অবসরের চিন্তা সরিয়ে মাঠ মাতাতে প্রস্তুত লি তাহুহু
অবসরের আগে নতুন সংকল্পে লি তাহুহু
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলা। ২০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলে দেশের ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রাখা নিউজিল্যান্ডের তারকা পেসার লি তাহুহু এখন তার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। আগামী ৫ জুলাইয়ের পর সুজি বেটস এবং সোফি ডিভাইনদের সাথে তিনিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন। তবে অবসরের এই ভাবনার চেয়েও তার মনে বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে আরেকটি বড় স্বপ্ন—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়।
চ্যালেঞ্জ ও নতুন লক্ষ্য
ইংল্যান্ড সফরের প্রাক্কালে তাহুহু জানালেন, অবসরের বিষয়টি তার মাথায় থাকলেও তিনি মাঠের কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান। তিনি বলেন, ‘অবসরের বিষয়টি হয়তো বাইরে অনেকেই আলোচনা করছেন, কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি খুব সহজ—আমরা এখানে একটি দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। আরেকটি বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠে নামব।’
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাড়তি কোনো চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তাহুহু বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, তারা শিরোপা ধরে রাখার চেয়ে বরং আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। বিপক্ষ দলগুলো তাদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করলেও নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ইংল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি ও দলের গভীরতা
ওয়ানডে সিরিজে আবহাওয়া এবং পারফরম্যান্সের বিচারে কিছুটা মিশ্র অভিজ্ঞতা হয়েছে কিউইদের। তবে বোলারদের পারফরম্যান্স তাহুহু’কে আশান্বিত করছে। বিশেষ করে রোজমেরি মেইর এবং নতুন মুখ ব্রি ইলিং যেভাবে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের চাপে রেখেছিলেন, তা আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
তাহুহু বলেন, ‘দলের বর্তমান অবস্থা দারুণ। ব্রি ইলিং বাঁ-হাতি পেসার হিসেবে আমাদের বোলিং আক্রমণে নতুন বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছেন। এছাড়া রোজমেরি মেইর যেভাবে চোট কাটিয়ে ফিরে এসে পারফর্ম করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাস
দলের অন্যতম দুই সেরা ব্যাটার সুজি বেটস এবং সোফি ডিভাইন অবসরে যাওয়ার পর দলে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তাহুহু জানান, কোচিং স্টাফরা অনেক আগে থেকেই এই শূন্যতা পূরণের জন্য কাজ করছেন। তরুণ ক্রিকেটাররা, যেমন ইজি গাজ, গত কয়েক সিরিজে তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলের গভীরতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সিনিয়রদের চলে যাওয়াটা বড় ক্ষতি সন্দেহ নেই, কিন্তু নতুনরা সেই জায়গা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বর্তমান পরিস্থিতি
অন্যদিক থেকে ইংল্যান্ড দল কিছুটা বিপাকে রয়েছে। অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট কাফ মাসলের চোটে পড়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটি মিস করবেন। এছাড়া ড্যানি ওয়াট-হজ ব্যক্তিগত কারণে বাইরে থাকায় কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে ইংলিশ শিবির। তবে প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতি নিয়ে না ভেবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার দিকেই নিউজিল্যান্ডের কোচিং প্যানেল ও খেলোয়াড়রা নজর রাখছে।
শেষ কথা
ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায় দাঁড়িয়ে থাকা লি তাহুহু এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং জয়ের আকাঙ্ক্ষা নিউজিল্যান্ড দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনেক দূর নিয়ে যাবে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মাঠের লড়াইয়ে তাহুহু’র এই শেষ আক্রমণ দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা।
