বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান: রিজওয়ানের ব্যাটে কি ইনজামামের পুনরাবৃত্তি সম্ভব?
সিলেট টেস্টের পঞ্চম দিনের নাটকীয়তা
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন পঞ্চম দিনের খেলার দিকে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চার দিনের লড়াই শেষে ম্যাচটি এখন চরম উত্তেজনার পর্যায়ে। উভয় দলই চায় একটি স্মরণীয় জয় দিয়ে মাঠ ছাড়তে। চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তান ৩১৬/৭ রানে দাঁড়িয়ে আছে, যা তাদের জয়ের জন্য আরও ১২১ রান প্রয়োজন। হাতে রয়েছে মাত্র তিনটি উইকেট। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জয়ের আশা এখন পুরোপুরি উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপর ন্যস্ত।
মোহাম্মদ রিজওয়ানের দৃঢ়তা ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ
চতুর্থ দিনের শেষে রিজওয়ান অপরাজিত ছিলেন ৭৫ রানে, তার সঙ্গী ছিলেন সাজিদ খান। চাপের মুখে রিজওয়ানের এই ইনিংসটিকে রোলার-কোস্টার রাইডের সাথে তুলনা করা চলে। বাংলাদেশি বোলাররা এবং ফিল্ডাররা পুরো দিনই রিজওয়ানের মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। লিটন দাসের সাথে কথা কাটাকাটি কিংবা নাহিদ রানার আগ্রাসী বোলিংয়ের জবাব রিজওয়ান যেভাবে দিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। দিন শেষে নাহিদ রানার সঙ্গে এক মুহূর্তের উত্তেজনার পর রিজওয়ানের সেই আলিঙ্গনের দৃশ্যটি ইতোমধ্যে ক্রিকেট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ বোলাররা পাকিস্তানের শেষ তিনটি উইকেট তুলে নিতে মরিয়া হয়ে আছেন।
ইনজামাম-উল-হকের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি
রিজওয়ানের এই কঠিন লড়াইয়ের পরিস্থিতি অনেকেরই ২০০৩ সালের মালতান টেস্টের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেবার বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তান চতুর্থ ইনিংসে ২৬১ রান তাড়া করতে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। ১৪৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ইনজামাম-উল-হক একাই লড়াই করেছিলেন। অবিচল ইনজামাম শেষ পর্যন্ত ১৩৮ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলে দলকে ১ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় এনে দিয়েছিলেন। আজকের সিলেট টেস্টের প্রেক্ষাপট সেই ম্যাচের সাথে দারুণভাবে মিলে যায়। পাকিস্তান ক্রিকেট সমর্থকরা এখন স্বপ্ন দেখছেন, ইনজামামের সেই বীরত্বের পুনরাবৃত্তি রিজওয়ান করবেন কি না।
একটি বিশেষ ইনিংসের অপেক্ষায় পাকিস্তান
ইনজামামের সেই ইনিংসটি ছিল পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা চতুর্থ ইনিংসের পারফরম্যান্স। আজকের দিনে রিজওয়ানের সামনেও ঠিক একই চ্যালেঞ্জ। দল যখন হারের দ্বারপ্রান্তে, তখন একজন ব্যাটারের দায়িত্বশীল ইনিংস পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশ যদি এই ম্যাচ জিতে নেয়, তবে তা হবে সিরিজ জয়ের জন্য একটি বিশাল প্রাপ্তি। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাচ্ছে সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন করতে। সিরিজের ফলাফল নির্ধারণী এই দিনে রিজওয়ান যদি ইনজামামের মতো ধৈর্য ও সাহসিকতা দেখাতে পারেন, তবেই পাকিস্তান জয়ী হতে পারবে।
উপসংহার
সিলেটের উইকেট এবং পরিস্থিতি উভয় দলের জন্যই সমান চ্যালেঞ্জিং। তবে চতুর্থ ইনিংসে ১২১ রান তাড়া করাটা যতটা কঠিন, রিজওয়ানের ফর্ম ততটাই আশার আলো দেখাচ্ছে। ক্রিকেট খেলাটি অনিশ্চয়তার খেলা, আর পঞ্চম দিনের পিচ কতটা আচরণ করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, আজকের দিনে ক্রিকেট বিশ্ব একটি ধ্রুপদী লড়াই দেখতে যাচ্ছে। রিজওয়ান কি পারবেন ইনজামাম-উল-হকের সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার বহন করতে, নাকি বাংলাদেশের বোলাররা শেষ হাসি হাসবেন? উত্তর পাওয়ার জন্য ক্রিকেট ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে শেষ বল পর্যন্ত।
