Latest Cricket News

আইসিসি-র বড় নিয়ম পরিবর্তন: পিঙ্ক বল, কোচ রেফারি ও আরও অনেক কিছু | ক্রিকেট | ICC Rules

Nikhil Rao · · 1 min read

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ক্রিকেটের জগতে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে, যা আগামী দিনে খেলার চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে দিতে পারে। টেস্ট ক্রিকেট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি — এই তিনটি ফরম্যাটেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। ক্রিকেটপ্রেমী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এই পরিবর্তনগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

সম্প্রতি আইসিসি চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নতুন প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকে আইসিসি ক্রিকেট কমিটির প্রধান হিসেবে প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীও উপস্থিত ছিলেন, যা এই আলোচনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, ৩০ মে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি বোর্ডের সভায় এই নিয়মগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে। একবার অনুমোদন পেলে, নতুন নিয়মগুলো ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে পারে, যা ক্রিকেটের নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করবে।

টেস্ট ক্রিকেটে পিঙ্ক বলের নতুন ব্যবহার

ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনাধীন সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো টেস্ট ক্রিকেটে বলের ব্যবহার সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা। বর্তমানে, শুধুমাত্র দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচেই পিঙ্ক বল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আইসিসি এখন চিন্তা করছে, যদি স্বাভাবিক টেস্ট ম্যাচের সময় বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়ার কারণে খেলা বিঘ্নিত হয় এবং ফ্লাডলাইটের অধীনে খেলা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐতিহ্যবাহী লাল বলের পরিবর্তে পিঙ্ক বল ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে।

এই প্রস্তাবনাটি অত্যন্ত যুগান্তকারী, কারণ এটি টেস্ট ম্যাচের সময়সূচীকে আরও নমনীয় করবে এবং আবহাওয়ার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে। তবে, এই পরিবর্তনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটবে না। সিরিজ শুরু হওয়ার আগে উভয় দলকে এই নিয়মের ব্যাপারে সম্মত হতে হবে। যদি উভয় দল রাজি হয়, তবেই এই বিশেষ পরিস্থিতিতে পিঙ্ক বল ব্যবহার করা যাবে। এটি নিঃসন্দেহে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন কৌশলগত মাত্রা যোগ করবে এবং লাল বলের সাথে পিঙ্ক বলের পার্থক্য নিয়ে খেলোয়াড়দের নতুন করে ভাবতে শেখাবে।

হেড কোচদের মাঠে প্রবেশের অনুমতি

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা হলো আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোচদের মাঠে প্রবেশাধিকার। এটি দলগুলোকে কৌশলগত দিক থেকে দারুণভাবে সাহায্য করবে। বর্তমান নিয়মানুসারে, ওয়ানডে ক্রিকেটে শুধুমাত্র বিকল্প খেলোয়াড়দেরই ড্রিংকস বিরতির সময় মাঠে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং কোচরা সাধারণত বাউন্ডারি লাইনের বাইরে অবস্থান করেন।

কিন্তু আইসিসি এখন প্রস্তাব করছে যে, ওয়ানডে ম্যাচের ড্রিংকস বিরতির সময় হেড কোচদের মাঠে প্রবেশ করে সরাসরি খেলোয়াড়দের সাথে কৌশল এবং পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হোক। যদিও হেড কোচকে দলের জার্সি পরতে হবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ড্রিংকস নিয়ে মাঠে প্রবেশকারী যে কাউকে সঠিক ক্রিকেট ইউনিফর্মে সজ্জিত থাকতে হয়। এই পরিবর্তনটি শুধুমাত্র ওয়ানডে ম্যাচের জন্য প্রস্তাবিত হয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নয়। উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কৌশলগত বিরতির সময় কোচরা ইতিমধ্যেই খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, তাই ওয়ানডেতে এই পরিবর্তন আনার ফলে খেলার কৌশলগত দিক আরও উন্নত হবে। এটি মাঠের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং খেলার মোমেন্টাম ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

টি-টোয়েন্টিতে সংক্ষিপ্ত ইনিংস বিরতি

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও একটি বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ইনিংস বিরতির সময় ২০ মিনিট থেকে কমিয়ে মাত্র ১৫ মিনিট করা হবে। এর অর্থ হলো, দলগুলো বিশ্রাম নিতে, পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে এবং দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য প্রস্তুতি নিতে পাঁচ মিনিট কম সময় পাবে।

এই পরিবর্তনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের গতিকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং খেলার প্রবাহকে অক্ষুণ্ণ রাখবে। দলগুলোকে আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং চাপ সামলাতে শিখতে হবে। এটি খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির ওপরও প্রভাব ফেলবে, কারণ তাদের কম সময়ের মধ্যে নিজেদেরকে পুনরায় সাজিয়ে নিতে হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং খেলার মধ্যে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা এই নতুন নিয়মে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অবৈধ বোলিং অ্যাকশন নিয়ন্ত্রণে হকিআই প্রযুক্তির ব্যবহার

আইসিসি অবৈধ বোলিং অ্যাকশন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হতে চাইছে। আরেকটি প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অন-ফিল্ড আম্পায়াররা খুব শীঘ্রই ম্যাচের সময় সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা করার জন্য সরাসরি হকিআই প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারবেন।

বর্তমানে, কোনো বোলারের অ্যাকশন সন্দেহজনক মনে হলে সাধারণত ম্যাচের পর রিপোর্ট করা হয়। কিন্তু এই নতুন ব্যবস্থা কর্মকর্তাদের লাইভ ম্যাচের সময়ই এমন ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করবে। যদিও এই সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কে এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্টতা নেই, তবে সর্বোচ্চ স্তরে অবৈধ বোলিং অ্যাকশন আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে আইসিসি খুবই আগ্রহী। এই পদক্ষেপটি খেলার সততাকে বজায় রাখতে এবং সকল খেলোয়াড়ের জন্য একটি ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। হকিআই প্রযুক্তির ব্যবহার খেলার মধ্যে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে এবং বিতর্কিত পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হবে।

ভবিষ্যৎ ক্রিকেটের দিকে এক ধাপ

এই সমস্ত প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো ক্রিকেটের বিভিন্ন ফরম্যাটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি খেলাকে আরও গতিশীল, কৌশলগতভাবে সমৃদ্ধ এবং দর্শকদের জন্য আরও উপভোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে আইসিসি-র একটি বড় পদক্ষেপ। ৩০ মে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি বোর্ডের সভায় এই প্রস্তাবনাগুলো সবুজ সংকেত পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে, নিঃসন্দেহে তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, যা খেলোয়াড়, কোচ এবং দর্শকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে আসবে।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.