‘Really special’ – Yastika flourishes after her long road back – দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন: যস্তিকা ভাটিয়ার ব্যাটে ভারতের জয়
ইনজুরি কাটিয়ে যস্তিকার রূপকথার প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা একজন ক্রিকেটারের জন্য নতুন করে শুরুটা মোটেও সহজ নয়। হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর যস্তিকা ভাটিয়ার কাছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটা ছিল অনেকটা শূন্য থেকে শুরু করার মতো। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক টি২০ ম্যাচে তার ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি যে তিনি দুই বছরেরও বেশি সময় পর এই ফরম্যাটে ব্যাট করছেন। তার অনবদ্য অর্ধশতক ভারতকে এনে দিল এক দাপুটে জয়।
ম্যাচের শুরুটা ভারতের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। লরেন বেলের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে প্রথম ওভারেই স্মৃতি মান্ধানা এবং শেফালি ভার্মাকে হারিয়ে ভারত যখন ৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন দলের হাল ধরেন যস্তিকা এবং জেমিমা রড্রিগেজ। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরকে ছাড়াই খেলতে নামা ভারতীয় দলের জন্য এই জুটিটি ছিল অক্সিজেনসম।
যস্তিকা ও জেমিমার আস্থার লড়াই
চেমসফোর্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে যস্তিকা এবং জেমিমা মিলে ১২৬ রানের এক বিশাল জুটি গড়েন। জেমিমা তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ৪০ বলে ৬৯ রান সংগ্রহ করেন এবং যস্তিকাও সমান সংখ্যক বল খেলে ৫৪ রান করে দলের ভিত গড়ে দেন। ম্যাচ শেষে যস্তিকা তার অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘এটি সত্যিই বিশেষ কিছু। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে সতীর্থদের যে সমর্থন পেয়েছি, তা আমাকে অভিভূত করেছে। অস্ত্রোপচারের পর রিহ্যাব প্রক্রিয়ার দিনগুলো ছিল খুব কঠিন, অনেক সময় মনে হতো কোনো উন্নতিই হচ্ছে না। তবে জেমিমা এবং দলের ম্যানেজমেন্ট যেভাবে পাশে ছিল, তা আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।’
অভিষিক্ত নন্দিনীর দুর্দান্ত বোলিং
এই ম্যাচের আরেকটি বড় প্রাপ্তি হলো তরুণ পেসার নন্দিনী শর্মার আন্তর্জাতিক অভিষেক। ২৪ বছর বয়সী এই বোলার তার প্রথম ম্যাচেই ৩টি উইকেট শিকার করে বুঝিয়ে দিলেন যে তিনি দীর্ঘ রেসের ঘোড়া। অ্যামি জোন্স এবং দ্যানি গিবসনকে আউট করার পর তিনি বোল্ড করেন ইসি ওংকে। নন্দিনীর বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে যস্তিকা বলেন, ‘নন্দিনী অসাধারণ বল করেছে। বিশেষ করে তার স্লোয়ার ডেলিভারিগুলো ছিল তার প্রধান শক্তি। অভিষেক ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসনীয়।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও পরবর্তী লক্ষ্য
আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। হারমানপ্রীত কৌর পরবর্তী ম্যাচে ফিরছেন, যা দলের শক্তি আরও বৃদ্ধি করবে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের জন্য এই সিরিজটি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার শেষ সুযোগ। ইংল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক চার্লি ডিন দলের মিডল অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন।
ভারতের এই জয় প্রমাণ করে যে, দলের গভীরতা এখন অনেক বেশি। নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতেও যে তরুণরা দায়িত্ব নিতে জানে, তা আজ পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে। টি২০ বিশ্বকাপের আগে ভারতের এমন ফর্মে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য অবশ্যই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যস্তিকা ভাটিয়ার মতো লড়াকু খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তন দলের ভারসাম্যকে আরও মজবুত করেছে। ভারতীয় নারী ক্রিকেট এখন সত্যিই এক রোমাঞ্চকর সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
পরবর্তী ম্যাচটি ব্রিস্টলে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের বিকল্প নেই। ভারতীয় সমর্থকরা তাকিয়ে থাকবেন যস্তিকা এবং জেমিমার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের দিকে। মাঠের লড়াইয়ে যারা নিজেদের সেরাটা দিচ্ছে, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যে তাদের হাতেই নিরাপদ, তা আজ দিনের আলোয় পরিষ্কার হয়ে গেল।
