“We Won, And That Was The Start Of Modern Cricket” – Lalit Modi opens up on IPL’ – আইপিএলের জন্মকথা: আধুনিক ক্রিকেটের বিপ্লব নিয়ে মুখ খুললেন ললিত মোদী
আইপিএলের নেপথ্যের লড়াই ও ললিত মোদীর দর্শন
ভারতীয় ক্রিকেটের আধুনিক রূপান্তরের কথা বললে যে নামটি সবার আগে আসে, তা হলো ললিত মোদী। ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর মাধ্যমে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটে যে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, তার পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতির ইতিহাস। সম্প্রতি ঋদ্ধিমা পাঠকের ইউটিউব শো ‘ব্যাড ডিসিশনস’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ললিত মোদী আইপিএলের জন্মলগ্নের সেই নাটকীয় দিনগুলোর কথা তুলে ধরেছেন।
বিসিসিআই নির্বাচনে ক্ষমতার লড়াই
ললিত মোদীর দাবি, আইপিএলের এই বিশাল স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে বিসিসিআই-এর জটিল রাজনীতির বৈতরণী। তিনি জানান, ২০০৫ সালের বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শরদ পাওয়ারকে জেতানোর পেছনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই সময় জগমোহন ডালমিয়ার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করাটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। মোদী বলেন, ‘আমরা শরদ পাওয়ারকে নির্বাচনে লড়ার জন্য রাজি করিয়েছিলাম। আমরা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কিন্তু এক ভোটের ব্যবধানে হেরে যাই। আমাদের দলের ভেতর থেকেই বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছিল।’
সেই সময়কার পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘নির্বাচনে জেতার জন্য সব পক্ষই মরিয়া ছিল। এমনকি বিপক্ষ দলের সদস্যদের বিমান ঘুরিয়ে দেওয়া বা তাদের হোটেল রুমে আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে। আমরাও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তাদের কিছু সদস্যের ফ্লাইট অন্য দিকে ডাইভার্ট করেছিলাম। এটা ছিল সম্মানের লড়াই।’
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও মোদীর মোক্ষম চাল
২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর ছিল ললিত মোদীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। কলকাতার সেই নির্বাচনে জগমোহন ডালমিয়া গোষ্ঠীর প্রভাব মোকাবিলা করতে মোদী এক সাহসী পদক্ষেপ নেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি আদেশ নিয়ে এসেছিলেন, যার ফলে দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নির্বাচনের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সেই দিনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মোদী বলেন, ‘মিটিং শুরু হওয়ার সময় ডালমিয়া সাহেব ভাবতেও পারেননি কী হতে যাচ্ছে। আমি ঠিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টের সেই আদেশ উপস্থাপন করি। এরপর পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করতে হয়েছিল। আমাদের জয় ছিল নিশ্চিত, আর সেই জয়ই আধুনিক ক্রিকেটের বিপ্লবের সূচনা করেছিল।’
আধুনিক ক্রিকেটের পথে আইপিএল
ললিত মোদীর মতে, শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বে বিসিসিআই-এর ক্ষমতা পরিবর্তনের পরই ভারতীয় ক্রিকেটে আধুনিকায়ন শুরু হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল এবং বিনোদনের মিশেলে আইপিএল গড়ার স্বপ্নটি মূলত আমেরিকান স্পোর্টস লিগগুলো থেকে অনুপ্রাণিত ছিল। মোদী বলেন, ‘বিসিসিআই যখন আমার শহরের ভিত্তিতে ঘরোয়া লিগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল, তখনই আমি বুঝতে পারি বড় কিছু করতে হবে। ভারতীয় ক্রিকেটের বিশাল আবেদন আর বলিউডের গ্ল্যামারকে মিলিয়েই আমি আইপিএল সাজিয়েছি।’
তিনি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সেই সময় অনুরাগ ঠাকুর, অরুণ জেটলি বা এন শ্রীনিবাসনের মতো প্রভাবশালীরা ডালমিয়া গোষ্ঠীর সাথেই ছিলেন। কিন্তু merit-based বা যোগ্যতার ভিত্তিতে লড়ে তারা জয়ী হয়েছিলেন। এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য ছিল না, বরং এটি ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ও পেশাদার কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।
উপসংহার
আজকের দিনে আইপিএল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান স্পোর্টস লিগ। ললিত মোদীর সেই দূরদর্শী পদক্ষেপ এবং বিসিসিআই-এর অন্দরমহলের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিবাচক পরিণতির কারণেই আজ ভারত ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ক্রিকেট কেবল মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ললিত মোদীর হাত ধরে একটি বিশাল বৈশ্বিক বিনোদনের শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে।
