Ishan Kishan Brushed Aside In SRH Dressing Room, Other Players Roll On The Floor – সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ড্রেসিংরুমের মজার ঘটনা
আইপিএল ক্রিকেট মাঠে যেমন উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়, তেমনই ড্রেসিংরুমেও তৈরি হয় অনেক মজাদার ও স্মৃতিময় ঘটনা। সম্প্রতি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ড্রেসিংরুমে ইশান কিষাণকে নিয়ে এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাসির রোল ফেলে দেয়। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে তার ঝলমলে ৭৯ রানের ইনিংস সত্ত্বেও, তিনি একটি মজার ভুল বোঝাবুঝির শিকার হন।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জয় এবং ইশান কিষাণের অবদান
২২শে মে উাপ্পাল স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের মধ্যে এক হাই-স্কোরিং ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথমে ব্যাট করে হায়দ্রাবাদ ২৫৫ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে, যা তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পরিচয় দেয়। অভিষেক শর্মা, হেনরিখ ক্লাসেন এবং ইশান কিষাণ প্রত্যেকেই দুর্দান্ত অর্ধশতরান করেন। এছাড়া ট্র্যাভিস হেড এবং নীতিশ রেড্ডিও দলের বড় স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই ম্যাচের মাধ্যমে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ আইপিএল ২০২৬ লিগ পর্ব জয় দিয়ে শেষ করার লক্ষ্যে নেমেছিল।
ড্রেসিংরুমে ইশান কিষাণের বিব্রতকর মুহূর্ত
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে যখন দলের সেরা পারফর্মারের পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়, তখন ইশান কিষাণ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে তিনিই এই পুরস্কার পাবেন। তার ৭৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস যেকোনো বিচারে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হওয়ার যোগ্য ছিল। যখন কোচিং স্টাফের একজন ‘ইশান’ নামটি উচ্চারণ করেন, কিষাণ তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ান, মনে মনে নিশ্চিত যে তাকেই ডাকা হয়েছে। কিন্তু তার জন্য অপেক্ষা করছিল এক অন্যরকম বাস্তবতা, যা ছিল বেশ বিব্রতকর।
আসলে, কোচিং স্টাফ ‘ইশান’ নয়, ‘এশান মালিঙ্গা’ নামটি উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু উভয় নামের উচ্চারণে এতটাই সাদৃশ্য ছিল যে ইশান কিষাণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। এই ভুল বোঝাবুঝির পর তার মুখে এক বিব্রতকর হাসি ফুটে ওঠে এবং তিনি দ্রুত তার আসনে ফিরে যান, যেন মুখ লুকানোর চেষ্টা করছেন। এই দৃশ্যে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ড্রেসিংরুম হাসিতে ফেটে পড়ে। খেলোয়াড়রা মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল, আর এই হালকা মেজাজের মুহূর্তটি উপভোগ করছিল। এটি কেবল একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছিল না, বরং দলের মধ্যে সৌহার্দ্য ও মজার একটি দারুণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।
কেন এশান মালিঙ্গা সেরা পারফর্মারের পুরস্কার জিতলেন?
ইশান কিষাণ ব্যাট হাতে বড় প্রভাব ফেললেও, এশান মালিঙ্গার অবদানও কম ছিল না। তিনি তার ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং দেবদূত পাডিক্কলের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নেন। এই উইকেটগুলো আরসিবিকে বড় স্কোরের লক্ষ্যে পৌঁছানো থেকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, আরসিবি এই বিশাল টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে দিশাহীন মনে হচ্ছিল এবং শেষ পর্যন্ত ২০০ রান করতে সক্ষম হয়। তবে, তাদের জন্য ১৬০ রান করা জরুরি ছিল যাতে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে থাকতে পারে। রজত পাতিদার এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া ৮৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন, যা আরসিবিকে একটি বড় ধস থেকে রক্ষা করে এবং তাদের প্রয়োজনীয় ১৬০ রানের মাইলফলক অতিক্রম করতে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত আরসিবি ২০০/৪ স্কোরে থামে। এই ম্যাচের ফলাফলে সানরাইজার্স তৃতীয় স্থানে শেষ করে, আরসিবি এবং গুজরাট টাইটান্স এখন কোয়ালিফায়ার ১ এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
ড্রেসিংরুমের প্রশংসা ছাড়িয়ে ইশান কিষাণের সত্যিকারের প্রভাব
ড্রেসিংরুমের প্রশংসা একজন খেলোয়াড়ের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু একটি মাত্র পুরস্কার একজন খেলোয়াড়ের সামগ্রিক প্রভাবকে প্রতিফলিত করে না বা তার অবদানকে ছোট করে দেখে না। ইশান কিষাণের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে ইশান কিষাণ যা করেছেন, তা কোনো একক পুরস্কার দিয়ে বিচার করা কঠিন। আইপিএল ২০২৬-এর ১৪টি ম্যাচে তিনি ৪০.৬৪ গড়ে ৫৬৯ রান করেছেন, যার মধ্যে ছয়টি অর্ধশতরান রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্যাট কামিন্স অধিনায়ক হিসেবে অনুপলব্ধ থাকাকালীন ইশান গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে জয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার এই ধরনের ছোট ছোট অবদান অনেক সময় নজরের বাইরে থেকে যায়, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ইশান কিষাণ তার সতীর্থদের চেয়ে কোনো অংশে কম। তার পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে যে তিনি দলের জন্য কতটা মূল্যবান। এই ঘটনাটি হয়তো হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে, কিন্তু ইশান কিষাণের ব্যাটিং এবং নেতৃত্বগুণ প্রশ্নাতীত।
