমণের অন্য উপায় খুঁজে বের করেন। আর সে কারণেই এই মৌসুমে বোলাররা তাকে থামাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তার এই দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং খেলার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

তিনি আরও যোগ করেন, “তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজের খেলার ওপর কাজ করা। সে প্রায় একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের মতো, যেভাবে সে এখন ব্যাট করছে। তবে সে যেভাবে তার ক্রিকেট নিয়ে ভাবে, সেটিও তার একটি বড় শক্তি। লোকেরা যাই চেষ্টা করুক না কেন, সে তাতে সাড়া দিচ্ছে। সবকিছু ভালোভাবে গ্রহণ করে। সে অনুশীলন করে। আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে তার সব ধরনের শট আছে। এ পর্যন্ত সে যা কিছুর মধ্য দিয়ে গেছে, তাতে সে উজ্জ্বলভাবে সাড়া দিয়েছে। দেখা যাক, সে কতদূর যায়।” ভাইবভের এই প্রশংসা তার কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিক দৃঢ়তার ফল। এই তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে পারেন, এমনটাই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তার পারফরম্যান্স এবং খেলার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তাকে দীর্ঘ পথ নিয়ে যাবে নিশ্চিতভাবে।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.