বিগ ব্যাশ লিগ: ড্রাফট পদ্ধতি বাতিলের পথে বিবিবিএল, আসতে পারে আইপিএল ধাঁচের নিলাম
বিগ ব্যাশ লিগে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগ বা বিবিবিএল-এর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA)। বর্তমানে চলমান ড্রাফট পদ্ধতি তুলে দিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (IPL) মতো নিলাম ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি টুর্নামেন্টের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কেন এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত?
বিবিবিএল-এ ড্রাফট পদ্ধতি পরিবর্তনের মূল কারণ হলো স্থানীয় খেলোয়াড়দের অসন্তোষ। বর্তমানে টুর্নামেন্টে বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের যে পরিমাণ পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তার তুলনায় অনেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার কম বেতন পাচ্ছেন। এই বেতন বৈষম্য নিয়ে স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। বর্তমানে শীর্ষস্থানীয় বিদেশি খেলোয়াড়রা মৌসুমপ্রতি প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করেন, যা অনেক স্থানীয় খেলোয়াড়ের আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নতুন কোনো পথ খুঁজছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সমঝোতা
প্রতিবেদনে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ACA) সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে। সেখানে ড্রাফট পদ্ধতি বাতিলের ব্যাপারে প্রাথমিক ঐক্যমতে পৌঁছেছে দুই পক্ষ। নিলাম পদ্ধতি চালু হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিজেদের বাজেট অনুযায়ী বিদেশি খেলোয়াড়দের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে পারবে। এতে স্থানীয় খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিকল্প হিসেবে একটি পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে, যেখানে কোনো ড্রাফট বা নিলাম থাকবে না। সেক্ষেত্রে দলগুলো সরাসরি বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ব্যক্তিগত চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারবে। তবে নিলাম পদ্ধতিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
বিশ্ববাজারে টিকে থাকার লড়াই
শুধুমাত্র বেতন কাঠামোই নয়, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগের সাথে পাল্লা দেওয়াও বিবিবিএল-এর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ (SA20) লিগ বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং জানুয়ারি মাসে তারা প্রচুর তারকা খেলোয়াড়দের আকর্ষণ করছে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনাও করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি দলের মালিকানা বেসরকারি খাতে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
টড গ্রিনবার্গের বক্তব্য
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টড গ্রিনবার্গ স্পষ্ট করেছেন যে, বিবিবিএল-কে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে হবে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগ বিপুল অর্থ ব্যয় করে সেরা খেলোয়াড়দের দলে টানছে। আমাদের যদি এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হয়, তবে আমাদেরও সেই ধারায় আসতে হবে। আমরা চাই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা যেন মনে করেন বিবিবিএল এমন একটি লিগ যেখানে তারা খেলতে আগ্রহী।’
ভবিষ্যতের পথচলা
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া মনে করছে, খেলার মান ধরে রাখতে এবং সেরা খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। খেলোয়াড়দের বেতন বৈষম্য দূর করে এবং সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বিবিবিএল-কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই পরিবর্তনের পথে হাঁটছে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড। এখন দেখার বিষয়, নিলাম পদ্ধতি কার্যকর হলে তা কতটা সুফল বয়ে আনে এবং বিবিবিএল বিশ্ব ক্রিকেটের বাজারে নিজেদের হারানো জৌলুস কতটা ফিরে পেতে পারে।
ক্রিকেট বিশ্বে এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের আধিপত্য বাড়ছে। এই সময়ে বিবিবিএল-এর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী লিগের এই বিবর্তন শুধুমাত্র অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক চিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন।
