আফগানিস্তান সিরিজের দল ঘোষণা: জাদেজা ও অক্ষরের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন আগারকার
আফগানিস্তান সিরিজের দল ঘোষণা: নতুনদের সুযোগ ও অভিজ্ঞদের বিশ্রাম
আইপিএল ২০২৬ মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের জন্য ভারত তাদের ওয়ানডে এবং টেস্ট দল ঘোষণা করেছে। এই সিরিজে দলের নেতৃত্বে থাকছেন শুভমন গিল। টেস্ট ফরম্যাটে কেএল রাহুলকে দলের নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দুই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা ও অক্ষর প্যাটেলের অনুপস্থিতি নিয়ে।
অজিত আগারকারের ব্যাখ্যা
দলের অভিজ্ঞ দুই তারকার বাদ পড়া প্রসঙ্গে নির্বাচক প্রধান অজিত আগারকার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য হাতে এখনও ১৫-১৬ মাস সময় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আমরা দলের জন্য নতুন বিকল্পগুলো যাচাই করে দেখতে চাই। জাদেজা ও অক্ষর এই ফরম্যাটে কী করতে পারেন তা সবারই জানা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ভিন্ন কন্ডিশন বিবেচনায় আমরা নতুন সংমিশ্রণ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তরুণদের জয়জয়কার
এই সিরিজে দলে ডাক পেয়েছেন একাধিক নতুন মুখ। স্পিনার হর্ষ দুবে এবং মানব সুথার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। এছাড়া আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রিন্স যাদব ওয়ানডে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। পেস বোলিং বিভাগে পাঞ্জাবের গুরনূর ব্রারকেও প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুরনূরের গতি এবং উইকেট নেওয়ার দক্ষতা নির্বাচকদের বেশ নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, রঞ্জি ট্রফিতে ৬০ উইকেট নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে শিরোপা জেতানো আকিদ নবী দার দল থেকে বাদ পড়ায় তৈরি হয়েছে কিছুটা বিস্ময়।
জসপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ শামির পরিস্থিতি
ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে জসপ্রীত বুমরাহকে এই পুরো সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। আগারকার নিশ্চিত করেছেন যে, ইংল্যান্ড সিরিজের আগেই বুমরাহ দলে ফিরবেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে বুমরাহর ফর্ম ছিল কিছুটা হতাশাজনক। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামির আন্তর্জাতিক নির্বাসন অব্যাহত রয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার সর্বশেষ ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছিলেন, আর সাদা পোশাকে তার শেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৩ সালে।
ভারত বনাম আফগানিস্তান: চূড়ান্ত স্কোয়াড
ওয়ানডে দল: শুভমন গিল (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আইয়ার (সহ-অধিনায়ক), কেএল রাহুল (উইকেটরক্ষক), ইশান কিষাণ, হার্দিক পান্ডিয়া, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব, অর্শদীপ সিং, প্রসিধ কৃষ্ণ, প্রিন্স যাদব, গুরনূর ব্রার, হর্ষ দুবে।
টেস্ট দল: শুভমন গিল (অধিনায়ক), যশস্বী জয়সওয়াল, কেএল রাহুল (সহ-অধিনায়ক), সাই সুদর্শন, ঋষভ পন্ত (উইকেটরক্ষক), দেবদূত পাডিক্কাল, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিধ কৃষ্ণ, মানব সুথার, গুরনূর ব্রার, হর্ষ দুবে, ধ্রুব জুরেল।
সামনের পথচলা
দলের বোলিং লাইনআপে মোহাম্মদ সিরাজ ও প্রসিধ কৃষ্ণ নেতৃত্ব দেবেন, যেখানে গুরনূর ব্রারকে তৃতীয় পেসার হিসেবে দেখা যেতে পারে। জাদেজার অনুপস্থিতিতে মানব সুথার বা হর্ষ দুবের মধ্যে যেকোনো একজনকে টেস্ট অভিষেকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নতুনদের এই সুযোগ ভারতের ভবিষ্যতের গভীরতা বৃদ্ধিতে কতটা কাজে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
