এমএস ধোনির উপস্থিতির কারণে সিএসকে-র হেড কোচ হতে নারাজ বড় কোচেরা
চেন্নাই সুপার কিংসে ধোনি-বিপত্তি: কোচেরা কেন দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন?
আইপিএলের গত তিনটি মৌসুম চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। ২০২৩ সালে পঞ্চম শিরোপা জয়ের পর থেকে দলটি প্লে-অফের গণ্ডি পার হতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ সালের আইপিএল মৌসুম শেষে সিএসকে পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে অবস্থান করায় দলের কোচিং প্যানেল ও নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের কিংবদন্তি এমএস ধোনি।
কোচদের অনাগ্রহের কারণ কী?
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক নামী কোচই চেন্নাইয়ের হেড কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। এর নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ড্রেসিংরুমে এমএস ধোনির বিশাল প্রভাব। কোচেরা আশঙ্কা করছেন যে, ধোনি যদি দলের সঙ্গে সক্রিয় থাকেন, তবে দলের দৈনন্দিন কার্যক্রম বা রণকৌশলে তাদের হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়বে। একজন কোচ হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না থাকার ভয়ই তাদের এই সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখছে।
প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, গত বছর একজন বড় নামী ভারতীয় কোচকে সিএসকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু তাকে অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়। এছাড়া আরও একজন কোচ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতক্ষণ ধোনি দলের সঙ্গে আছেন, ততক্ষণ তিনি এই পদের জন্য আবেদন করবেন না।
স্টিফেন ফ্লেমিং ও সিএসকের ভবিষ্যৎ
২০০৯ সাল থেকে স্টিফেন ফ্লেমিং চেন্নাই সুপার কিংসের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এমএস ধোনির সঙ্গে তার জুটি সিএসকেকে পাঁচটি আইপিএল শিরোপা এনে দিয়েছে। তবে গত তিন বছরের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ফ্লেমিংয়ের অবস্থানও এখন নড়বড়ে। ধোনির নেতৃত্বের অবসরের পর থেকে ফ্লেমিংয়ের কোচিংয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শোনা যাচ্ছে, ফ্লেমিংয়ের ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত করার আগে ধোনির বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ম্যানেজমেন্ট।
এমএস ধোনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
২০২৬ সালের আইপিএল ধোনির জন্য ব্যক্তিগতভাবেও কঠিন ছিল। চোটের কারণে তিনি পুরো মৌসুম খেলতেই পারেননি। ক্যালফ স্ট্রেইন এবং পরে বুড়ো আঙুলের চোটে তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। মৌসুমের শেষ দিকে চিপকে তার বিদায়ী সংবর্ধনার মতো দৃশ্য দেখা গেলেও, তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। একদিকে যেমন তার ইচ্ছে চিপকে শেষ ম্যাচ খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর, অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতির খবরও শোনা যাচ্ছে।
দলীয় পারফরম্যান্সের হালচাল
ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে চেন্নাই সুপার কিংস এবারের মৌসুমে বেশ অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে। শুরুটা খারাপ হলেও মাঝপথে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছিল দলটি, টানা তিনটি ম্যাচ জিতে প্লে-অফের দৌড়ে ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু শেষ তিনটি ম্যাচ হেরে তারা আবারও সেই পুরনো ছন্দে ফিরে যায়, যা তাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় এবং ইনজুরির সমস্যাগুলো পুরো মৌসুম জুড়ে সিএসকেকে ভুগিয়েছে।
উপসংহার
চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য এখন সময় হয়েছে পুনর্গঠনের। কিন্তু ধোনির মতো একজন ব্যক্তিত্ব দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে নতুন কোনো কোচ কি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী দল সাজাতে পারবেন? এই প্রশ্নটিই এখন ক্রিকেট মহলে বড় আলোচনার বিষয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি যদি সত্যিই নতুন করে শুরু করতে চায়, তবে তাদের ধোনি এবং কোচিং স্টাফের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আগামী আইপিএল মৌসুমের আগে সিএসকে শিবিরে বড় কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
