বেন স্টোকসের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে চিন্তিত ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা
বেন স্টোকসের ব্যাটিং নিয়ে সতর্কবার্তা
ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়ক বেন স্টোকস দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের হয়ে মাঠে ফিরেছেন। তবে তার সাম্প্রতিক ব্যাটিং পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ এবং এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের আগে স্টোকসের ফর্ম নিয়ে বেশ কিছু কঠোর মন্তব্য করেছেন মাইকেল আথারটন এবং নাসের হুসেনের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা।
অভিজ্ঞতার অভাব নাকি টেকনিকের সমস্যা?
মাইকেল আথারটন স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট পডকাস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, স্টোকসের ব্যাটিং সমস্যার মূল কারণ তার পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতামূলক খেলার অভাব। আথারটনের মতে, স্টোকস এমন একজন ক্রিকেটার যিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচের বাইরে খুব একটা খেলতে পছন্দ করেন না। ইনজুরি এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে মাঠের বাইরে থাকার ফলে তার ছন্দ কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। আথারটন বলেন, ‘স্টোকসের ব্যাটিং সমস্যার মূল কারণ হলো খেলার সময়ের অভাব। নেটে অতিরিক্ত সময় কাটানো এবং প্রতিযোগিতামূলক খেলার অভাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।’
অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বর্জনের পরামর্শ
অন্যদিকে, নাসের হুসেন স্টোকসের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে আরও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, স্টোকস যখন বোলিং করতে পারেন না, তখন তিনি নেটে অতিরিক্ত সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি নিজের টেকনিক নিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা (tinkering) শুরু করেন, যা তার স্বাভাবিক খেলার ধরনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
হুসেন আরও যোগ করেন, ‘স্টোকস সম্প্রতি হ্যারি ব্রুকের মতো সোজা স্ট্যান্সে ব্যাটিং করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু স্টোকসের নিজস্ব একটি ছন্দ রয়েছে যা তার জন্য কার্যকর। এছাড়া ক্রিজে তার অবস্থান এবং ট্রিগার মুভমেন্ট নিয়েও তিনি বারবার পরিবর্তন আনছেন। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এত বেশি পরিবর্তন আনা তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আমার মতে, তার এখন উচিত নিজের স্বাভাবিক টেকনিকে ফিরে যাওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো বর্জন করা।’
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রেক্ষাপট
বর্তমানে ইংল্যান্ড বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে সপ্তম স্থানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত ডাব্লিউটিসি-তে মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে তারা, যার মধ্যে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। ৩১.৬৭ পয়েন্ট শতাংশ নিয়ে ফাইনালের দৌড়ে ইংল্যান্ড বেশ খানিকটা পিছিয়ে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন সিরিজগুলো ইংল্যান্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা টেস্ট সিরিজগুলোতে স্টোকসের নেতৃত্ব এবং ব্যাটিং ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডের জন্য অপরিহার্য।
প্রস্তুতির সঠিক পথ
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা যাই হোক না কেন, দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে নামার আগে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বিকল্প নেই। নেট অনুশীলন যতই হোক, ম্যাচের মাঠের লড়াই আলাদা। আথারটনের ভাষায়, ‘কেউ কেউ হয়তো চাইলেই ফর্মে ফিরে আসতে পারেন, কিন্তু একজন ক্রিকেটারের জন্য ম্যাচে সময় কাটানো এবং চাপের মুখে টিকে থাকার অভ্যাস থাকাটা খুব জরুরি।’
ইংল্যান্ড দল এবং সমর্থকরা নিশ্চিতভাবেই চাইবেন যে স্টোকস তার ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও তার পরিচিত আগ্রাসী ও ছন্দময় মেজাজে ফিরে আসুন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট এবং খোদ স্টোকস নিজেও তাদের প্রস্তুতির কৌশল পরিবর্তন করেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, স্টোকসের ব্যাটিং নিয়ে তৈরি হওয়া এই শঙ্কা দূর করতে তাকে টেকনিকের সরলীকরণ এবং মাঠের ক্রিকেটে মনোযোগী হতে হবে।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জের আগে স্টোকসের এই টেকনিক্যাল ও মানসিক প্রস্তুতিই হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের আগামীর পথচলার অন্যতম বড় নিয়ামক। ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকালীন এই ব্যস্ত সূচিতে অধিনায়ক হিসেবে তার ব্যাট থেকে রান পাওয়াটা দলের জয়ের জন্য অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
