আকিব নাবির বাদ পড়া নিয়ে সরব দিলীপ বেঙ্গসরকার: রঞ্জি ট্রফির কি তবে প্রয়োজন নেই?
আকিব নাবির বঞ্চনা ও নির্বাচকদের ভূমিকা: উত্তাল ক্রিকেট মহল
ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর রঞ্জি ট্রফি। আর সেই আসরেই যিনি রাজত্ব করেছেন, সেই পেসার আকিব নাবিকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। জম্মু ও কাশ্মীরের এই পেসার গত মৌসুমে ৬০টি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। কিন্তু আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে তার নাম না থাকায় অবাক হয়েছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ও প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক দিলীপ বেঙ্গসরকার।
আকিব নাবির অপ্রতিরোধ্য ফর্ম
২০২৫-২৬ মরসুমে আকিব নাবির পারফরম্যান্স ছিল স্বপ্নের মতো। ১০টি ম্যাচ খেলে তিনি ১২.৫৬ গড়ে ৬০টি উইকেট সংগ্রহ করেন। সেই সুবাদে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তার পারফরম্যান্সের তালিকায় রয়েছে সেমিফাইনালে বাংলার বিরুদ্ধে ৯ উইকেট এবং ফাইনালের প্রথম ইনিংসে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট। সব মিলিয়ে সাতবার পাঁচ উইকেট এবং দুবার চার উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। তবুও জাতীয় দলের দরজা তার জন্য খোলেনি।
দিলীপ বেঙ্গসরকারের তোপ
টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ বেঙ্গসরকার এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন বোলার যখন রঞ্জি ট্রফিতে ৬০টি উইকেট পায়, তখন তার প্রতি এমন অবিচার মেনে নেওয়া যায় না। নির্বাচকরা কি করছেন? আকিব নাবির মতো একজন পরিশ্রমী খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়াটা অবিবেচনাপ্রসূত।’
বেঙ্গসরকার আরও বলেন, ‘বোলারকে বেছে নেওয়া হয় উইকেট নেওয়ার দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে। কেউ ১৩০ কিমি গতিতে বল করতে পারে, তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু উইকেট পাওয়ার ক্ষমতাটিই আসল। আকিব নাবি সেটাই বারবার প্রমাণ করেছে। জসপ্রীত বুমরাহ এই সিরিজে বিশ্রামে ছিলেন, তাই নাবির জন্য এটি ছিল নিজেকে প্রমাণের সেরা সুযোগ।’
ঘরোয়া ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বেঙ্গসরকার এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি ঘরোয়া পারফরম্যান্সকে পাত্তা না দেওয়া হয়, তবে রঞ্জি ট্রফি বা ঘরোয়া ক্রিকেটের আর প্রয়োজন কী? বিসিসিআইয়ের উচিত তাহলে ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া।’
অন্যান্যদের প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচকদের যুক্তি
শুধু বেঙ্গসরকার নন, প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান এবং মুম্বাইয়ের প্রাক্তন অধিনায়ক শিশির হট্টাঙ্গাদিও এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। হট্টাঙ্গাদির মতে, ‘যদি রঞ্জি ট্রফিই মাপকাঠি হয়, তবে সেই পারফরম্যান্সকে সম্মান জানাতে হবে।’
অন্যদিকে, নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকার জানিয়েছেন যে আকিব নাবির নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু শেষপর্যন্ত পাঞ্জাবের গুরনুর ব্রারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচক কমিটির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, পরিসংখ্যান দিয়ে দল গঠন করা যায় না। গুরনুর ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ভালো পারফর্ম করেছেন এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
উপসংহার
আকিব নাবির এই ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটে একটি পুরনো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য কি শুধুমাত্র রঞ্জি ট্রফির পারফরম্যান্স যথেষ্ট? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও জটিল সমীকরণ? আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফর্মারদের স্বীকৃতির দাবি আরও জোরালো হচ্ছে, যা বিসিসিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
