Fact Check- Did Umpire Anil Chaudhary Count Sai Sudharsan’s Dismissal Unfair? – সাই সুদর্শন কি হিট উইকেটে আউট ছিলেন? অনিল চৌধুরীর ভিডিওর সত্যতা যাচাই
আইপিএল ২০২৬: সাই সুদর্শনের বিতর্কিত আউট
গুজরাট টাইটানস (জিটি) এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-র মধ্যকার আইপিএল ২০২৬-এর কোয়ালিফায়ার ১ ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘসময় গেঁথে থাকবে। ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ২৬ মে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সাই সুদর্শনের একটি বিতর্কিত আউট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র বিতর্ক। ব্যাটসম্যান হিসেবে সুদর্শন যখন ক্রিজে সেট হয়ে গিয়েছিলেন, ঠিক তখনই তার ‘হিট উইকেট’ হওয়ার ঘটনা গুজরাট টাইটানসের ব্যাটিং ধসের সূচনা করে।
(চিত্র সৌজন্যে: এপি/এক্স)
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং আরসিবির দাপট
এই ম্যাচে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন গুজরাট টাইটানস টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আরসিবি ব্যাটারদের পরিকল্পনা ছিল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা। বিরাট কোহলি (৪৩) ভালো শুরু এনে দেওয়ার পর রজত পাতিদার তার বিধ্বংসী ইনিংস দিয়ে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৩৩ বলে ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচের সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। কুনাল পান্ডিয়া (৪৩) এবং জিতেশ শর্মার (১৫*) ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংসের সুবাদে আরসিবি আইপিএল প্লে-অফের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৪/৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে গুজরাট টাইটানস নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৬২ রানে গুটিয়ে যায়।
অনিল চৌধুরীর ভাইরাল ভিডিও ও বিতর্কের সূত্রপাত
ম্যাচের পর ইন্টারনেটে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে প্রাক্তন আন্তর্জাতিক আম্পায়ার অনিল চৌধুরীকে ‘হিট উইকেট’ সংক্রান্ত নিয়ম ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন যে, যদি কোনো ব্যাটার তার শট সম্পন্ন করার পর শরীরের কোনো অংশ বা পোশাকের কোনো উপাদান স্টাম্পে আঘাত করে, তবে সেটি আউট হিসেবে গণ্য হবে না। এই ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সমর্থকরা দাবি করতে শুরু করেন যে সাই সুদর্শনের ক্ষেত্রে আম্পায়ার ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
ফ্যাক্ট চেক: আইন কী বলে?
যাইহোক, সত্যতা যাচাই করলে দেখা যায় যে, অনিল চৌধুরীর এই ভিডিওটি আসলে সাই সুদর্শনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করা নয়। বরং এটি অনেক আগে একজন সমর্থকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় রেকর্ড করা হয়েছিল। এমসিসি (MCC)-এর আইন ৩৫.১ অনুযায়ী, হিট উইকেটের স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে:
- যখন বল খেলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বা বল খেলার সময় স্টাম্প ভেঙে যায়।
- রান নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করার মুহূর্ত পর্যন্ত।
- যদি ব্যাটার শট খেলার সময় বা রান নেওয়ার প্রথম পর্যায়ে নিজের ব্যাটের আঘাতে স্টাম্প ভেঙে ফেলেন।
আইনের এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাই সুদর্শনের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা নিয়ম মেনেই আউট হিসেবে গণ্য হয়েছে। ভিডিওটি ভুল প্রেক্ষাপটে শেয়ার করার কারণেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
গুজরাটের সামনে দ্বিতীয় সুযোগ
এই ম্যাচে ৯২ রানে পরাজিত হলেও গুজরাট টাইটানসের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার ভয় নেই। তারা এখন কোয়ালিফায়ার ২ ম্যাচে মুখোমুখি হবে এলিমিনেটর ম্যাচের জয়ী দলের। অন্যদিকে, আরসিবি সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, যা ৩১ মে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হবে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী লড়াইয়ের দিকে, যেখানে গুজরাট তাদের ভুল সংশোধন করে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
ক্রিকেটের নিয়ম সবসময়ই সূক্ষ্ম, আর এই ধরনের বিতর্ক অনেক সময় খেলার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। তবে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কোনো মন্তব্য করা সবসময়ই কাম্য। আশা করা যায়, কোয়ালিফায়ার ২ ম্যাচে গুজরাট টাইটানস আবারও তাদের সেরাটা প্রদর্শন করবে।
