বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান: মোহাম্মদ রিজওয়ানের ‘ওভারঅ্যাক্টিং’ নিয়ে উত্তপ্ত মাঠ, ভাইরাল স্লেজিং
মাঠের লড়াইয়ে উত্তাপ: রিজওয়ানকে নিয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের স্লেজিং
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষ সেশনটি মাঠের খেলার চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ক্রিকেটারদের মধ্যকার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও স্লেজিংয়ের কারণে। সিরিজের শুরু থেকেই পাকিস্তান দলের অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বিদ্রুপের সুর শোনা যাচ্ছিল, যা চতুর্থ দিনে চূড়ান্ত রূপ পায়।
লিটন দাস ও রিজওয়ানের কথোপকথন
ম্যাচের এক পর্যায়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাস এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের মধ্যে মাঠের মাঝখানেই উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়। লিটনকে বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল এবং তিনি রিজওয়ানকে প্রশ্ন করেন, “ইয়ে ক্যায়া কর রাহে হো আপ?” (আপনি এসব কী করছেন?)। এর জবাবে রিজওয়ান ফিল্ডিং পজিশন নিয়ে কিছু ইঙ্গিত করেন।
লিটন পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “উধার ক্যায়া দেখ রাহে হো? ইধর দেখো।” (ওদিকে কী দেখছেন? এদিকে দেখুন)। তর্কের মাত্রা তখন ক্রমশ বাড়ছে। রিজওয়ান এরপর উত্তর দেন, “ইয়ে তেরা কাম হ্যায়, মেরা কাম হ্যায়, ইয়া আম্পায়ার কা?” (এটা কি তোমার কাজ, আমার কাজ, নাকি আম্পায়ারের কাজ?)।
পরিস্থিতি শেষ হয় লিটনের একটি ধারালো মন্তব্যে। রিজওয়ান যখন তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন, তখন লিটন তাকে বিদ্রুপ করে বলেন, “৫০ হো গয়ি, অব অ্যাক্টিং শুরু হো যায়েগি।” (৫০ হয়ে গেছে, এবার অভিনয় শুরু হবে)।
শান্তের ‘৫০ টাকা কাটার’ রসিকতা
লিটনের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও রিজওয়ানকে ছাড় দেননি। তিনি বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের বিখ্যাত সংলাপের ঢঙে মজা করে বলেন, “ওভারঅ্যাক্টিং কে হাম ৫০ রুপিস কাটেঙ্গে।” (ওভারঅ্যাক্টিংয়ের জন্য আমরা ৫০ টাকা কেটে নেব)। মাঠের এই রসিকতা এবং স্লেজিং ক্রিকেট সমর্থকদের মাঝে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কেন রিজওয়ানকে নিয়ে এই বিদ্রুপ?
প্রথম টেস্ট থেকেই দেখা গেছে যে রিজওয়ানের ব্যাটিংয়ের সময় শরীরী ভাষা এবং বিভিন্ন সময়ে নেয়া বিরতি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা মনে করছেন, রিজওয়ান মাঠে অতিরিক্ত নাটকীয়তা করছেন, যা খেলার প্রবাহ নষ্ট করছে। চতুর্থ দিনে সেই বিরক্তিই প্রকাশ্যে চলে আসে স্লেজিংয়ের মাধ্যমে।
ক্রিকেটের মাঠে স্লেজিং নতুন কিছু নয়, তবে খেলোয়াড়দের এমন সরাসরি ও হাস্যরসাত্মক আক্রমণ সাধারণত দেখা যায় না। রিজওয়ান তার ব্যাটিংয়ে মনোযোগী থাকলেও, বাংলাদেশি বোলার ও ফিল্ডারদের এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ম্যাচটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
উপসংহার
টেস্ট ক্রিকেট মূলত ধৈর্য ও দক্ষতার খেলা। তবে মাঠের এমন ছোটখাটো ঘটনাগুলো খেলার উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই উত্তেজনাপূর্ণ সিরিজের প্রতিটি মুহূর্তই ভক্তদের নজর কেড়েছে। রিজওয়ানকে নিয়ে করা এই মন্তব্যগুলো খেলার মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী সেশনগুলোতে পরিষ্কার হয়ে উঠবে। আপাতত, নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই কথোপকথনগুলো ক্রিকেটের অন্দরমহলে দারুণ বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে।
বিস্তারিত ঘটনার আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
