Cricket News

বিরাট কোহলির ভাইরাল মার্কশিট: আসল ঘটনা কী? জেনে নিন সত্য

Nikhil Rao · · 1 min read

বিরাট কোহলির ভাইরাল মার্কশিট: ইন্টারনেট কি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে?

ইন্টারনেটের জগতে কোনো বিতর্কিত বিষয় উঠে আসা মাত্রই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিরাট কোহলিকে নিয়ে গুঞ্জন হলে তো কথাই নেই। আইপিএল ২০২৬-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (এসআরএইচ) মধ্যকার ম্যাচের পর বিরাট কোহলি এবং ট্র্যাভিস হেডের মাঠের একটি অনভিপ্রেত ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তাপ ছড়িয়েছিল। এর ঠিক পরেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায় বিরাটের ছোটবেলার একটি ‘মার্কশিট’।

ভাইরাল চিত্রের পেছনের বিতর্ক

ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দাবি করা হয়েছে, এটি ২০০২ সালের ওয়েস্ট দিল্লি ক্রিকেট একাডেমির একটি ‘প্লেয়ার রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ইভালুয়েশন শিট’। সেখানে তরুণ বিরাটের পারফরম্যান্স এবং আচরণ সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করা হয়েছে। বিশেষ করে সেখানে বিরাটের নামের পাশে ‘আক্রমনাত্মক’ শব্দটি লেখা থাকায় নেটিজেনরা মুহূর্তের মধ্যে এর সাথে বর্তমানের ট্র্যাভিস হেডের ঘটনার যোগসূত্র স্থাপন করে ফেলে। আরসিবির ৫৫ রানে পরাজয়ের পর মাঠের হ্যান্ডশেকের সময় কোহলির শীতল আচরণ অনেকেরই সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সেই মুহূর্তটিকে পুঁজি করেই পুরনো এই নথির ছবিটি নতুন করে ছড়ানো হয়।

নথির সত্যতা যাচাই: কেন এটি ভুয়া?

প্রথমত, এই নথিটি যে আসল, তা নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। এমনকি ওয়েস্ট দিল্লি ক্রিকেট একাডেমি বা খোদ বিরাট কোহলির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট যে, চিত্রটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ডিজিটাল কারসাজির ফসল:

  • নথির ফরম্যাটিং এবং হস্তাক্ষর দেখে বোঝা যাচ্ছে যে এটি অসংলগ্ন এবং সম্পাদনা করা।
  • এটি কোনো নতুন আবিষ্কার নয়, বরং বিভিন্ন সময়ে ইন্টারনেটে এই ছবির পরিবর্তিত রূপ ঘোরাফেরা করেছে।
  • এর প্রচারের সময়কাল অত্যন্ত সন্দেহজনক; সরাসরি মাঠের উত্তপ্ত ঘটনার ঠিক পরপরই এটি ছড়িয়ে পড়া প্রমাণ করে যে কেউ হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বিরাটের ভাবমূর্তি নিয়ে ফায়দা লুটতে চেয়েছিল।

বিরাটের আগ্রাসী মনোভাব নতুন কিছু নয়

বিরাট কোহলি বরাবরই মাঠে আবেগপ্রবণ এবং আগ্রাসী একজন খেলোয়াড়। এই ‘ফায়ার ইন দ্য বেলি’ বা জয়ের জেদই তাকে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার উইকেট উদযাপনের ভঙ্গি কিংবা বিপক্ষ দলের প্রতি তার তেজদীপ্ত চাহনি নতুন কোনো খবর নয়। এসআরএইচ বনাম আরসিবি ম্যাচেও এমনটা দেখা গিয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্র্যাভিস হেড বিরাটের আউট হওয়ার পর তাকে কটাক্ষ করেছিলেন, যা কোহলির জেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলস্বরূপ, ম্যাচের শেষে হ্যান্ডশেকের সময় সেই রেশ বজায় ছিল। কিন্তু মাঠে আগ্রাসী হওয়া আর ছোটবেলার মার্কশিটে সেটিকে প্রমাণ করার চেষ্টা করা—দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা।

বিরাটের লক্ষ্য এখন মাঠে

সোশ্যাল মিডিয়ার নাটকীয়তা একপাশে সরিয়ে রাখলে, বিরাটের বর্তমান লক্ষ্য হলো দলের জয়। আরসিবি এখন কোয়ালিফায়ার ১-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ধরমশালায় আগামী ২৬ মে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। এই মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ৫৫৭ রান করে বিরাট কোহলি অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে আছেন।

বিরাট কোহলি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি ইন্সটাগ্রাম স্টোরি বা ইন্টারভিউ দিয়ে সমালোচকদের জবাব দিতে পছন্দ করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন যে তার ব্যাটই সব কথার উত্তর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সমালোচকরা যাই বলুক না কেন, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি। উপসংহারে বলা যায়, ভাইরাল হওয়া ওই মার্কশিটটি নিছকই একটি বিভ্রান্তিকর ছবি যা বিরাটের খেলোয়াড়ি জীবনকে প্রভাবিত করার মতো নয়। ভক্তদের উচিত কোনো নথির সত্যতা যাচাই না করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া গুজবে কান না দেওয়া।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.