এমএস ধোনির সঙ্গে সিএসকে-র সম্পর্ক কি শেষ? আইপিএল ২০২৬ ঘিরে বড় জল্পনা
একটি যুগের সমাপ্তি কি আসন্ন?
ভাবুন তো, এমএস ধোনি চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সি ছাড়া অন্য কোনো দলে খেলছেন! দৃশ্যটি যেমন অদ্ভুত, তেমনি অবিশ্বাস্য। অথচ আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক জল্পনাকেই উসকে দিচ্ছে যে, চেন্নাই এবং তাদের ‘থালা’র দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি ঘটতে চলেছে। আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি ধোনির জন্য ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত হতাশাজনক এক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। দলের গ্রুপ পর্বের খেলা প্রায় শেষ পর্যায়ে, অথচ ধোনিকে মাঠে দেখা যায়নি বললেই চলে। অথচ নেটে অনুশীলনের সময় তাকে বেশ ফিট মনে হলেও, দলের পক্ষ থেকে বারবারই তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই রহস্যময় অনুপস্থিতি এখন অনেক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কেন ধোনি এবং সিএসকে-র সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নিল?
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, চেন্নাই সুপার কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং এমএস ধোনির মধ্যকার দূরত্ব এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে ধোনির পরামর্শ ছাড়াই দল পরিচালনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসন এবং রবীন্দ্র জাদেজাকে কেন্দ্র করে নেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো ধোনির অগোচরেই সম্পন্ন হয়েছে, যা তাকে মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত করেছে। ম্যানেজমেন্টের এই অবজ্ঞা ধোনিকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে এবং সম্ভবত তিনি হলুদ শিবির থেকে বিদায় নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ধোনির অবস্থান
সিএসকে ম্যানেজমেন্টের লক্ষ্য এখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন একটি দল গঠন করা। এই প্রক্রিয়ায় ধোনির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়ার যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা ধোনি কোনোভাবেই ভালোভাবে নেননি। সূত্র মারফত জানা গেছে, “দল গঠনের প্রক্রিয়া থেকে ধোনিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। বিশেষ করে জাদেজা ও সঞ্জুর মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তে তার মতামত নেওয়া হয়নি, যা ধোনির প্রতি চরম অমর্যাদার শামিল।” এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সাথে তার মতাদর্শগত পার্থক্যেরও বহিঃপ্রকাশ।
ল্যাপ অফ অনারের পেছনের বিষাদ
১৮ মে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে চেন্নাইয়ের শেষ হোম ম্যাচে এমএস ধোনিকে স্টেডিয়ামের চারপাশে ‘ল্যাপ অফ অনার’ নিতে দেখা যায়। সাধারণত এই দৃশ্যটি ভক্তদের জন্য আবেগপূর্ণ হলেও, এবারের ল্যাপ অফ অনার ছিল ভিন্ন। ধোনির চেহারায় সেই পরিচিত হাসি বা প্রাণবন্ত ভাব ছিল অনুপস্থিত। ধোনির সাবেক সতীর্থ রবিচন্দ্রন অশ্বিনও বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। অশ্বিন বলেন, “ধোনি সিএসকে-কে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। কিন্তু সেদিন তার ল্যাপ অফ অনারে সেই ভালোবাসা বা আনন্দ ছিল না। আগের বারগুলোতে সে যেভাবে স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করত, এবার তা একেবারেই ভিন্ন ছিল।”
ক্রিকেট প্রেমীদের মনে প্রশ্ন
ধোনি কি সত্যিই সিএসকে ছাড়ছেন? নাকি সম্পর্কের এই অবনতি সাময়িক? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ধোনির মতো ব্যক্তিত্বকে যেভাবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তা ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য কষ্টের। যদি সত্যিই ধোনি চেন্নাইয়ের হলুদ জার্সি খুলে ফেলেন, তবে তা হবে আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি পরিবর্তনের ঘটনা। ধোনি শুধু সিএসকে-র অধিনায়ক নন, তিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রাণ। সেই প্রাণ যদি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তবে চেন্নাই সুপার কিংসের ভবিষ্যৎ পথ চলা কতটা সহজ হবে, তা সময়ই বলে দেবে। ধোনির মতো একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড় যদি সম্মানের সাথে বিদায় নিতে না পারেন, তবে তা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যই এক করুণ অধ্যায় হিসেবে গণ্য হবে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী মৌসুমে ধোনির সিদ্ধান্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
